মহানগরীর ইপিজেড থানা এলাকায় এক তরুণীকে গণধর্ষণের অভিযোগে নারীসহ চার জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ভুক্তভোগী তরুণী গতকাল সকালে ইপিজেড থানায় হাজির হয়ে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পেয়েই পুলিশের একটি দল ব্যারিস্টার সুলতান আহমেদ কলেজ এলাকার বিভিন্ন ভাড়া বাসা থেকে ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করে। ইপিজেড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। গ্রেপ্তাররা হলেন– আপ্রুমং মারমা (২৬), থুয়াইচিং মারমা (২৯), ওথাইইনু মারমা (৩০) এবং ওকরাইজা মারমা।
পুলিশ ও এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ওই তরুণী সিইপিজেড এম এস সুমন্তরা–১ গার্মেন্টসে চাকরির সুবাদে ইপিজেডের ব্যারিস্টার কলেজ এলাকার আনোয়ারা ম্যানসনে তার স্বজাতি অন্যান্য মেয়ে শ্রমিকদের সাথে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। গত ১০ এপ্রিল তার বন্ধু অংশুইচিং মারমা চিকিৎসার জন্য ফেনী থেকে চট্টগ্রাম এসে বাসায় উঠেন।
এ বিষয়ে একই বাসায় বসবাসকারী ওকরাইজা মারমা এলাকার পরিচিত ওথাইইনু মারমাকে জানালে সে, আপ্রুমং মারমা ও থুয়াইচিং মারমাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকে।
একপর্যায়ে থুয়াইচিং মারমা পূর্বপরিচিত ওকরাইজা মারমার সহায়তায় ১৯ এপ্রিল রাত পৌনে ১২টার দিকে ভুক্তভোগী তরুণীকে ব্যারিস্টার কলেজ রোডের সিরাজ বিল্ডিংয়ের পঞ্চম তলায় আপ্রুমং মারমার ভাড়া বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে উচাই মারমা ও নুংথুই প্রু মারমার ছেলে আপ্রমং মারমা, উহল্লা প্রু মারমা ও সুইথুই মারমার ছেলে থুয়াইচিং মারমা এবং উহল্লা প্রু মারমা ও মৃত মাসুইনু মারমার ছেলে ওথাইইনু মারমা ওই তরুণীকে বিভিন্ন আপত্তিকর কথা বলে। তারা ওই তরুণীর ছেলে বন্ধু অংশুইচিং মারমার সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ তুলে নিজেদের সঙ্গেও অনৈতিক কাজ করার জন্য চাপ দিতে থাকে। একপর্যায়ে আপ্রুমং মারমা, থুয়াইচিং মারমা এবং ওথাইইনু মারমা ওই চাকমা তরুণীকে জোরপূর্বক পালাক্রমে ধর্ষণ করে এবং বাসা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যায়।
গতকাল শুক্রবার ভুক্তভোগী চাকমা তরুণী ইপিজেড থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। এরপর পুলিশের একটি দল ব্যারিস্টার কলেজ এলাকার বিভিন্ন ভাড়া বাসা থেকে ঘটনায় জড়িত আপ্রুমং মারমা, থুয়াইচিং মারমা, ওথাইইনু মারমা ও ওকরাইজা মারমাকে গ্রেপ্তার করে।
এই ব্যাপারে ইপিজেড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আতিকুর রহমান জানান, এই ঘটনায় ভিকটিম চাকমা তরুণী মামলা করার সাথে সাথেই আমরা অভিযানে নেমে অভিযুক্ত চার আসামিকে গ্রেপ্তার করেছি। তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।














