ডি-থ্রি ট্রফির নিলামে সর্বোচ্চ পয়েন্ট পেয়ে আলো ছড়ালেন শরিফুল

স্পোর্টস ডেস্ক | মঙ্গলবার , ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ at ৬:৪৯ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) উদ্যোগে আয়োজিত নতুন ঘরোয়া ডি–থ্রি ট্রফির নিলামে সর্বোচ্চ পয়েন্ট পেয়েছেন বাংলাদেশের পেসার শরিফুল ইসলাম। ডিসেম্বরে শুরু হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্টের দল গঠনের নিলামে তাঁকে পেতে সর্বোচ্চ ২ কোটি ৩০ লাখ পয়েন্ট খরচ করেছে সিটিজেনস ব্যাংক। নিলামে পেসার তাসকিন আহমেদকে ২ কোটি ১০ লাখ পয়েন্টে দলে নিয়েছে ওয়ালটন। ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমকে ২ কোটি পয়েন্টে দলে পেয়েছে ফরচুন। এছাড়া ফরচুন ১ কোটি ৫৫ লাখ পয়েন্ট খরচ করে টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তকে দলে নিয়েছে। একই দামে ওয়ালটনে যোগ দিয়েছেন লিটন দাস। হাসান মাহমুদকে ১ কোটি ৫০ লাখ পয়েন্টে দলে নিয়েছে ব্লুস্টার। একই পরিমাণ পয়েন্টে দল পেয়েছেন সাইফ হাসান। উইকেটকিপার–ব্যাটার জাকের আলী অনিককে পেতে ১ কোটি ৭০ লাখ পয়েন্টের উল্লেখযোগ্য দর হাঁকিয়েছে সিটিজেনস ব্যাংক। ডানহাতি পেসার খালেদ আহমেদকে ১ কোটি ৫০ লাখ পয়েন্টে দলে নিয়েছে সেভেন রিংস সিমেন্ট। প্রচলিত খেলোয়াড় নিলামে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো অর্থের বিনিময়ে খেলোয়াড় দলে নিলেও ডি–থ্রি ট্রফির নিলাম পরিচালিত হয়েছে পয়েন্টভিত্তিক পদ্ধতিতে। ডি থ্রি টুর্নামেন্টে ক্রিকেটার দলে ভেড়ানোর লড়াই হচ্ছে টাকার বদলে পয়েন্টে। নির্ধারিত পয়েন্টের মধ্যে থেকে পছন্দের খেলোয়াড়দের দলে নিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে দলগুলো। ক্রিকেটাররা বিসিবি নির্ধারিত ঘরোয়া ম্যাচ ফি পাবেন। প্রতিটি দলকে স্কোয়াড গঠনের জন্য সর্বোচ্চ ১০ কোটি পয়েন্টের বাজেট দেওয়া হয়েছে। ঘরোয়া ক্রিকেটের সবশেষ ঘোষিত আর্থিক কাঠামে অনুযায়ীই ‘ডি থ্রি’ ট্রফিতে ম্যাচ ফি পাবেন ক্রিকেটাররা। প্রথম শ্রেণির ম্যাচের ফি দেড় লাখ টাকা, একদিনের ম্যাচে ১ লাখ ও টি–টোয়েন্টিতে ৮০ হাজার। ম্যাচ ফি সবারই সমান। তবে টুর্নামেন্টকে আকর্ষণীয় করতে ও ক্রিকেটারদের প্রকৃত মূল্যমান ফুটিয়ে তুলতে বিশেষ ধরনের এই নিলামের আয়োজন করেছে বিসিবি। খেলোয়াড়দের পাঁচটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে। ‘এ’ ক্যাটাগরির ভিত্তিমূল্য ৪০ লাখ পয়েন্ট, ‘বি’ ক্যাটাগরির ৩০ লাখ, ‘সি’ ক্যাটাগরির ২০ লাখ, ‘ডি’ ক্যাটাগরির ১০ লাখ এবং ‘ই’ ক্যাটাগরির ৫ লাখ পয়েন্ট। ‘এ’ ক্যাটাগরির খেলোয়াড় হওয়ায় শরিফুলকে পেতে দল যত পয়েন্টই খরচ করুক না কেন, তিনি পাবেন ৪০ লাখ টাকা। টুর্নামেন্টের ছয়টি ফ্র্যাঞ্চাইজি হলো অ্যাকমি, ফরচুন, ওয়ালটন, সেভেন রিংস সিমেন্ট, সিটিজেনস ব্যাংক ও ব্লুস্টার। নিলামের আগেই ছয় আইকন খেলোয়াড়কে দলগুলোর মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়েছিল। ব্লুস্টারের হয়ে খেলবেন নুরুল হাসান সোহান, ফরচুনে তাওহীদ হৃদয়, অ্যাকমিতে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, সিটিজেনস ব্যাংকে মোহাম্মদ নাঈম শেখ, সেভেন রিংস সিমেন্টে মুশফিকুর রহিম এবং ওয়ালটনের হয়ে মেহেদী হাসান মিরাজ। ‘বি’ ক্যাটাগরির খেলোয়াড়দের মধ্যে সর্বোচ্চ দর পেয়েছেন সাব্বির রহমান। ৩০ লাখ পয়েন্ট ভিত্তিমূল্য থেকে তাঁর দাম উঠেছে ১ কোটি ২০ লাখ পয়েন্টে। তাঁকে দলে নিয়েছে ফরচুন। একই দল ৬৯ লাখ পয়েন্টে পেস বোলিং অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনকে দলে নিয়েছে। আবদুল গাফফার সাকলায়েন ও মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন উভয়কেই ১ কোটি ২০ লাখ পয়েন্টে দলে নিয়েছে ফরচুন। আফিফ হোসেন ধ্রুবকে ৯৯ লাখ পয়েন্টে দলে নিয়েছে ব্লুস্টার। সিটিজেনস ব্যাংক ৪৫ লাখ পয়েন্টে হাসান মুরাদকে দলে পেয়েছে। একই দামে শাদমান ইসলাম অনিককে নিয়েছে সেভেন রিংস সিমেন্ট। অ্যাকমি ৩০ লাখ পয়েন্টে নাঈম হাসান এবং ৪৮ লাখ পয়েন্টে আলিস আল ইসলামকে দলে নিয়েছে। ওয়ালটন ৩৬ লাখ পয়েন্টে দলে নিয়েছে মার্শাল আইয়ুবকে। নিলামের তালিকায় মোট ২৮১ জন ক্রিকেটার ছিলেন। ছয় আইকন খেলোয়াড়কে আগে থেকেই দল দেওয়ায় নিলামে দর হাঁকার জন্য উন্মুক্ত ছিলেন ২৭৫ জন। চূড়ান্ত নিলাম তালিকায় ‘বি’ ক্যাটাগরির খেলোয়াড় ছিলেন ২৫ জন। এদিকে পেসার তানজিম হাসান সাকিব নিলামে অবিক্রীত থেকে গেছেন। তানজিম দীর্ঘদিন ধরে চোটের কারণে মাঠের বাইরে রয়েছেন।

আইকন খেলোয়াড় : মেহেদী হাসান মিরাজ (ওয়ালটন), তাওহীদ হৃদয় (ফরচুন), মোসাদ্দেক হোসেন (অ্যাকমি), মুশফিকুর রহিম (সেভেন রিংস সিমেন্ট), নুরুল হাসান সোহান (ব্লুস্টার), মোহাম্মদ নাঈম (সিটিজেনস ব্যাংক)

হেড কোচ : মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন (ফরচুন), সোহেল ইসলাম (ব্লুস্টার), রাজিন সালেহ (অ্যাকমি), আবদুর রাজ্জাক (ওয়ালটন), হান্নান সরকার (সেভেন রিংস সিমেন্ট), মিজানুর রহমান বাবুল (সিটিজেনস ব্যাংক)।

দলগুলোর চূড়ান্ত স্কোয়াড

ফরচুন গ্রুপ : তাওহীদ হৃদয়, রিশাদ হোসেন, সৌম্য সরকার, নাজমুল হোসেন শান্ত, তানজিদ হাসান তামিম, সাব্বির রহমান, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, তানভীর ইসলাম, এবাদত হোসেন, ফজলে মাহমুদ রাব্বি, মুশফিক হাসান, কামরুল ইসলাম রাব্বি, আকবর আলী, মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, এনামুল হক আশিক, স্বাধীন ইসলাম, শামীম মিয়া, নুহায়েল সানদিদ, মোহাম্মদ হোসেন, নিলয় রঞ্জন শীল, সৈকত আলী, হাফিজুর রহমান ও ইসলামুল আহসান আবির।

ওয়ালটন : মেহেদী হাসান মিরাজ, মুমিনুল হক, লিটন দাস, তাসকিন আহমেদ, মার্শাল আইয়ুব, নাসুম আহমেদ, আরিফুল ইসলাম, রনি তালুকদার, ইকবাল হোসেন ইমন, নাহিদুল ইসলাম, শহিদুল ইসলাম, রেজাউর রহমান রাজা, জিয়াউর রহমান, হাবিবুর রহমান সোহান, সামিউন বাসির রাতুল, চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান, এসএম মেহেরব হোসেন, ইমরানুজ্জামান, আসাদুজ্জামান পায়েল, নাঈম আহমেদ, রবিউল হাসান অনিক, রবিউল ইসলাম রবি ও রাকিব হাওলাদার।

ব্লুস্টার : নুরুল হাসান সোহান, শেখ মেহেদী, হাসান মাহমুদ, নাহিদ রানা, এনামুল হক বিজয়, আফিফ হোসেন, মাহমুদুল হাসান জয়, ইফতেখার হোসেন ইফতি, মাহফিজুল ইসলাম রবিন, আবু হাশিম, আবু হায়দার রনি, সাদিকুর রহমান, কালাম সিদ্দিকী আলীন, সফর আলী, ইয়াসিন হোসেন, রহিম আহমেদ, এনামুল হক আনাম, আজিজুল হাকিম, আবদুর রহিম, আদিল বিন সিদ্দিকী ও শাহাদাত রহমান সম্রাট।

সেভেন রিংস সিমেন্ট : মুশফিকুর রহিম, তাইজুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান, খালেদ আহমেদ, শাদমান ইসলাম, জাকির হাসান, শামীম হোসেন পাটোয়ারী, মোহাম্মদ মিঠুন, মোহাম্মদ ইরফান হোসেন, শেখ পারভেজ জীবন, মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী, মাহফুজুর রহমান রাব্বি, আনিসুল ইসলাম ইমন, এনামুল হক, দেবাশীষ সরকার, আসাদুল্লাহ হিল গালিব, রাফিউজ্জামান রাফি, রিজান হোসেন, রায়ান রাফসান রহমান, তাফসির আরাফাত তাসিব, ফারহান সাদিক ও আবদুল্লাহ আল মুমিন।

অ্যাকমি গ্রুপ : মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, আবদুল গাফফার সাকলায়েন, নাঈম হাসান, আলিস আল ইসলাম, মোহাম্মদ রুবেল, অমিত হাসান, পারভেজ হোসেন ইমন, শাহাদাত হোসেন দীপু, রাকিবুল হাসান, রিপন মন্ডল, মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধ, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, খালিদ হাসান, জাওয়াদ আবরার, মারুফ মৃধা, ইয়াসিন মিয়া, মোহাম্মদ আশরাফুল হাসান, সাব্বির হোসেন, রুয়েল মিয়া, আহরার আমিন পিয়ান, আল আমিন রনি ও অনিক সরকার।

সিটিজেনস ব্যাংক : নাঈম শেখ, সাইফ হাসান, জাকের আলী অনিক, শরিফুল ইসলাম, হাসান মুরাদ, ইয়াসির আলী রাব্বি, সুমন খান, আজিজুল হাকিম তামিম, জিসান আলম, তাইবুর রহমান পারভেজ, আমিনুল ইসলাম বিপ্লব, শুভাগত হোম, শফিকুল ইসলাম, ইরফান শুক্কুর, তোফায়েল হাসান, আল ফাহাদ, মইন খান, আরিফ আহমেদ, লিওন ইসলাম, আশিকুজ্জামান, আবদুল্লাহ আল মুহি, অনিক দেব বর্মণ ও হুমায়ুন আহমেদ।

পূর্ববর্তী নিবন্ধএশিয়া কাপ আরচ্যারীর দুই বিভাগের ফাইনালে বাংলাদেশ
পরবর্তী নিবন্ধশতাব্দীকে হারিয়ে শিরোপা অক্ষুণ্ন রাখলো বাদশা মিয়া স্মৃতি সংসদ