ছোটবেলায় পেলে ফুটবল মাঠে যখন তখন হাত দিয়ে কান ধরে ফেলতেন। তাই সমবয়সী বন্ধুরা তাকে ‘পে – লে‘ বলে খেপাত। তারা পেলেকে এক মহামূর্খ খেলোয়াড় বলেই ভাবতেন। পেলে এক সাংবাদিক সম্মেলনে বলেছিলেন, সাত বছর বয়সে উনি ‘পেলে‘ নামের সঙ্গে পরিচিত। ঐ তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে দেওয়া বিদ্রুপের নামটাই তার সাথে রয়ে গেল। তার যে একটা অন্য নাম আছে সেটা সবাই ভুলে গেল। এই পেলে নামেই উনি খ্যাতি, প্রতিষ্ঠা, যশ, অর্থ সবকিছু পেয়েছেন। পেলের সাফল্যের অন্তরালের পেছনে রয়েছে তার ধীর, স্থির, শান্ত, সংযত, সুশৃঙ্খল জীবন যাপন।
১৯৩০ সালে ব্রাজিল বিশ্বকাপ দলের অন্যতম ফুটবলার ভালদেমার ডি ব্রিটো তেরো বছরের পেলের ক্রীড়া কুশলতা দেখে অবাক হয়ে গেলেন। এই কিশোর নিজে নিজে এত ভালো খেলা শিখল কী করে? তিনি বছর খানেকের বেশি সময় পেলেকে তালিম দিলেন। তারপর পনেরো বছরের রোগা চেহারার পেলেকে সান্টোস ক্লাবের হয়ে খেলতে বলেন।
১৯৫৭ সালের ৭ জুলাই সতেরো বছর বয়সে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচে খেলতে নেমেছিলেন পেলে। তখন মাত্র ১৬ বছর ৯ মাস বয়সে গোল করে পেলে অর্জন করেন আন্তর্জাতিক অঙ্গনের সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতার রেকর্ড। ১৯৫৮ থেকে পরপর চারবার ১৯৬২, ১৯৬৬, ১৯৭০ সালে বিশ্বকাপ খেলেছিলেন। প্রথম শ্রেণির ফুটবলে ১৩৬৩টি ম্যাচে ১২৮১টি গোল করার অসাধারণ রেকর্ড করেছিলেন পেলে। বিশ্বকাপে তিনি ১৬ ম্যাচে করেছিলেন ১২টি গোল। ১৯৫৯ সালে ১০৩ ম্যাচে ১২৬টি গোল করেছিলেন। তিনি কনিষ্ঠতম খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপ জিতেছিলেন। ১৯৫৮, ১৯৬২ ও ১৯৭০ সালে পরপর তিনবার বিশ্বকাপ জয়ের গৌরব অর্জন করেন পেলে। ১৯৫৬ থেকে ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ১৮ বছরে জিতেছেন ব্রাজিলিয়ান লীগ, কাপ আর আন্তর্জাতিক ক্লাব টুর্নামেন্টের ২৭টি ট্রফি। ১৯৭১ সালের জুলাই মাসে দেশের হয়ে শেষ বারের মতো ম্যাচে নেমেছিলেন তিনি। পেলে যখন চলে যাচ্ছিলেন তখন সমবেত দর্শকরা উঠে দাঁড়িয়ে তাকে শেষ বারের মতো সংবর্ধনা জানিয়েছিল।
বিশ্বখ্যাত কিংবদন্তি ফুটবলের রাজা পেলে ফুটবলের জাদু দিয়ে যুদ্ধ থামিয়ে ছিলেন। ১৯৬৭ সালে নাইজেরিয়ার গৃহযুদ্ধ থামাতে পেলে অনন্য ভূমিকা রাখেন। তখন সান্তোস গিয়েছিল নাইজেরিয়া। পেলের ফুটবল খেলা দেখতে যুদ্ধ বিরতি ঘোষণা করেছিল নাইজেরিয়া ও বায়াফ্রা। কারণ মানুষ এক নজরে পেলেকে দেখতে চায়, তার খেলা দেখে মন্ত্রমুগ্ধ হতে চায়। এমনই ফুটবলের জাদুকর ছিলেন কালো মানিক পেলে।








