সম্প্রতি অত্যন্ত দুঃখের সাথে লক্ষ্য করলাম যে বিএনপি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সংক্রান্ত দু’টি অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত না করে ওগুলোকে তামাদি করে দিয়েছে। এই দু’টি অধ্যাদেশ হলো সুপ্রিম কোর্টের আলাদা সচিবালয় প্রতিষ্ঠার অধ্যাদেশ এবং সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগ সংক্রান্ত অধ্যাদেশ। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে পত্র–পত্রিকায় প্রকাশিত একটি কলামে আমি দেশে স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা প্রণয়নের প্রস্তাব সংবলিত এই দুটো অধ্যাদেশকে অন্তর্বর্তী সরকারের শ্রেষ্ঠ অবদান বলে অবহিত করেছিলাম। ঐ কলাম থেকে নিচের উদ্ধৃতিটি এখানেও উল্লেখ করছি: “অন্তর্বর্তী সরকারের সবচেয়ে বড় সাফল্য বিবেচিত হবে সরকারের নির্বাহী বিভাগের নিয়ন্ত্রণ থেকে বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণ স্বাধীন করার জন্য অধ্যাদেশ প্রণয়ন। এই ব্যাপারটাতে সদ্য–অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমদের ঐতিহাসিক অবদানকে জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে। এটর্নি জেনারেল ঠিকই বলেছেন, তিনি ছিলেন এ–ব্যাপারে গ্রীক–পূরাণের ‘প্রমিথিউসের’ মত দৃঢ়চেতা ও লক্ষ্য–পূরণে একাগ্র। অবসর গ্রহণের মাত্র কয়েকদিন আগে তিনি বিচার বিভাগের জন্য আলাদা সচিবালয় প্রতিষ্ঠার কাজটি সম্পন্ন করে বিচার ব্যবস্থার স্বাধীনতার রক্ষাকবচটি প্রতিষ্ঠা করে গেছেন। এর আগে বিচার বিভাগে বিচারকদের নিয়োগ, পদোন্নতি, চাকুরি–পরিবর্তন ও ট্রান্সফারের পুরো ক্ষমতা তিনি নির্বাহী বিভাগের নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত করার ব্যবস্থা করে গেছেন। আমাদের ১৯৭২ সালের সংবিধানে বিচার ব্যবস্থার স্বাধীনতা একটি মৌলিক বিধান হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও স্বাধীন বাংলাদেশের ৫৪ বছরে কোন সরকারই এই সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতাটি বাস্তবায়ন করেনি। ভবিষ্যতেও যাতে কোন সরকার আমলাতন্ত্রের ফাঁদে পড়ে আবার বিচার বিভাগকে কুক্ষিগত করার অপতৎপরতা চালাতে না পারে সে ব্যাপারে জাতিকে সদাজাগ্রত থাকতে হবে।” ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ইশতেহারে এ–ব্যাপারে বর্তমান বিএনপি সরকারের নিম্নোক্ত অঙ্গীকারটি করা হয়েছে:‘বিচার বিভাগের কার্যকর স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ, বিচার ব্যবস্থা সংস্কারের জন্য সুপ্রিম কোর্টের নিয়ন্ত্রণাধীন পৃথক সচিবালয়কে আরো শক্তিশালী করা হবে’। এই সুস্পষ্ট অঙ্গীকারে সুপ্রিম কোর্টের নিয়ন্ত্রণাধীন সচিবালয়কে আরো শক্তিশালী করা হবে বলা হয়েছে। তার সাথে সুপ্রিম কোর্টের পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার অধ্যাদেশটি তামাদি করে ফেলার পদক্ষেপটি কতখানি সংগতিপূর্ণ সে প্রশ্নটি আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অবশ্যই করতে চাই। অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনামলে সরকারের এটর্নি জেনারেল ছিলেন বর্তমান বিএনপি সরকারের আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান। সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমদকে সুপ্রিম কোর্টের পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার একাগ্র প্রয়াসের জন্য গ্রীক পূরাণের ‘প্রমিথিউস’ আখ্যা দিয়ে জনাব আসাদুজ্জামানের ঐ সময়ের বক্তব্যটি কি তাঁকে এখন মুখ ভেংচাচ্ছে না? অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এটর্নি জেনারেল হিসেবে যে অধ্যাদেশগুলোর ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন জনাব আসাদুজ্জামান। যদি এখনো তিনি সুপ্রিম কোর্টের পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার ব্যাপারটিকে সঠিক বিবেচনা করে থাকেন তাহলে অবিলম্বে এ–ব্যাপারে তাঁর বর্তমান অবস্থান ব্যাখ্যা করে কি তাঁর বক্তব্য দেওয়া উচিত নয়? এটা যদি তাঁর অবস্থানের বিপরীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একান্ত ইচ্ছার প্রতিফলন হয়ে থাকে তাহলে বিএনপি’র নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত অঙ্গীকারটি বর্তমান সরকার কীভাবে বাস্তবায়িত করবে সেটা পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন নয় কি? ২০০১–২০০৬ মেয়াদের বিএনপি–জামায়াত জোট সরকারের সময় নির্বাহী বিভাগের নিয়ন্ত্রণের কাছে বিচার বিভাগকে সবচেয়ে বেশি সোপর্দ করার ব্যবস্থা করা হয়েছিল, বিএনপি মনে হয় এখনো তাদের ঐ অবস্থান বদলাতে চাইছে না!
আমার কলামে আমি সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেছিলাম, ১৯৭২ সালে প্রবর্তিত আমাদের সংবিধানের ২২ ধারায় বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার সুস্পষ্ট অঙ্গীকার অন্তর্ভুক্ত থাকা সত্ত্বেও গত ৫৪ বছরে দেশের কোন সরকারই এই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের প্রয়াস নেয়নি। বরং, ধাপে ধাপে বিচার বিভাগকে আরো বেশি আমলাতন্ত্রের এবং সরকারে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল বা জোটের নিয়ন্ত্রণাধীনে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার জন্য সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থাবলী সুপারিশ করে প্রদত্ত জেলা–জজ মাসদার হোসাইন প্রদত্ত রায়কে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার ঐতিহাসিক দলিল বিবেচনা করা হয়। ঐ রায় প্রদানের বয়সও তিন দশক হয়ে গেছে, অথচ এই তিন দশকের মধ্যে একাধিকবার ক্ষমতাসীন বিএনপি কিংবা আওয়ামী লীগ এই ব্যাপারটির সমাধান না করে বরং একেবারেই উল্টোপথে হেঁটেছে। এর ফলশ্রুতিতে সুপ্রিম কোর্টের উচ্চতম আপিল বিভাগ থেকে শুরু করে নিম্নতম আদালতের বিচারক নিয়োগ, পদোন্নতি, ট্রান্সফার সবই দলীয়করণের করাল গ্রাসে নিমজ্জিত হয়ে গেছে। এমনকি, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের কবল থেকে নিম্নতর বিচার ব্যবস্থাকে নিষ্কৃতি প্রদানের বিষয়টি পর্যন্ত আমলাতন্ত্রের ঘোরতর বিরোধিতার শিকার হয়ে বছরের পর বছর আটকে ছিল। বোঝা যাচ্ছে যে আমাদের রাষ্ট্রটি যেহেতু একটি ‘আমলাতান্ত্রিক রাষ্ট্র’ তাই আমলাতন্ত্রের অন্যায় ও অসাংবিধানিক নিয়ন্ত্রণ থেকে বিচার বিভাগকে রক্ষা করা এদেশে একটি বড়সড় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার পরিবর্তনের মাধ্যমেই হতে হবে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ঐতিহাসিক গণ–অভ্যুত্থান ছিল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা পুনর্বিন্যাসের জন্য ঐতিহাসিক সুযোগ সৃষ্টির লগ্ন। ঐ গণ–অভ্যুত্থানের কয়েকদিন পর সুপ্রিম কোর্টে ‘একটি আগ্রাসী মব’ উপস্থিত হয়ে শেখ হাসিনা সরকারের নিয়োগকৃত প্রধান বিচারপতি এবং সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতিগণকে আদালত থেকে পালিয়ে গিয়ে পদত্যাগে বাধ্য করেছিল, একথা নিশ্চয়ই আমরা ভুলে যাইনি। তারপর সৈয়দ রেফাত আহমদকে সরাসরি হাইকোর্টের বিচারপতি থেকে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। সৈয়দ রেফাত আহমদ হাইকোর্টের সবচেয়ে সিনিয়র বিচারপতি ও অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ডক্টরেট ডিগ্রির অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে বারবার ডিঙিয়ে এর আগে স্বৈরশাসক হাসিনার শাসনামলে অন্যান্য অনেককে আপিল বিভাগের বিচারপতি নিয়োগ করা হয়েছিল, তাঁকে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ তো দূরের কথা! কারণ, সৈয়দ রেফাত আহমদ (দেশের স্বনামধন্য ব্যারিস্টার প্রয়াত সৈয়দ ইশতিয়াক আহমদ ও প্রয়াত জাতীয় অধ্যাপক সোফিয়া আহমদের সন্তান) কখনোই সরকারের খয়েরখাঁ হতে রাজি হননি। গণ–অভ্যুত্থানের পর মব সন্ত্রাসের শিকার হয়ে প্রধান বিচারপতি ও সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতির পদ থেকে বিতাড়িত সকলেই সৈয়দ রেফাত আহমদের জুনিয়র ছিলেন। এমনকি, ন্যক্কারজনকভাবে স্বৈরশাসক শেখ হাসিনা হাইকোর্টের সিনিয়র ৩৮ জন বিচারপতিকে ডিঙিয়ে ৩৯তম ও ৪০তম বিচারপতিকে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি নিয়োগ করেছিলেন। অন্তর্বর্তী সরকার হাইকোর্টের সবচেয়ে সবচেয়ে সিনিয়র বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমদকে প্রধান বিচারপতি নিয়োগের পর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আরো পাঁচজন বিচারপতিকে নিয়োগ দিয়েছে। এসব নিয়োগ জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হয়েছে। ৬৭ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার পর সৈয়দ রেফাত আহমদ অবসর গ্রহণ করেছেন, যাঁর স্থলে বর্তমান প্রধান বিচারপতি জোবায়ের রহমান চৌধুরী নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন। এর মানে, অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছর শাসনের মেয়াদে দেশে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগে বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার বিষয়টি মেনে নেয়া হয়েছিল। বিচারপতি নিয়োগ সংক্রান্ত অধ্যাদেশটি প্রায় দেড় বছর সফলভাবে বাস্তবায়িত হওয়ার পর বর্তমান সরকার আবার ব্যাপারটিকে ‘কেঁচে গন্ডুশ’ করতে চাইছে কেন বুঝতে পারলাম না। সুপ্রিম কোর্টের পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার অধ্যাদেশটি জারি করা হয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনামলের একেবারে শেষদিকে, তাই ওটার বাস্তবায়ন এখন কোন্ পর্যায়ে রয়েছে তা জানতে পারলাম না। তবে এই দুটো মহা–গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশকে তামাদি হতে দিয়ে বিএনপি সরকার একটি ঐতিহাসিক ভুল করেছে, যেজন্য সরকার অচিরেই জনরোষের শিকার হতে পারে। সংসদে এই দুটো অধ্যাদেশের ব্যাপারে বিরোধী জোট ইতিবাচক অবস্থান গ্রহণ করেছিল, কিন্তু তাঁদের বিরোধিতা ও প্রবল হৈ চৈ কোন কাজে আসেনি। ইতোমধ্যেই ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এই দুটো অধ্যাদেশকে তামাদি করার পদক্ষেপকে ‘আত্মঘাতী’ আখ্যা দিয়েছেন। ড. বদিউল আলম মজুমদারও এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।
বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন ২০০১–২০০৬ মেয়াদের সরকার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাই কোর্ট বিভাগকে ব্যাপক দলীয়করণের শিকার করেছিলেন তদানীন্তন আইন মন্ত্রী মওদুদ আহমদের পরামর্শ মোতাবেক। হয়তো তখনকার তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতির কথা মাথায় রেখেই এহেন দলীয়করণের দুষ্টচক্রে নিক্ষেপ করা হয়েছিল সুপ্রিম কোর্টকে। পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের অবসরের বয়স ৬৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ৬৭ বছর করার সংবিধান–সংশোধনী পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে বিএনপি’র ঐ গোপন আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেছিল। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের তদানীন্তন প্রধান বিচারপতি কে এম হাসানকে ২০০৬ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা করার গোপন খায়েসেই বিচারপতিদের অবসরের বয়স বাড়ানো হয়েছিল। (হাইকোর্টের বিচারপতি নিয়োগের পূর্বে কে এম হাসান বিএনপি’র পূর্বসূরি জাগদলের আন্তর্জাতিক সম্পাদক ছিলেন, যার পুরস্কার হিসেবেই তাঁকে বিচারপতি নিয়োগ করা হয়েছিল)। কিন্তু, বিএনপি’র ঐ খায়েস বিরোধী দলগুলো ধরে ফেলায় দেশে ২০০৬–৭ সালের প্রবল আন্দোলন গড়ে ওঠে। ঐ আন্দোলনের ঘটনাপ্রবাহের পরিপ্রেক্ষিতেই ১/১১ এর সরকার–পরিবর্তন অপরিহার্য হয়ে উঠেছিল। জনাব তারেক রহমান নিজেই ১/১১ সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার হাতে চরম নির্যাতনের শিকার হয়ে রাজনীতি না করার মুচলেকা দিয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন। অতএব, বিএনপি’র খায়েস যদি আবারো বিচার বিভাগকে নিয়ন্ত্রণের যাঁতাকলে ফেলার উদ্দেশ্যে নিবেদিত হয় তাহলে তাদেরকে এর ভবিষ্যৎ নেতিবাচক অভিঘাত সম্পর্কে সাবধান হতে বলব। ২০০৯ সালে ক্ষমতাসীন হওয়ার পর আওয়ামী লীগ সরকার বিচার বিভাগকে চরম দলীয়করণের গভীর গিরিখাতে নিমজ্জিত করেছিল, যার পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতিগণ সবাই আওয়ামী লীগের ধামাধরা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিল ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ–অভ্যুত্থানের পর। (বেগম জিয়াকে দুর্নীতির দায়ে ২০১৮ সালে ৫ বছরের জেল দিয়েছিল বিচারিক আদালত। এর বিরুদ্ধে আপিল করায় সুপ্রিম কোর্ট বেগম জিয়ার শাস্তিকে ৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করে দিয়েছিল শেখ হাসিনাকে খুশি করার জন্য। ২০২৪ সালের গণ–অভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার তাঁকে মুক্তি দিয়েছিল)। এই উদাহরণগুলো প্রমাণ করে চলেছে, স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা প্রবর্তনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা ৫৪ বছর ধরে সরকারগুলো অনুসরণ না করায় দেশের বিচার বিভাগ ধ্বংসের গহীন গিরিখাতে নিপতিত হয়ে রয়েছে। সৈয়দ রেফাত আহমদ দুটো ঐতিহাসিক অধ্যাদেশ প্রণয়নের ব্যবস্থা করার মাধ্যমে এই গিরিখাত থেকে বিচার ব্যবস্থাকে উদ্ধারের পথে টেনে তোলার পথ দেখিয়েছেন। এখন বিএনপি সেগুলোকে তামাদি করার ব্যবস্থা করায় জাতির কাছে এবং ইতিহাসের কাছে তারা অপরাধী হতে বাধ্য। জাতিকে এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে আকুল আহ্বান জানাই।
লেখক : সাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি, একুশে পদকপ্রাপ্ত অর্থনীতিবিদ ও অবসরপ্রাপ্ত প্রফেসর, অর্থনীতি বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়













