আমরা সবাই পরিবর্তন চাই। বদলে যাক সমাজ, দূর হোক দুর্নীতি, প্রতিষ্ঠিত হোক ন্যায়বিচার, মানুষ হোক আরও মানবিক এমন প্রত্যাশা সবার। কিন্তু সেই পরিবর্তনের সূচনা নিজের ভেতর থেকেই হতে হয়। পৃথিবী, সমাজ, দেশ কিংবা রাষ্ট্র কখনো একদিনে বদলে যায় না; বদলে যায় একজন মানুষ থেকে, তারপর একটি পরিবার, একটি সমাজ এবং ধীরে ধীরে একটি জাতি। নিজেকে পরিবর্তন করাই সবচেয়ে কঠিন কাজ। কারণ এর জন্য প্রয়োজন আত্মসমালোচনার সাহস, ভুল স্বীকার করার মানসিকতা এবং প্রতিনিয়ত নিজেকে শুদ্ধ করার আন্তরিক প্রচেষ্টা। যে মানুষ নিজের লোভ, অহংকার, অসততা ও অন্যায়কে পরাজিত করতে পারে, প্রকৃত পরিবর্তনের অগ্রদূত সে–ই। সমাজের প্রতিটি সংকটের সমাধান কেবল আইন বা শাস্তির মাধ্যমে সম্ভব নয়; প্রয়োজন নৈতিক মানুষ গড়ে তোলা। একজন সৎ মানুষ একটি পরিবারকে আলোকিত করেন, একটি সৎ পরিবার একটি সুন্দর সমাজ গড়ে তোলে, আর এমন অসংখ্য সমাজের সমন্বয়েই গড়ে ওঠে একটি সমৃদ্ধ দেশ ও শক্তিশালী রাষ্ট্র। তাই স্থায়ী পরিবর্তনের ভিত্তি হলো ব্যক্তির আত্মপরিবর্তন। পরিবর্তন কোনো মুহূর্তের ঘটনা নয়; এটি একটি দীর্ঘ সাধনা। প্রতিদিনের ছোট ছোট ভালো কাজ, সত্যবাদিতা, দায়িত্বশীলতা, শৃঙ্খলা, মানবিকতা এবং নৈতিকতার চর্চাই বড় পরিবর্তনের পথ তৈরি করে। নিজের জীবনকে আদর্শের আলোয় গড়ে তুলতে পারলেই সেই আলো চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে।
অন্যকে বদলানোর চেয়ে নিজেকে বদলানোর প্রচেষ্টা অনেক বেশি ফলপ্রসূ। নিজের চরিত্র, চিন্তা ও কর্মকে শুদ্ধ করার মধ্য দিয়েই সমাজ, দেশ এবং রাষ্ট্রের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের ভিত্তি নির্মিত হয়। তাই পরিবর্তনের আহ্বান নয়, পরিবর্তনের চর্চা শুরু হোক নিজের জীবন থেকেই। কারণ নিজের পরিবর্তনই একটি সুন্দর সমাজ, সমৃদ্ধ রাষ্ট্র এবং মানবিক পৃথিবী গড়ার প্রথম শর্ত।












