ট্রাম্পের ইরানি নৌযান ধ্বংসের হুমকি, তেলবাহী জাহাজ জব্দ

নতুন যুদ্ধাভিযানের সংকেত?

| শুক্রবার , ২৪ এপ্রিল, ২০২৬ at ৫:৪১ পূর্বাহ্ণ

হরমুজ প্রণালিতে মাইন পাতার চেষ্টা করা যেকোনো নৌযান দেখা মাত্রই গুলি করে ডুবিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। গত বুধবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই কড়া নির্দেশ দেন। ট্রাম্প বলেন, আমি মার্কিন নৌবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছি তারা যেন হরমুজ প্রণালির পানিতে মাইন পাততে আসা যেকোনো ধরনের নৌকা, তা আকারে যতই ছোট হোক না কেন, গুলি করে ধ্বংস করে দেয়। তিনি আরও বলেন, এই নির্দেশের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের দ্বিধা বা জড়তা থাকা চলবে না। পোস্টে ট্রাম্প আরও দাবি করেন, মার্কিন নৌবাহিনীর মাইন পরিষ্কারকারী জাহাজগুলো ‘এই মুহূর্তে’ হরমুজ প্রণালিতে মাইন অপসারণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

তবে, হরমুজ প্রণালিতে মাইন পাতার চেষ্টা করা যেকোনো ছোট নৌযানকে গুলি করে ধ্বংসের যে নির্দেশ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প দিয়েছেন, তাকে কেবল একটি হুমকি হিসেবে দেখছেন না বিশ্লেষকরা। বরং একে আগামী দিনগুলোতে তার এক নতুন যুদ্ধাভিযানের সংকেত হিসেবেই দেখা হচ্ছে। ঠিক কী কারণে ট্রাম্প এই মুহূর্তে এমন কড়া নির্দেশ জারি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশালে পোস্ট দিয়েছেন তা স্পষ্ট না হলেও, মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করছে।

সমপ্রতি মার্কিন কংগ্রেসের এক রুদ্ধদ্বার ব্রিফিংয়ে জানানো হয়েছে যে, হরমুজ প্রণালি থেকে মাইন সরিয়ে নৌপথ নিরাপদ করতে মার্কিন বাহিনীর অন্তত ছয় মাস সময় লাগতে পারে। পেন্টাগনের মূখপাত্র এই তথ্য সঠিক নয় বলে দাবি করলেও বাস্তব পরিস্থিতি হল, যুদ্ধ শেষের পর বিশ্ব অর্থনীতিকে সচল করতে জাহাজ কোম্পানিগুলোর জন্য একটি নিরাপদ ও কার্যকর নৌপথ নিশ্চিত করা জরুরি। আর ট্রাম্প এই বিষয়টি সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন। ট্রাম্পের সামপ্রতিক মন্তব্য এবং হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিটের সামপ্রতিক বক্তব্য বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, ওয়াশিংটন এই সংঘাতের ক্ষেত্রে একটি নতুন পন্থা বেছে নিচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখন বারবার ইঙ্গিত দিচ্ছেন যে, ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র মতো পূর্ণ ও বড় আকারের সামরিক অভিযানের বদলে ইরানি নৌযানগুলোর ওপর সুনির্দিষ্ট ও ছোট আকারের আক্রমণ (পিনপ্রিক স্ট্রাইক) তার কাছে বেশি পছন্দনীয়। খবর বিডিনিউজের।

এই ধরনের অভিযানের নজির যে নেই, তা নয়। গত কয়েক মাস ধরে ক্যারিবীয় সাগর এবং পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে মাদক পাচারকারী নৌকাগুলোর বিরুদ্ধে মার্কিন বাহিনী একই ধরনের ধীরগতির কিন্তু ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে আসছে। এই পন্থার যুদ্ধাভিযান ট্রাম্পকে বড় ধরনের সুবিধা দিতে পারে। একদিকে, এটি ইরানের ওপর মার্কিন নৌঅবরোধ বহাল রাখা এবং বৈশ্বিক অর্থ বাজার থেেেক ইরানকে বিচ্ছিন্ন করে রাখার প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে সহায়ক হবে, অন্যদিকে পূর্ণ যুদ্ধের মতো কোনও গোলমেলে বা অগোছালো পরিস্থিতিতে ফেরার ঝুঁকিও এড়ানো সম্ভব হবে।

সরাসরি বড় যুদ্ধের বদলে ছোট নৌযান ধ্বংসের এই নির্দেশ আদতে ট্রাম্পের এক নতুন সমরকৌশল, যার মূল লক্ষ্যহরমুজ প্রণালিতে ইরানের প্রভাব খর্ব করা এবং মার্কিন নৌ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা।

ভারত মহাসাগরে ইরানের তেলবাহী জাহাজ জব্দ

ভারত মহাসাগরে ইরানের তেল পরিবহনকারী একটি নিষেধাজ্ঞাকবলিত জাহাজ জব্দ করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সএ এক পোস্টে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

প্রতিরক্ষা দপ্তরের বিবৃতিতে বলা হয়, মার্কিন বাহিনী ভারত মহাসাগরে ইরান থেকে তেল পরিবহনকারী ‘এম/টি ম্যাজেস্টিক এক্স’ নামক একটি রাষ্ট্রহীন ও নিষেধাজ্ঞাধীন জাহাজকে বাধা দিয়েছে এবং তল্লাশি অভিযান চালিয়েছে।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ইরানকে ‘বস্তুগত সহায়তা’ দিচ্ছে এমন সন্দেহজনক জাহাজগুলোকে ভবিষ্যতে একইভাবে জব্দ করা অব্যাহত রাখবে মার্কিন সামরিক বাহিনী।

সাধারণত আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন বা শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ডের সন্দেহে কোনও জাহাজকে মাঝসমুদ্রে থামানো এবং তাতে তল্লাশি চালানোকে ‘মেরিটাইম ইন্টারডিকশন’ বা নৌঅবরোধ অভিযান বলা হয়।

উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌঅবরোধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত কয়েক ডজন জাহাজ জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এসব অভিযান ইরানের কাছাকাছি এলাকায় না চালিয়ে ভারত মহাসাগরের দূরবর্তী অঞ্চলে অভিযান পরিচালনা করছে মার্কিন নৌবাহিনী।

পূর্ববর্তী নিবন্ধআগ্রাবাদে ওয়াসার প্রকল্পে মাটি চাপায় দুই শ্রমিক নিহত
পরবর্তী নিবন্ধমার্কিন কোম্পানি থেকে এক কোটি ৩০ লাখ লিটার পাম অলিন কিনছে সরকার