রাফি স্মৃতি মহানগর অনূর্ধ্ব–১৮ জুনিয়র ক্রিকেট লিগের গতকাল সোমবার ৪টি খেলার নিষ্পত্তি হয়েছে। এসব খেলায় নিউ ক্রিকেট একাডেমি, বেসিক ক্রিকেট একাডেমি, এস এস ক্রিকেট একাডেমি এবং শতাব্দী ক্রিকেট একাডেমি জয়লাভ করেছে। দামপাড়া পুলিশ লাইন মাঠে দুটি খেলা অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম খেলায় নিউ ক্রিকেট একাডেমি ১১২ রানের বড় ব্যবধানে আফতাব আহমেদ ক্রিকেট একাডেমিকে পরাজিত করে। টস জয়ী নিউ ক্রিকেট একাডেমি আগে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৬ উইকেটে এবারের আসরে এখনো পর্যন্ত দলীয় সর্বোচ্চ ১৮২ রান করে। জবাবে আফতাব আহমেদ ক্রিকেট একাডেমি ১১.৫ ওভারে ৭৭ রানে অলআউট হয়ে যায়। নিউ ক্রিকেট একাডেমির প্রথম ৬ ব্যাটার আবুল হোসেন ৩৭, অধিনায়ক মোহাম্মদ ফয়েজ ৩৬, নুর উদ্দিন ২২, আজফার আহমেদ আয়মান ২০ এবং আরবেজ আল আলভী ১৮ ও মহিউদ্দিন তাসিন ১৮ রান করেন। অতিরিক্ত থেকে আসে ১৯ রান। আফতাব আহমেদ ক্রিকেট একাডেমির সৈয়দ বিন ওসমান ২৩ রানে ২টি উইকেট পান। এছাড়া মেহেরাজুল ইসলাম, মোরশেদ আবরার, এরশাদুল ইসলাম ফরহান এবং ম্যাক্সিম চাকমা প্রত্যেকে ১টি করে উইকেট নেন। আফতাব আহমেদ ক্রিকেট একাডেমির ইনিংসে এরশাদুল ইসলাম ফরহান ২৪ ও নাইয়ানের ১৮ রান ছাড়া বাকিদের কেউই দু–অংকের রান করতে পারেননি। অতিরিক্ত খাতে ১৭ রান যোগ হয়।
নিউ ক্রিকেট একাডেমির আজফার আহমেদ আয়মান ১, যুবরাজ বর্মন ৫, নুর উদ্দিন ১২ ও মহিউদ্দিন তাসিন ১৮ রানে প্রত্যেকে ১টি করে উইকেট নেন। একই মাঠে অনুষ্ঠিত অপর খেলায় বেসিক ক্রিকেট একাডেমি ২৪ রানে বায়েজিদ স্পোর্টিং ক্লাবকে পরাজিত করে। টস জয়ী বেসিক ক্রিকেট একাডেমি আগে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১১১ রান করে। জবাবে বায়েজিদ স্পোর্টিং ক্লাবের ইনিংস ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ৮৭ রানে গিয়ে থামে। বেসিক ক্রিকেট একাডেমির হয়ে ওমর ফারুক ৩০, নুরুল মোস্তফা ২৪ ও ইশরাক মাহামুদ ১৯ রান করেন। অতিরিক্ত থেকে ২৫ রান যোগ হয়। বায়েজিদ স্পোর্টিং ক্লাবের মাইনুল হাসান ২৫ রানে ৩টি ও সায়মন ইসলাম ২৩ রানে ২টি উইকেট দখল করেন। বায়েজিদ স্পোর্টিং ক্লাবের ইনিংসে অধিনায়ক শৈলেশ দাস ২৭, সাকিবুল ইসলাম ২০ ও সায়মন ইসলাম ২০ রান করেন। বেসিক ক্রিকেট একাডেমির রানা মিয়া ১১ রানে ৪ উইকেট নিয়ে কৃতিত্ব দেখান। বাকলিয়া স্টেডিয়ামে দুটি খেলার প্রথমটিতে এস এস ক্রিকেট একাডেমি ২ উইকেটে চিটাগাং ওয়ারিয়র্স স্পোর্টিং ক্লাবকে পরাজিত করে। টস জিতে চিটাগাং ওয়ারিয়র্স স্পোর্টিং ক্লাব প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১০৬ রান করে। জবাবে এস এস ক্রিকেট একাডেমি ১৭.৩ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১০৭ রান তুলে নেয়। ওয়ারিয়র্স স্পোর্টিং ক্লাবের ইনিংসে হাবিবুল হাসান ২৮ ও সামির ইবনে ইউসুফ ২১ রান করেন। বাকিদের রান ছিল এক অংকের। অতিরিক্ত খাতে ২৪ রান যোগ হয়। এস এস ক্রিকেট একাডেমির ইশতিয়াক আহমেদ ২৩ রানে ৩টি ও দীপ্ত মজুমদার ৯ রানে ২টি উইকেট নেন। এস এস ক্রিকেট একাডেমির ইনিংসে কামরান কামাল ২৮,সাব্বির হোসেন ১৫ ও দীপ্ত মজুমদার ১৪ রান করেন। অতিরিক্ত হিসেবে ২২ রান আসে। ওয়ারিয়র্স স্পোর্টিং ক্লাবের আহসানুল হক ১৮ রানে ৩টি উইকেট পান। এছাড়া রোকন ১৮ ও হাসিবুল হাসান ২৪ রানে ২টি করে উইকেট নেন। একই মাঠে পরের খেলায় শতাব্দী ক্রিকেট একাডেমি ২ উইকেটে কাট্টলী ক্রীড়া সংস্থাকে পরাজিত করে। টসে জিতে কাট্টলী ক্রীড়া সংস্থা আগে ব্যাট করে ১৯.৫ ওভারে ১৩২ রানে অলআউট হয়। জবাবে শতাব্দী ক্রিকেট একাডেমি ১৯.৩ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে জয় নিশ্চিত করে। তারা করে ১৩৩ রান। কাট্টলী ক্রীড়া সংস্থার ইনিংসে এবারের আসরে প্রথমবারের মতো হাফ সেঞ্চুরি করেন মোহাম্মদ মনিরুল। ৩৬ বলে ৪ চার ও ৩ ছক্কায় ৫২ রান করেন তিনি।
এছাড়া নীলয় নন্দী ৩২ ও অতিরিক্ত খাতে ২৬ রান আসে। শতাব্দী ক্রিকেট একাডেমির অধিনায়ক মোহাম্মদ মিসবাহ ১১, অজয় মজুমদার ১৭ ও মোহাম্মদ নাহিদ ২৩ রানে প্রত্যেকেই ৩টি করে উইকেট নেন। শতাব্দী ক্রিকেট একাডেমির অধিনায়ক মোহাম্মদ মিসবাহ ভালো বল হাতে ৩ উইকেট পাবার পর ব্যাট হাতেও যৌথভাবে সর্বোচ্চ ৩৮ রান করে দলের জয়ে অনবদ্য ভূমিকা রাখেন। এছাড়া প্রাঞ্জল দাস ৩৮ ও আরমান হোসেন ১৩ রান করেন। অতিরিক্ত খাতে আসে ১৬ রান। কাট্টলী ক্রীড়া সংস্থার হয়ে মনিরুল ১৭ রানে ৪টি ও মোহাম্মদ সেজান ২৪ রানে ২টি উইকেট নেন।












