লোহাগাড়া উপজেলার পুটিবিলায় দীর্ঘদিন ধরে একটি স্থায়ী সেতুর অভাবে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন এলাকাবাসী। ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের পহর চাঁন্দা গ্রামের মাঝ দিয়ে প্রবাহিত সুখছড়ি খালের ওপর কোনো পাকা সেতু না থাকায় প্রায় ২০ হাজার মানুষ, বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা ঝুঁকিপূর্ণ একটি বাঁশের সাঁকো দিয়ে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে প্রতিদিনই তাদের নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে চলাচল করতে হচ্ছে। যা স্থানীয়দের উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে।
জানা যায়, সড়কটি পুটিবিলা ইউনিয়নের পশ্চিম পহর চাঁন্দা এলাকা থেকে কলাউজান ইউনিয়নের জয়নগর পর্যন্ত বিস্তৃত। যা দুই ইউনিয়নের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সাঁকোটি দিয়ে পহর চাঁন্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গৌড়স্থান উচ্চ বিদ্যালয়, আখতারুল উলুম দাখিল মাদ্রাসা, কলাউজান ডা. এয়াকুব বজলুর রহমান সিকদার উচ্চ বিদ্যালয়, দারুচ্ছুন্নাহ আলিম মাদ্রাসা ও পহর চাঁন্দা আহমদিয়া নুরানি মাদ্রাসার শত শত শিক্ষার্থীসহ প্রায় ২০ হাজার মানুষ চলাচল করে।
গত বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা যায়, বাঁশের তৈরি সাঁকোটির কাঠামো দুর্বল ও অস্থায়ী, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। মানুষ পারাপারের সময় পুরো সাঁকোই নড়াচড়া করে। ফলে সামান্য ভারসাম্য হারালেই দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বর্ষা মৌসুমে সাঁকোটি আরো বিপজ্জনক হয়ে উঠে। পানির স্রোতে স্থিতিশীলতা কমে গিয়ে সাঁকোটিতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বহুগুণে বৃদ্ধি পায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সামান্য পা ফসকালেই বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তবুও বিকল্প কোনো পথ না থাকায় প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী বাধ্য হয়ে এই ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো ব্যবহার করছে। বহুবার আবেদন–নিবেদন করা হলেও একটি স্থায়ী সেতুর উদ্যোগ এখনো বাস্তব রূপ পায়নি। অথচ একটি ৩০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মিত হলে শুধু যাতায়াত নয়, এলাকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অর্থনীতিতে আসতে পারে আমূল পরিবর্তন।
শিক্ষার্থীরা জানায়, প্রতিদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়া–আসার পথে এই ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকোই তাদের একমাত্র ভরসা। সামান্য অসাবধানতা বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। যার কারণে তাদের পরিবারও আতঙ্কের মধ্যে থাকে। বর্ষায় পানির বাড়লে ভয় আরো বেড়ে যায়। তবুও বিকল্প না থাকায় বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়েই প্রতিদিন তাদের চলাচল করতে হচ্ছে।
স্থানীয় একাধিক কৃষক জানান, তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারে নিতে বাঁশের সাঁকোটিই একমাত্র ভরসা। যা কোনো যানবাহন চলাচল দূরের কথা, হেঁটে যাওয়ার জন্যও অনুপযোগী। ফলে উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য থেকেও তারা বঞ্চিত হচ্ছেন।
পহর চাঁন্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মুহাম্মদ আবছার উদ্দিন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসীর ভোগান্তির কেন্দ্রবিন্দু এই ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকোটি। বর্ষায় এটি আরো বিপজ্জনক হয়ে উঠে। তখন শিক্ষার্থীদের যাতায়াত আরো দুরূহ হয়ে পড়ে। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও এখনো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি। দ্রুত স্থায়ী সমাধান না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
পুটিবিলা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মুহাম্মদ ইকবাল বলেন, সুখছড়ি খালের ওপর ঝুঁকিপূর্ণ সঁাঁকোটি এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে এই পথ ব্যবহার করছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা গেলে এলাকার মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই কমে যাবে।
লোহাগাড়া উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) কাজী ফাহাদ বিন মাহমুদ জানান, সুখছড়ি খালের ওপর সেতু নির্মাণের প্রস্তাবনা ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে। প্রস্তাবটি অনুমোদন পেলে দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেখানে স্থায়ী সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।













