মহেশখালীর মাতারবাড়ী মগডেইল এলাকায় কোহিনুর আকতার (৩৫) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার ভোরে নিজ বাড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত কোহিনুর আকতার স্থানীয় মগডেইল এলাকার আবু বক্করের মেয়ে এবং সৌদি প্রবাসী বশির আহমদের স্ত্রী। ২০১২ সালে বশিরের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে দুই কন্যা ও এক পুত্র সন্তান রয়েছে। বর্তমানে বশির আহমদ সৌদি আরবে অবস্থান করছেন।
নিহত কোহিনুরের বাবা আবু বক্করের অভিযোগ, গত রোববার এশার নামাজের পর কোহিনুর আকতার তার দুই সন্তানকে ঘুম পাড়িয়ে নিজ কক্ষে ছিলেন। এ সময় তার ননদের স্বামী, স্থানীয় গরু ব্যবসায়ী হাসেম বাড়িতে আসেন। একপর্যায়ে তিনি কোহিনুরকে বকাঝকা করেন এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নিজের কাছে নিয়ে নেন। কিছুক্ষণ পর সন্তানরা মাকে দেখতে না পেয়ে কান্নাকাটি শুরু করে। একপর্যায়ে কোহিনুরের সাত বছর বয়সী ছেলে পাশের একটি কক্ষে গিয়ে তার মাকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে উড়না পেঁচানো অবস্থায় ঝুলতে দেখে। শিশুটির চিৎকার শুনে স্বজনরা ছুটে এসে ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান। পরে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দিলে মাতারবাড়ী পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে মহেশখালী থানায় নিয়ে যায়।
নিহতের স্বজনদের দাবি, ঘটনাস্থলের বিভিন্ন আলামত এবং পরিস্থিতি দেখে তাদের কাছে বিষয়টি আত্মহত্যা বলে মনে হয়নি। তাদের অভিযোগ–এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
মাতারবাড়ী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মোজাহেরুল ইসলাম বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কোহিনুর আকতারের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে তার গলায় আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
মহেশখালী থানার ওসি আব্দুস সুলতান গতকাল বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, আলামত সংগ্রহ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের চেষ্টা চলছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।












