কক্সবাজার থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ইয়াবা পাচারে মাদক কারবারিরা প্রতিনিয়ত নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন করছে। কখনও যাত্রীবাহী বাস, কখনও মাছ বা সবজিবাহী ট্রাক, আবার কখনও পণ্যবাহী যানবাহন ব্যবহার করে মাদক পরিবহনের অভিযোগ রয়েছে। এবার চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালী থানা এলাকায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে একটি পিকআপ থেকে ১২ হাজার ৪০০ পিস ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনা সেই চিত্রকেই নতুন করে সামনে এসেছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে ইয়াবার চালানটি জব্দ করা হয়। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি নীল রঙের পিকআপ জব্দ এবং এর চালক ও হেলপারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
থানা সূত্রে জানা যায়, পাথরঘাটা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই (নিরস্ত্র) কাজী মনিরুল করিমের নেতৃত্বে একটি দল থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান ও চেকপোস্ট পরিচালনা করছিল। অভিযানের একপর্যায়ে তথ্য আসে, কক্সবাজার থেকে একটি পিকআপে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে।
এই তথ্যের ভিত্তিতে কোতোয়ালী থানার ৪ নম্বর ঘাট এলাকার সাফা কোলাস্টলের পেছনে মেরিনাস সড়কে চেকপোস্ট বসানো হয়। পরে কক্সবাজার দিক থেকে আসা ঢাকা মেট্রো-ন-১৯-৫৭৪৪ নম্বরের একটি পিকআপকে থামার সংকেত দেওয়া হলে চালক ও হেলপার পালানোর চেষ্টা করেন বলে পুলিশের দাবি। পরে তাঁদের আটক করে গাড়িটি তল্লাশি করা হয়।
তল্লাশিতে পিকআপ থেকে ১২ হাজার ৪০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ। একই সঙ্গে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত পিকআপটি জব্দ করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. আরিফ (৩৫) ও শামীম রেজা (৩২)। তাঁদের বাড়ি রাজশাহী জেলায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আবু জায়েদ মো: নাজমুন নুর বলেন, শুধু বাহককে গ্রেপ্তার করলেই মাদক পাচার পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়। প্রতিটি চালানের পেছনে থাকে সংগঠিত একটি চক্র। উদ্ধার হওয়া ইয়াবার প্রকৃত মালিক কারা এবং এর সঙ্গে আর কারা জড়িত- এসব বিষয় তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে।
ওসি জানান, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার দুজনের বিরুদ্ধে কোতোয়ালী থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে সোপর্দ করার পাশাপাশি ইয়াবা পাচারচক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।












