বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ২০০ কোটি ডলারে উন্নীত করতে উপায় অনুসন্ধান করার কথা বলেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। গতকাল শুক্রবার ঢাকায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পর যৌথ ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ১৩০ কোটি ডলার থেকে বাড়িয়ে ২০০ কোটি ডলারে নিতে সম্ভাব্য পদক্ষেপগুলো অনুসন্ধান আমরা করছি।’ ২ জুন থেকে এশিয়ার বিভিন্ন দেশ সফরের মধ্যে বৃহস্পতিবার তিন দিনের সফরে ঢাকায় আসেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফিদান। খবর বিডিনিউজের।
প্রথম আনুষ্ঠানিক সূচিতে শুক্রবার সকালে ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়। এরপর একান্ত বৈঠক করেন তারা।
বৈঠকের পর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক সই করে বাংলাদেশ ও তুরস্ক। তুরস্কের পক্ষে হাকান ফিদানের বিপরীতে বাংলাদেশের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। পরে এক যৌথ ব্রিফিংয়ে বৈঠকে আলোচনার বিভিন্ন দিক এবং বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে নিজেদের মনোভাবের কথা তুলে ধরেন দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে তারা কোনো প্রশ্ন নেননি।
ব্রিফিংয়ে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফিদান বলেন, আজকের বৈঠকে আমরা আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোতে আমাদের সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছি। তিনি বলেন, বিস্তৃত ক্ষেত্রে দুদেশের দীর্ঘদিনের যে অংশীদারত্ব, সেটাকে গভীর করার এবং আরও শক্তিশালী ও দূরদর্শী পর্যায়ে নেওয়ার প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন তারা। প্রতিরক্ষা খাতে সহযোগিতা আরও জোরদারের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে হাকান ফিদান বলেন, বহুক্ষেত্রে, বিশেষ করে প্রতিরক্ষা শিল্পে আমাদের সহযোগিতা জোরদারের পদক্ষেপ আমরা নিতে পারি। এ বিষয়গুলো আমি আমার সহকর্মীর (খলিল) সঙ্গে ভালোমত পর্যালোচনা করেছি। বাংলাদেশের বৈশ্বিক অবস্থানের কথা তুলে ধরে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ হচ্ছে গ্লোবাল সাউথের শক্তিশালী কণ্ঠস্বর। একইসঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতা, শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য ‘কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ দেশ’ বাংলাদেশ। বৈঠকে আলোচনার বিষয়বস্তু তুলে ধরে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ইস্যুতে আমাদের অভিন্ন অবস্থান ও সহযোগিতাকে আরও জোরদার করার বিষয়ে আজকের বৈঠকে একমত হয়েছি আমরা। ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের এই সময়েও বাংলাদেশ বিশাল মানবিক দায়িত্ব বহন করছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ট্র্যাজেডি আগের মতই আছে। তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকটকে আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়ের এজেন্ডায় রাখতে জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তুরস্ক সরকার। দুই জাতির ‘গভীর ঐতিহাসিক বন্ধনের’ প্রেক্ষাপটে তুরস্কের সঙ্গে বাংলাদেশের বহুমুখী সম্পর্ক থাকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দুদেশের সম্পর্ককে শক্তিশালী করার এবং দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতা, শান্তি ও সমৃদ্ধিকে জোরদারে কাজ চালিয়ে যাবে তার দেশ।











