ঘি তৈরির মূল উপকরণ হচ্ছে দুধের সর বা মাখন। কিন্তু এর কোনোটি ছাড়াই তৈরি হচ্ছে ঘি। ভাবছেন কীভাবে? পাম অয়েল, কৃত্রিম ফ্লেভার এবং গাছের রংসহ বিভিন্ন কেমিক্যাল দিয়ে তৈরি হয় এই ঘি; যা ‘শতভাগ ভেজাল’। পাকায়ান, পাকোয়ান ঘি স্পেশাল ও বাঘাবাড়ি নাম দিয়ে ভেজাল এই ঘি কয়েক বছর ধরে মোড়কজাত করে বাজারজাত করে আসছিল এম আর কনজ্যুমার প্রোডাক্ট। নগরের বহদ্দারহাট কাঁচাবাজারের পাশে রয়েছে পাকায়ান ঘিয়ের কারখানা। গতকাল রোববার দুপুরে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের একটি টিম অভিযান চালায় কারখানাটিতে। এতে উন্মোচিত হয় নোংরা পরিবেশে এম আর কনজ্যুমার প্রোডাক্টের ভেজাল ঘি তৈরির বিষয়টি। এ সময় ভেজাল ঘি তৈরি করায় প্রতিষ্ঠানটিকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। এছাড়া ঘি তৈরির উপকরণ জব্দ করে ধ্বংস করা হয়।
জানা গেছে, গোপন সংবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত সোমবার ওই ঘি কারখানায় অভিযান চালায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। সেদিন কাউকে পাওয়া না যাওয়ায় কারখানাটি সাময়িক বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে ভবন মালিকের মাধ্যমে এম আর কনজ্যুমার প্রোডাক্টের মালিক মো. জাহাঙ্গীরের সাথে যোগাযোগ করে অধিদপ্তরের টিম। সর্বশেষ গতকাল জাহাঙ্গীরকে সাথে নিয়ে অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে কারখানাটি থেকে বিপুল পরিমাণ স্টিকার পাওয়া যায়। সেখানে লেখা ছিল, ‘বাটার পাকায়ান। বাবুর্চি ভাইদের জন্য ১০ টাকা শুভেচ্ছা উপহার’। জানা গেছে, বিয়েসহ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান এবং হোটেল–রেস্টুরেন্টে পাকোয়ান ঘি ব্যবহারের জন্য আয়োজক ও হোটেল–রেস্টুরেন্ট মালিকদের উৎসাহ দেয় বাবুর্চিদের একটি অংশ। পরে ঘিয়ের সাথে থাকা স্টিকারটি জমা দিয়ে বাবুর্চিরা নগদ টাকা পান।
অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের উপ–পরিচালক মো. ফয়েজ উল্ল্যাহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, এখানে সম্পূর্ণ ভেজাল, মানে শতভাগ ভেজাল ঘি উৎপাদন করা হচ্ছে। পাম অয়েলের সাথে রং ও কৃত্রিম ফ্লেভার দিয়ে ঘি প্রস্তুত করছে তারা। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এখানে কিছুদিন আগে আমরা এসেছিলাম। তখন মালিকসহ কাউকে খুঁজে পাইনি। তখন এটি সাময়িক বন্ধ করে দিই। পরে স্থাপনার মালিকের সাথে সমন্বয় করে মালিককে হাজির করি। আজ (গতকাল) মালিকসহ প্রবেশ করে দেখি সম্পূর্ণ ভেজাল উপায়ে ঘি তৈরি করছে। আমরা উনাকে সতর্কতামূলক ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করি। এখানে ঘি তৈরির যত উপকরণ আছে সব ধ্বংস করে দিচ্ছি।
এম আর কনজ্যুমার প্রোডাক্টের স্বত্বাধিকারী মো. জাহাঙ্গীর সাংবাদিকদের বলেন, ভেজাল সেটা অস্বীকার করব না। আমার অন্যায় হয়েছে, আমি ক্ষমা প্রার্থী। এটাকে আমরা বাটার অয়েলও বলি, ঘিও বলি।
আরো তিন প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা : একই অভিযানে মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করা এবং ক্রয়–বিক্রয় ভাউচার যথাযথভাবে সংরক্ষণ না করায় বহদ্দারহাটে আরিফের ফল বিতানকে ১ হাজার টাকা ও পারভিন ট্রেডার্স নামে একটি ডিমের দোকানের মালিককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই অপরাধে আরকান রোডের এলপিজি সিলিন্ডার গ্যাস বিক্রয়কারী হোসেন এন্টারপ্রাইজকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।












