জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) প্রধান কার্যালয় থেকে গ্রেপ্তার হওয়া ২৭ জনকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। আজ সোমবার তাদের জামিন শুনানির দিন রাখা হয়েছে। পল্টন মডেল থানার এসআই নাজমুল ইসলাম গতকাল রোববার ২৭ জনকে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করেন।
আসামিদের আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত ও তাছলিমা জাহান পপি জামিন চেয়ে আবেদন করেন। ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়ে আজ জামিন শুনানির দিন রাখেন বলে প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই মাসুম মিয়া বলেছেন। মানবতাবিরোধী অপরাধের এক মামলায় কারাদণ্ড পাওয়া হাসানুল হক ইনুর নেতৃত্বধীন জাসদের কার্যালয়ে শনিবার দুপুরের পর অভিযান চালিয়ে সেখানে থাকা লোকজনকে আটক করে পল্টন থানা পুলিশ। এর আগে পুলিশ বলেছিল, জাসদ প্রধান কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে আটক ২৭৮ জনের মধ্যে ২৪৯ জনকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। বাকি ২৯ জনের পরিচয় যাচাই–বাছাই চলছে। আগের দিন জাসদের প্রধান কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৩০০ জনকে হেফাজতে নেওয়ার কথা জানিয়েছিল পুলিশ। খবর বিডিনিউজের।
গতকাল দুপুরে এ তথ্য দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল বিভাগের সহকারী কমিশনার (এসি) সাকিবুল আলম ভূঁইয়া। তিনি বলেন, আমরা জাসদের নেতাদের কাছ থেকে কাগজপত্র ( নতাকর্মীদের তালিকা) নিয়েছি। সেসব দেখে যাচাই–বাছাই করে পরিচয় শনাক্ত হওয়ায় ২৪৯ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। পুলিশের হেফাজতে আরও ২৯ জন আছেন। তাদেরও পরিচয় যাচাই–বাছাই চলছে। পরিচয় শনাক্ত হলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আটকদের মধ্যে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) একাংশের সাবেক সভাপতি সাংবাদিক নেতা আবু জাফর সূর্য ছিলে। প্রায় ১৫ ঘণ্টা পর গতকাল ভোর ৫টার দিকে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এদিকে জাসদ কার্যালয়ে কাউকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে অভিযান চালানো হয়নি বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কিছু সদস্য একত্রিত হয়ে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা করছিল, এমন তথ্যের ভিত্তিতেই সেখানে অভিযান চালানো হয়েছিল। যদের অধিকাংশকেই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। গতকাল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
কারাগারে যাওয়া আসামিরা হলেন দিদারুল আলম তুহিন, ইমান আহমেদ ইমন, মোল্লা মো. শাহজাহান সিরাজ, জয় সরকার, মিরাজ আহমেদ, মিরাজ মালিথা, রবিউল ইসলাম, মিলন কুমার মহন্ত, কাউসার হোসেন, শ্রী অঞ্জন শীল, জালাল উদ্দিন মন্ডল, আব্দুল লতিফ, শামীম আহমেদ, আহম্মেদ আহসান হাবিব, সুজন আলী, তসিকুল ইসলাম, সাইফুল্লাহ সায়েক, নয়ন আলী, সাজিদুল ইসলাম তুহিন, তাজুল ইসলাম, নিষ্কর সম্রাট হোসেন তালুকদার, আনোয়ার হোসেন, আলমগীর হোসেন, আল আমিন হাওলাদার, তুষার আলী, রাসিদুল হক ও মীর মুক্তিসুর রহমান।













