নিজের দুই শিশু সন্তানের পেটের ভেতরে ১৩৩ প্যাকেটে সাড়ে ৬ হাজার ইয়াবা ঢুকিয়ে পাচার করার সময় এক নারীকে আটক করেছে র্যাব। একই কৌশলে এর আগেও শিশু দুটির পেটে করে আরও দুইবার উখিয়া থেকে চট্টগ্রামে ইয়াবার চালান পৌঁছে দিয়েছেন বলে র্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য দিয়েছেন শারমিন আকতার প্রকাশ ইসমত আরা (৪০)।
গতকাল সোমবার বিকেলে র্যাব–৭ এর নগরের চান্দগাঁও ক্যাম্প মিডিয়া সেন্টারে প্রেস ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানান র্যাব–৭ এর সিপিসি–৩ এর কোম্পানি কমান্ডার লেঃ কমান্ডার মো.তাওহিদুল ইসলাম।
প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, কক্সবাজার জেলার চকরিয়া থানার পূর্ব ডোমখালী এলাকার মো.আহমদ হোসেনের মেয়ে শারমিন আকতার প্রকাশ ইসমত আরা (৪০) ৯ ও ১২ বছর বয়সী দুই শিশুসহ ইয়াবার চালান নিয়ে সিএনজি করে কক্সবাজারের উখিয়া থেকে চট্টগ্রামের দিকে আসার খবর পাই আমরা। এ সংবাদের ভিত্তিতে গত ৫ সেপ্টেম্বর শনিবার রাতে আনোয়ারার তৈলারদ্বীপ সেতু সংলগ্ন গরুর বাজার এলাকায় অস্থায়ী চেকপোস্ট বসায় র্যাব।
এ সময় সন্দেহভাজন একটি সিএনজি টেক্সিতে তল্লাশি চালিয়ে যাত্রীর আসনে থাকা শারমিন আকতারকে আটক করা হয়। একই সঙ্গে তার ৯ ও ১২ বছর বয়সী দুই শিশুকে হেফাজতে নেওয়া হয়। মো.তাওহিদুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শারমিন স্বীকার করেন, তার শিশু দুটির পেটের ভেতর ইয়াবা রয়েছে। পরে ৬ সেপ্টেম্বর রাত পৌনে একটার দিকে শিশু দুটিকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে এঙ–রে পরীক্ষায় তাদের পেটের ভেতর ইয়াবা সদৃশ বস্তু শনাক্ত হয়।
এরপর চিকিৎসার একপর্যায়ে ৬ থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মলত্যাগের মাধ্যমে ৯ বছর বয়সী শিশুটির পেট থেকে ৬৭টি প্যাকেট এবং ১২ বছর বয়সী শিশুটির পেট থেকে ৬৬টি প্যাকেট ইয়াবা বের করা হয়। এসব প্যাকেটে মোট ৬ হাজার ৬১৫ পিস ইয়াবা ছিল।
তিনি বলেন, আমাদের জিজ্ঞাসাবাদে শারমিন জানিয়েছেন, তিনি উখিয়া থেকে ইয়াবা কিনে শিশু দুটিকে কৌশলে খাইয়ে চট্টগ্রাম নিয়ে আসছিলেন। এর আগেও একই কৌশলে শিশু দুটির পেটে করে আরও দুইবার চট্টগ্রামে ইয়াবার চালান নিয়ে এসেছেন।











