কারিগরি ত্রুটির ধকল সামলে চট্টগ্রামের গ্যাস সংকট কাটার যে আশা তৈরি হয়েছিল, তা আবারও অনিশ্চয়তায় পড়েছে। মহেশখালীর এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় গত বুধবার বিকেল থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ফলে চট্টগ্রামে আবাসিক, শিল্প ও পরিবহন খাতে গ্যাসের চাপ ফের কমেছে। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় চুলা জ্বলছে না বা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও স্বাভাবিক চাপ পাওয়া যাচ্ছে না। গ্যাসের অভাবে সিএনজি স্টেশনগুলোতেও দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়েছে। সারারাত সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনে কাটানোর নজিরও সৃষ্টি হয়েছে। তবে আগামীকাল রোববার নতুন এক কার্গো এলএনজি চট্টগ্রামে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২১ জুলাই এঙিলারেট এনার্জির টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর প্রায় দুই সপ্তাহ বন্ধ থাকার কারণে জাতীয় গ্রিডে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছিল। মেরামত শেষে ৬ আগস্ট টার্মিনালটি সীমিত পরিসরে গ্যাস সরবরাহ শুরু করলেও কয়েক দিনের মধ্যেই মজুত কমে যায়। শেষ পর্যন্ত নতুন এলএনজি কার্গো না আসায় ১৯ আগস্ট বিকেল ৩টা থেকে সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
বর্তমানে মহেশখালীর দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের সম্মিলিত রিগ্যাসিফিকেশন সক্ষমতা দৈনিক ১১শ’ মিলিয়ন ঘনফুট। কিন্তু ১৯ আগস্ট জাতীয় গ্রিডে দুটি টার্মিনাল থেকে সরবরাহ নেমে আসে প্রায় ৬৬০ মিলিয়ন ঘনফুটে। এর মধ্যে সামিটের টার্মিনাল থেকে প্রায় ৫৫০ মিলিয়ন ঘনফুট এবং এঙিলারেট থেকে প্রায় ১১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাচ্ছিল। পরে ১১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে সক্ষমতার মাত্র অর্ধেক গ্যাস দেয়া হচ্ছিলো।
কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) হিসাবে নগর ও আশপাশের এলাকায় দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর বিপরীতে সামপ্রতিক সময়ে সরবরাহ নেমে ১৫০ থেকে ২১০ মিলিয়ন ঘনফুটে। চট্টগ্রামের চাহিদার মাত্র অর্ধেক বা কখনো অর্ধেকেরও কম গ্যাস সরবরাহ দেয়া হচ্ছে। এর ফলে চট্টগ্রামের শিল্প, বাণিজ্যিক এবং আবাসিক গ্রাহকের ভোগান্তি চরমে ওঠে। সিএনজি স্টেশনগুলোতে গ্যাস না থাকা বা চাপ কমে যাওয়ায় সংকট প্রকট হয়ে ওঠে। কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ লাইন ধরে বিভিন্ন যানবাহনকে গ্যাসের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।
গ্যাস সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে চট্টগ্রামের শিল্প উৎপাদনে। গ্যাসের চাপ কম থাকায় অনেক কারখানা পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন চালাতে পারছে না। চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত চিটাগং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল) দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। একই এলাকায় অবস্থিত বহুজাতিক সার কারখানা কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডে (কাফকো) গ্যাস বরাদ্দ পাওয়ায় উৎপাদন চালু রয়েছে। কাফকো চালু থাকায় চট্টগ্রামে গ্যাসের সংকট আরো প্রকট হয়ে উঠেছে। কাফকো এককভাবে ৫৫ মিলিয়ন ঘনফুটের মতো গ্যাস ব্যবহার করছে। এর ফলে চট্টগ্রামের সার্বিক গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতিতে নাজুক অবস্থা বিরাজ করছে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো বন্ধ হয়ে পড়ছে। কেবলমাত্র শিকলবাহা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে আংশিক উৎপাদন চলছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় চট্টগ্রাম শহর এবং গ্রামাঞ্চলে ব্যাপক হারে লোডশেডিং করা হচ্ছে।
আগামীকাল নতুন এক কার্গো এলএনজি চট্টগ্রামে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। কার্গোর এই চালানটি মহেশখালীতে পৌঁছানোর পর পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।












