বন্দরের ইয়ার্ড থেকে তিন কোটি টাকার কাপড়ের রোলভর্তি কন্টেনার উধাও

তদন্তে কমিটি গঠন

আজাদী প্রতিবেদন | মঙ্গলবার , ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ at ৫:৫৫ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম বন্দরের ইয়ার্ড থেকে প্রায় তিন কোটি টাকা মূল্যের কাপড়ের রোলভর্তি একটি কন্টেনার উধাও হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কাস্টমস ও বন্দরের যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং রাজস্ব পরিশোধের পর ডেলিভারি নিতে গিয়ে কন্টেনারটির আর কোনো হদিস মিলছে না। এতে বিপাকে পড়েছে রপ্তানিমুখী পোশাক শিল্পপ্রতিষ্ঠান গোল্ড স্টার গার্মেন্টস লিমিটেড। বিষয়টি তদন্তে ইতোমধ্যে কমিটি গঠন করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ১৫ আগস্ট চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেনার টার্মিনালের (এনসিটি) ২ নম্বর বার্থে ‘এমভি এমসিসি ডানাং’ জাহাজ থেকে একটি ৪০ ফুট এফসিএল কন্টেনার খালাস করা হয়। এমআরএসইউ৮৬৯২৮২৭ নম্বরের ওই কন্টেনারে ছিল সাভারের কালিয়াকৈরে অবস্থিত গোল্ড স্টার গার্মেন্টস লিমিটেডের ৬৬৮ বেল ফেব্রিক্স বা কাপড়ের রোল। কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, পণ্য খালাসের প্রক্রিয়ায় আমদানিকারকের পক্ষে সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান এস আর এস সিন্ডিকেট গত ২২ আগস্ট কাস্টমসের অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সার্ভারে বিল অব এন্ট্রি দাখিল করে। এরপর কাস্টমস ও বন্দরের নির্ধারিত সব ধরনের রাজস্ব ও চার্জ পরিশোধ করা হয়। পণ্য বুঝে নিতে গত ৩০ আগস্ট বন্দরের কন্টেনার টার্মিনালে গেলে ঘটে বিপত্তি। সংশ্লিষ্টরা কন্টেনারটি খুঁজে না পাওয়ায় সেটি ডেলিভারি দেওয়া সম্ভব হয়নি। এরপর কয়েক দিন ধরে ইয়ার্ডসহ সংশ্লিষ্ট এলাকায় খোঁজ করেও কন্টেনারটির কোনো সন্ধান মেলেনি।

এ ঘটনায় গত ২ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন এস আর এস সিন্ডিকেটের স্বত্বাধিকারী মো. হাফিজুর রহমান। অভিযোগে তিনি জানান, ৩০ আগস্ট কন্টেনার ডেলিভারির জন্য বন্দরে গেলে কর্তৃপক্ষ গোল্ড স্টার গার্মেন্টসের কাপড়ের রোলভর্তি কন্টেনারটি ‘কিপডাউন’ করতে পারেনি। পরে খোঁজ করেও এর অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

মো. হাফিজুর রহমান বলেন, কাস্টমস ও বন্দরের যাবতীয় চার্জ পরিশোধের পর নিয়ম মেনেই কন্টেনারটি ডেলিভারি নিতে গিয়েছিলেন তারা। কিন্তু বন্দরে গিয়ে সেটি পাওয়া যায়নি। তার দাবি, কন্টেনারটিতে থাকা কাপড়ের মূল্য প্রায় তিন কোটি টাকা এবং পুরোটাই রপ্তানিমুখী পোশাক তৈরির কাঁচামাল। তিনি বলেন, এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে কন্টেনারটির কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। এতে গোল্ড স্টার গার্মেন্টস নির্ধারিত সময়ে রপ্তানি পণ্য প্রস্তুত করে বিদেশি ক্রেতার কাছে পাঠাতে না পারছে না। এতে কোম্পানিটি বেশ ঝুঁকিতে পড়েছে।

সিএন্ডএফ প্রতিষ্ঠানের লিখিত অভিযোগের পর বন্দর কর্তৃপক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, তবে এখন পর্যন্ত কন্টেনারটির কোনো হদিস পাওয়া যায়নি।

বন্দর সূত্র জানিয়েছে, অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। কন্টেনারটি কীভাবে ইয়ার্ড থেকে নিখোঁজ হলো, সেটি ভুলবশত অন্যত্র সরানো হয়েছে কিনা কিংবা ডেলিভারি প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম ঘটেছে কিনাএসব বিষয় তদন্তে দেখা হচ্ছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধদুই শিশু সন্তানের পেটে ইয়াবা রেখে পাচার করছিলেন মা
পরবর্তী নিবন্ধরেয়াজুদ্দিন বাজার গোলাম রসুল মার্কেটে আগুন