প্রযুক্তি নির্ভর বাংলাদেশ বিনির্মাণ ও টেকসই উন্নয়নে প্রকৌশলীদের ভূমিকা অনস্বীকার্য: প্রকৌশলী মনজারে খোরশেদ আলম

| বুধবার , ৬ মে, ২০২৬ at ৭:০৩ অপরাহ্ণ

ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি)’র ৭৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ‘ইঞ্জিনিয়ার্স ডে’ উদযাপন উপলক্ষে আইইবি, চট্টগ্রাম কেন্দ্রের উদ্যোগে তিনদিনব্যাপী কর্মসূচির প্রথম দিনে আজ দুপুরে কেন্দ্রের সেমিনার কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। কেন্দ্রের সম্মানী সম্পাদক প্রকৌশলী খান মোঃ আমিনুর রহমান এর সঞ্চালনায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মনজারে খোরশেদ আলম আইইবি’র বিভিন্ন কর্মকাণ্ড, পরিকল্পনা ও প্রকৌশলীদের দাবীসমূহ তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে কেন্দ্রের ভাইস-চেয়ারম্যান (একা. এন্ড এইচআরডি) প্রকৌশলী মোঃ সাখাওয়াত হোসেন ও ভাইস-চেয়ারম্যান (এডমিন. প্রফেশ. এন্ড এসডব্লিউ)-ভারপ্রাপ্ত প্রকৌশলী মোঃ নুরুল আলম শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন। এসময় অন্যান্যদের মধ্যে কেন্দ্রের প্রাক্তন ভাইস-চেয়ারম্যান প্রকৌশলী এ.এস.এম. নাসিরুদ্দিন চৌধুরী পিইঞ্জ, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জনাব জাহিদুল করিম কচি, ইআরসি’র নির্বাহী ভাইস-চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোঃ আবু জাফর, কাউন্সিল সদস্য প্রকৌশলী এ.এস.এম. শাহজাহান, প্রকৌশলী সরকার মোঃ আবদুল্লাহ আজম, প্রকৌশলী মোঃ ইমরান আলী, প্রকৌশলী সাঈদ মোহাম্মদ জাবের রনি, সম্মানী সহকারী (অর্থ ও প্রশা.) প্রকৌশলী মোঃ কামরুজ্জামান, সম্মানী সহকারী (একাডেমিক) প্রকৌশলী মোঃ বখতিয়ার হোসেন, কেন্দ্রের সদস্য প্রকৌশলী মোঃ আবুল বাশার ও প্রকৌশলী বিধান চন্দ্র দাস উপস্থিত ছিলেন।

কেন্দ্রের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মনজারে খোরশেদ আলম বলেন, বিগত সময়ে প্রকৌশলীরা একটি কর্তৃত্ববাদী সরকারের অধীনে কাজ করতে গিয়ে চরমভাবে নিষ্পেষিত ও নির্যাতিত হয়েছে। আমরা অনুধাবন ও পর্যবেক্ষণ করেছি, একটি প্রকৌশল পেশাজীবী প্রতিষ্ঠানকে কিভাবে দলীয় নোংরা রাজনীতির যাঁতাকলে পিষ্ট করেছে। রাষ্ট্রশক্তি ও দলীয় পেশীশক্তি একাকার হয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চলেছে একদলীয় নিয়োগ, পদোন্নতি এবং নির্বাচনে মনোনয়ন বাণিজ্য। হাজার হাজার যোগ্য, মেধাবী, উচ্চ শিক্ষিত ও দূরদর্শী প্রকৌশলীর পদোন্নতি এবং পদায়নকে বাধাগ্রস্ত করেছে ফ্যাসিবাদী শক্তির সহযোগীরা। তিনি আরো বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে যে সকল বিষয় জনজীবনকে প্রভাবিত করে, তার বেশীর ভাগই প্রযুক্তি নির্ভর এবং এসকল সমস্যা নিরসন প্রকৌশলীদেরকেই করতে হয়। সমস্যাবলী নিরসন ছাড়াও, এ পর্যন্ত দেশের যতটুকু উন্নয়ন এবং সমৃদ্ধি হয়েছে তার সিংহভাগ কৃতিত্বের দাবীদার এই প্রকৌশলীবৃন্দ বলে মন্তব্য করেন।

তিনি, এদেশ বর্তমানে বিদ্যুৎ ও জ্বালানী সংকট, গ্যাস ও পানির অপ্রতুলতা, জলাবদ্ধতা, যানজট, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, পানি নিষ্কাশন, রেলওয়ে, সড়ক, বিমান পরিবহন, সেতু কালভার্ট টানেল, পর্যটন শিল্প, হালকা, মাঝারী ও ভারি শিল্পের নিরাপত্তা এবং ভবন ধস, বন্দর ও নৌপরিবহন খাতের বিদ্যমান সমস্যাসহ নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত। এসকল সমস্যা চিহ্নিত করে প্রকৌশলগত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে নিরসন করে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে, আইইবি, চট্টগ্রাম কেন্দ্র বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে উল্লেখ করেন।

তিনি, টেকসই উন্নয়ন ও আত্মনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে বিদেশী বিশেষজ্ঞ আনয়ন বন্ধ করে এদেশের মেধাবী ও দক্ষ প্রকৌশলীদের যথাযথ মূল্যায়ন করে দেশের সরকারী ও বেসরকারী সকল প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ প্রদানের আহ্বান জানান।

আইইবি’র বিভিন্ন কর্মসূচি তুলে ধরে তিনি বলেন, আইইবি’র মূল কাজ হচ্ছে প্রকৌশলীদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, প্রকৌশল পেশার মানোন্নয়ন, প্রযুক্তিগত নীতিমালা প্রণয়ন ও পরামর্শ প্রদান, গবেষণা ও উদ্ভাবন বিনিয়োগ, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম উন্নয়ন, প্রকৌশল পেশা ও ব্যবহারিক চর্চার দক্ষতা বৃদ্ধি, নৈতিকতা ও জবাবদিহিতা শক্তিশালী করা। পেশাজীবীদের বিভিন্ন সমস্যাবলী সমাধানকল্পে কাজ করা, শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা, আন্তর্জাতিক কাররি সহায়তা সুযোগ সৃষ্টি করা এবং জাতীয় কারিগরি ইস্যুতে সরকারকে পরামর্শ দেয়া। এছাড়া দেশে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, দক্ষ জনশক্তি তৈরী, অবকাঠামো নির্মাণে বিএনবিসি অনুযায়ী কনসালটেন্সি সার্ভিস ও ভেটিং সহায়তা প্রদান, অশিক্ষিত ও অদক্ষ বেকারদের কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রদান, প্রযুক্তিগত শিক্ষা প্রদান ও প্রসার, প্রকৌশল ও বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং সমতুল্য এএমআইই ডিগ্রী প্রদান, দেশের সামগ্রিক উন্নয়নকাজে পরামর্শ হিসেবে দায়িত্বপালন, নাগরিক সেবা প্রদান, শ্রমজীবী পেশাজীবীদের কল্যাণ, দেশীয় সংস্কৃতির প্রসারসহ নানা কাজে আইইবি, চট্টগ্রাম কেন্দ্র সর্বদা নিয়োজিত। দেশের বেকার তরুণ সমাজকে প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের কর্মোপযোগী করে দেশের বেকার সমস্যা দূরীকরণে আমরা সর্বদা সচেষ্ট। আইইবি, চট্টগ্রাম কেন্দ্র সারা বছরব্যাপী বেকার যুবকদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বিভিন্ন ট্রেডকোর্স প্রশিক্ষণ এবং এ জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ও কর্মোপযোগী প্রশিক্ষণ কর্মসূচি রয়েছে।

কেন্দ্রের চেয়ারম্যান, প্রকৌশলী সমাজের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে কিছু দাবী তুলে ধরেন। দাবীগুলোর মধ্যে রয়েছে- (১) প্রকৌশলী সংস্থাসমূহের শীর্ষ পদগুলোতে প্রকৌশলী পদায়ন করতে হবে। (২) প্রকৌশলীদের পদোন্নতি ও পদায়ন নিশ্চিতকরণ। (৩) বিভিন্ন প্রকৌশল সংস্থাসমূহকে বিসিএস ক্যাডারভুক্তকরণ। (৪) বেসরকারী প্রকৌশলীদের জন্য চাকুরী বিধি প্রণয়ন করতে হবে। (৫) বিভিন্ন প্রকল্পে প্রোজেক্ট ডাইরেক্টর হিসেবে প্রকৌশলীদের নিয়োগ প্রদান। (৬) প্রকৌশলীদের পেশাগত মর্যাদার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের বৈষম্য ও অসন্তোষ নিরসন করা। (৭) বিশেষ সেবা আমদানীর নামে বিদেশী কারিগর ও প্রকৌশলীদেরকে বাংলাদেশে নিয়োগ বন্ধ করে দেশীয় মেধাবী প্রকৌশলীদেরকে নিয়োগ দেয়া।

উপস্থিত সাংবাদিকদের মধ্যে প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশগ্রহণ করেন চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি ও প্রথিতযশা সাংবাদিক জনাব জাহিদুল করিম কচি, সিনিয়র সাংবাদিক জনাব নাজিম উদ্দিন শ্যামল, জনাব মোঃ হাসান, প্রকৌশলী নাঈম ইসলাম, সাংবাদিকগণ ও নেতৃবৃন্দ নগরীর জলাবদ্ধতা, খাল খনন, পাহাড় ধস, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা ও দৈনন্দিন বিভিন্ন সমস্যা নিরসনসহ বিভিন্ন উপজেলায় উন্নয়নমূলক কাজে প্রকৌশলীদের সম্পৃক্ততা বাড়ানো, টানেল ও উন্নয়নমূলক কাজের ফিজিবিলিটি নির্ণয়ের জন্য আইইবি’র, উদ্যোগ গ্রহণ বিষয়ে কেন্দ্রের নির্বাহীদের নিকট জানতে চান।

তিনি তিনদিনব্যাপী ইঞ্জিনিয়ার্স ডে কর্মসূচি তুলে ধরেন। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- ০৭ মে, বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় পতাকা ও আইইবি’র পতাকা উত্তোলন, র‍্যালী, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, ০৮ মে ২০২৬ শুক্রবার বিকালে অভ্যন্তরীণ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা-২০২৬ এর বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ, কেন্দ্রের মহিলা ও শিশু বিষয়ক কমিটির পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সন্ধ্যায় শুভেচ্ছা বিনিময়, স্যুভেনিয়েরের মোড়ক উন্মোচন, প্রকৌশল পেশা ও সমাজসেবায় কৃতিত্বপূর্ণ অবদান রাখায় প্রকৌশলীদের বিশেষ সম্মাননা প্রদান, প্রকৌশল খাতে বিশেষ অবদান রাখায় প্রকৌশল ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ সম্মাননা স্মারক প্রদান, বিশেষ প্রেজেন্টেশন, স্মৃতিচারণ, বিশেষ ও অন্যান্য অতিথিদের বক্তব্য, প্রধান অতিথির বক্তব্য, সভাপতির বক্তব্য, নৈশভোজ ও সঙ্গীতানুষ্ঠান ও র‍্যাফল ড্র সমাপ্তি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধরোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ