দেড় কোটি টাকার কাজ ২ কোটি ৩০ লাখ টাকায়!

সিইউএফএলে ব্যাগিং কন্ট্রাক্টর নিয়োগের টেন্ডারে অনিয়ম ছয় প্রতিষ্ঠানকে টেন্ডার জমাদানে বাধার অভিযোগ, মারামারি

হাসান আকবর | সোমবার , ২৫ মে, ২০২৬ at ৮:২৬ পূর্বাহ্ণ

রাষ্ট্রায়ত্ত অন্যতম বৃহৎ সার কারখানা চট্টগ্রামস্থ সিইউএফএলে ব্যাগিং কন্ট্রাক্টর নিয়োগের টেন্ডারে দেড় কোটি টাকার কাজ ৮০ লাখ টাকা বাড়িয়ে পছন্দের ঠিকাদারকে দেওয়ার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার অভিযোগ উঠেছে। ব্যাগিং কন্ট্রাক্টর নিয়োগের টেন্ডারটি নিয়ে অনিয়মেরও অভিযোগ করা হয়। সিডিউল ক্রয়কারী এবং আগ্রহী ঠিকাদারদের টেন্ডার দাখিল করতে না দিয়ে সংঘবদ্ধ একটি চক্র কাজ ভাগাভাগির উদ্যোগ নেওয়ারও অভিযোগ ওঠে। গতকাল রোববার দুপুরে টেন্ডার দাখিলকে কেন্দ্র করে সিইউএফএল কারখানার প্রশাসনিক ভবনে হাতাহাতি এবং মারামারির ঘটনা ঘটে। কিন্তু এত কিছুর পরও ৬টি প্রতিষ্ঠান টেন্ডার দাখিল করতে পারেনি। মাত্র দুটি প্রতিষ্ঠান টেন্ডার ড্রপ করে দেড় কোটি টাকার চলমান কাজকে ২ কোটি ৩০ লাখ টাকায় নিয়ে গেছে। এতে রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানাটিকে অন্তত ৮০ লাখ টাকা বাড়তি খরচ করতে হবে বলে অভিযোগ করে সূত্র বলেছে, সারা দেশে অনলাইনে ইজিপি সিস্টেমে টেন্ডার দাখিল হলেও সিইউএফএলে গতকাল টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে। মাত্র দুটি প্রতিষ্ঠানের টেন্ডার দাখিলের কারণে কার্যত এই টেন্ডার আইনগত বৈধতা হারালেও বিষয়টিকে আমলে না নিয়ে ২ কোটি ৩০ লাখ টাকায় কাজটি দিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হচ্ছে।

সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশনের (বিসিআইসি) নিয়ন্ত্রণাধীন সিইউএফএল কারখানায় গত বেশ কিছুদিন ধরে নানা সংকট চলছে। দেশের ইউরিয়া সার উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ এই কারখানাটি কৃষি খাতে ভূমিকা রেখে আসছে বহু বছর ধরে। এই কারখানায় দৈনিক প্রায় ১ হাজার ১০০ টন ইউরিয়া এবং ৬০০ টন অ্যামোনিয়া উৎপাদন করা হয়। এসব সার বস্তাভর্তি করে সেলাই করাসহ ব্যাগিং কার্যক্রমের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয় বেসরকারি ঠিকাদার। গত ৩ মে ঠিকাদার নিয়োগের টেন্ডার আহ্বান করা হয়। টেন্ডার দাখিলের শেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয় ১৮ মে। পরবর্তীতে টেন্ডার দাখিলের সময়সীমা ২৪ মে পর্যন্ত বাড়ানো হয়। গতকাল টেন্ডার দাখিলের শেষ দিন ছিল। আগামী বছরের ব্যাগিং কন্ট্রাক্টরের কাজ করার জন্য মোট ৮টি প্রতিষ্ঠান টেন্ডার সিডিউল ক্রয় করে। গতকাল টেন্ডার দাখিল করতে গেলে ৬টি প্রতিষ্ঠানকে টেন্ডার জমা দিতে দেওয়া হয়নি। কেবলমাত্র দুটি প্রতিষ্ঠান টেন্ডার দাখিল করে। এর মধ্যে শাহ মোহছেন আউলিয়া এন্টারপ্রাইজ নামের প্রতিষ্ঠান ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা এবং আনোয়ারা ট্রান্সপোর্ট নামের প্রতিষ্ঠান ২ কোটি ৩৫ লাখ টাকার টেন্ডার দাখিল করে। বাকি প্রতিষ্ঠানগুলো টেন্ডার দাখিল করতে গেলে তাদের বাধা দেওয়া হয়। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা, হাতাহাতি এবং মারামারির ঘটনা ঘটে। একপক্ষ অপরপক্ষকে কোনোভাবেই টেন্ডার দাখিল করতে না দেওয়ায় শেষ পর্যন্ত কেবলমাত্র দুটি প্রতিষ্ঠানের টেন্ডার জমা পড়ে।

বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে নুর ট্রেডার্স, ব্রাদার্স কর্পোরেশন এবং আর এ এন্টারপ্রাইজের কর্মকর্তারা বলেন, আমরা মোট ৮টি প্রতিষ্ঠান টেন্ডার দাখিল করার জন্য সিইউএফএলে যাই। কিন্তু দুটি প্রতিষ্ঠান ছাড়া আমাদের ছয়জনকে টেন্ডার দাখিল করতে দেওয়া হয়নি। এ সময় তাদের উপর হামলা করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কারখানার দুজন শীর্ষ কর্মকর্তার নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ একটি সিন্ডিকেট ইউরিয়া ব্যাগিংয়ের কাজটি হাতিয়ে নেওয়ার জন্য সব ধরনের ষড়যন্ত্র করেছে। সারা দেশে অনলাইনে ইজিপি পদ্ধতিতে টেন্ডার দাখিল করা হলেও এখানে টেন্ডার গ্রহণ করা হয়েছে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে। আমরা সবাই টেন্ডার দাখিল করতে পারলে একটি প্রতিযোগিতামূলক দর নিশ্চিত হতো। তাতে যিনি কাজ পাওয়ার তিনি পেতেন। কারো আপত্তি থাকত না। অথচ এখন দুটি প্রতিষ্ঠানকে প্রায় ৮০ লাখ টাকা বাড়তি দরে কাজ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। ২ কোটি ৩০ লাখ টাকায় যে কাজ দেওয়া হচ্ছে তা দেড় কোটি টাকায় করার মতো ঠিকাদারও টেন্ডারে অংশ নিতে চেয়েছিলেন। মাত্র দুটি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে টেন্ডার বৈধতা হারিয়েছে। কিন্তু চক্রটি এসব তোয়াক্কা না করে বাড়তি দরে কাজটি দেওয়ার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করছে। বিষয়টি নিয়ে বঞ্চিত ঠিকাদারদের পক্ষ থেকে বিসিআইসিকে অভিযোগ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

এ বিষয়ে কথা বলতে গতকাল সিইউএফএল কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমানকে একাধিকবার ফোন করা হয়। কিন্তু তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এ ব্যাপারে কর্ণফুলী থানার ডিউটি অফিসার বলেন, সিইউএফএলে টেন্ডার নিয়ে গোলমাল হয়েছে বলে শুনেছি। তবে কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। কোনো মামলা হয়নি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধহজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হচ্ছে আজ
পরবর্তী নিবন্ধকক্সবাজার আদালত চত্বরে বিএনপি নেতার ওপর গুলি