ঘুরে ফিরে ইদানীং লেখার বিষয় হয়ে উঠছে মানুষ এবং তার মনুষ্যত্ব বোধের। জানা এবং অজানা হাজার কারণের মাঝে মানুষ ফেঁসে গেছে মনুষ্যত্ব বোধের প্রশ্নে। দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে মানুষের এতো নৈতিক অবক্ষয় এবং মনুষ্যত্বহীনতা আমাদের মতো যারা একটু মনুষ্যত্ব বোধে সচেতন তারা সেসব মনুষ্যত্বহীন মানুষের কর্মকাণ্ডে বিভ্রান্ত, লজ্জিত। সচেতন মানুষগুলো মৃতের মতন হয়ে বেঁচে আছে। মনুষ্যত্বহীন মানুষের বিরুদ্ধে মিছিল, মিটিং, চিৎকার, লেখালেখি কোন কিছুই মানুষের মনুষ্যত্ব বোধ জাগ্রত করতে পারছে বলে দেখা যাচ্ছে না।
মানুষ জন্মগত ভাবে একটি প্রাণী মাত্র। যার প্রাণ থাকে সেই তো প্রাণী। সে ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে থাকে বিবেক ও শ্রেষ্ঠত্বের বীজ। সেই বীজটাকে যত্নে যত্নে একটি নিদিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানোর চাবিকাঠি হলো মনুষ্যত্ব বোধ। মনুষ্যত্ব মানুষের জৈবিক সত্তাকে অতিক্রম করে তাকে প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে।
মানুষ নিজে নিজেকে সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে দাবী করে। কারণ মানুষ মনে করে তাদের মধ্যে রয়েছে বুদ্ধি, বিবেক ও চিন্তার পথ। পৃথিবীতে এতো অনাচার, অবিচার, মানুষের হীন পতনের এই সময়ে মানুষের মনুষ্যত্ব বোধ কোথায় হারালো সেই প্রশ্নে যখন আমার মতো মানুষের মস্তিষ্কে যন্ত্রণা সৃষ্টি করে, জটলা সৃষ্টি করে তখন হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়। মন মানসিকতা অসাড় হয়। প্রশ্ন জাগে বারবার কেন মানুষের ভয়, বোধশক্তি ও যা তাকে ভালো মন্দের প্রার্থক্য করতে শেখায় তা এখন কোথায় হারালো!
সমাজে এতো খুন, ধর্ষণ, রাহাজানি প্রশ্নের কোন উত্তর নেই। কেন দুই বছরের শিশু থেকে বৃদ্ধ কেউ ধর্ষণ হতে মুক্তি পাচ্ছে না। এমনও নারী ধর্ষিত হয় যার মনোপেজ শেষ হয়ে বিশ না ত্রিশ বছর আগে। ধর্ষণ শেষ টুকরো করা হয়। কেন এমন ঘটনা অহরহ ঘটেই চলেছে? কেন ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নামক শিক্ষালয়ে ছাত্র বলাৎকার হচ্ছে। তাদের এতো নৈতিক অবক্ষয় কেন! তারা কেন অসুরের মতো সমাজে দাঁপিয়ে বেড়াচ্ছে। কেন তাদের মনুষ্যত্ব বোধ কাজ করছে না। নিত্যদিন কেন খবরের পাতায়, টিভিতে এসব নির্মম দৃশ্যগুলো আমরা দেখি। এই অপকর্ম যারা করে তারা মানুষের আদলে তৈরী মানুষ। তাদের বাহ্যিক ভাবে দেখে তো বুঝার উপায় নাই যে তারা তাদের মস্তিষ্কে কি পরিমাণ হিংস্রতা নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তারা যখন নৃশংস ঘটনাগুলো ঘটায় তখন আমাদের করার কী থাকে হা–হুতাশ করা ছাড়া?
দেশ জুড়ে যখন শিশু ধর্ষণ, মাদ্রাসায় বলাৎকার করে হত্যার ঘটনাগুলো আগের থেকে বেশি ঘটছে তখন আমরা মানুষের মনুষ্যত্ব বোধকে পেছনে রেখে আইনের কঠোর ও উপযুক্ত প্রয়োগকে সামনে আনতে পারি। আইনের কঠোর ও উপযুক্ত প্রয়োগই কেবল এসব বীভৎসতা থামাতে পারে।












