পুরো মুনাফাসহ আমানত ফিরে পাওয়ার দাবিতে নগরীর নিউমার্কেট এলাকায় গতকালও বিক্ষোভ করেছে একীভূত পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারী ও গ্রাহকেরা। গতকাল সকাল ১০টায় ‘সম্মিলিত ইসলামি ব্যাংক আমানতকারী অ্যাসোসিয়েশন–চট্টগ্রাম বিভাগের ব্যানারে নিউমার্কেট মোড়ে জড়ো হন আমানতকারীরা। এ সময় তারা আমানত ফিরে পাওয়ার দাবিতে নানা স্লোগান দেন। একপর্যায়ে তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের দিকে মিছিল নিয়ে এগোনোর চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়।
পুলিশি বাধার মুখে বিক্ষোভকারীরা আলকরণ মোড়ে জিপিও’র বিপরীতে অবস্থান নেন। অবস্থান কর্মসূচিতে অনেক আমানতকারীকে হাতে চেক নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তাদের অভিযোগ, ব্যাংকে ঘুরেও তারা টাকা তুলতে পারছেন না। ফলে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে অর্থসংকটে পড়ছেন। বিক্ষুব্ধ আমানতকারীরা ‘হেয়ার কাট’ প্রস্তাব বাতিল ও স্বাভাবিক ব্যাংকিং লেনদেন চালুর দাবি জানান। পরবর্তীতে আমানতকারী ও গ্রাহকদের কয়েকজন প্রতিনিধি তিন দফা দাবিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ে প্রধানের কাছে স্মারকলিপি দেন। তদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে–টাকা ফেরতে সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা, বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্রের বক্তব্য প্রত্যাহার এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের মন্তব্য থেকে বিরত থাকা। একজন আমানতকারী জানান, আমরা ব্যাংকে বিশ্বাস করে জীবনের সব সঞ্চয় রেখেছি। এখন দ্বারে দ্বারে ঘুরে সেই সঞ্চয়ের টাকা পাচ্ছি না। পরিবারের খরচ চালাতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে আত্মহত্যা করা ছাড়া আর কোনো রাস্তা থাকবে না। আমানতকারী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমাদের টাকা দিয়ে ব্যাংকের কর্মকর্তাদের বেতন চলে। কিন্তু তারা আমানতকারীদের নিয়ে মানহানিকর মন্তব্য করছেন। আমরা তাকে হুঁশিয়ার করে দিতে চাই, ভবিষ্যতে এমন মন্তব্য করার আগে ভেবে দেখতে হবে। আজ আমরা ৫ হাজার হলে, কাল ৫০ হাজার হব।
কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফতাব উদ্দিন বলেন, যেহেতু এটি ভিআইপি জোন এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ বিভিন্ন স্থাপনা রয়েছে, তাই আমরা তাদের কর্মসূচি নিউমার্কেট মোড়ে করতে বলেছিলাম। তবে তারা আলকরণ মোড়ে করেছেন। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত পুলিশ সেখানে রয়েছে।













