চট্টগ্রাম রিজিওনাল টি–২০ ক্রিকেট টুর্নামেন্টে টানা দুই জয়ে ফাইনালের অনেকটা কাছাকাছি গেছে ইস্পাহানি কর্ণফুলি দল। একটি করে জয় পেয়ে ফাইনালে যাওয়ার লড়াইয়ে আছে টিম সাম্পান এবং ফর্টিস ময়নামতি। চট্টগ্রাম জেলা ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন অঞ্চলের খেলোয়াড়দের নিয়ে গঠিত ইস্পাহানি কর্ণফুলি গতকাল বৃহস্পতিবার ১১ রানে ফিজআপ ভুলুয়াকে পরাজিত করে। আগের দিন তারা ফর্টিস ময়নামতিকে হারিয়েছিল। সাগরিকার বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত গতকাল দিনের প্রথম খেলায় টসে জিতে ফিজআপ ভুলুয়া প্রথমে ব্যাট করতে পাঠায় ইস্পাহানি কর্ণফুলিকে। ইস্পাহানি খেলার ১ বল বাকি থাকতেই ১১৯ রানে সবাই আউট হয়ে যায়। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ রান আসে অধিনায়ক সাজ্জাদুল হক রিপনের ব্যাট থেকে। তিনি ৩০ রান করেন। এছাড়া শহিদ ২১,মিনহাজ উদ্দিন ২০,সাদিকুর রহমান ১৬ এবং তাউসিফ ১২ রান করেন। অতিরিক্ত থেকে আসে ১০ রান। ফিজআপ ভুলুয়ার রায়হান ২ ওভার বল করে ৩ রান দিয়ে ৪টি উইকেটের পতন ঘটান। আহমেদ শরিফ পান ২টি উইকেট। জবাবে ফিজআপ ভুলুয়া কাছাকাছি গিয়েও থেমে যায়। ৩ বল বাকি থাকতেই তারা ১০৮ রানে অলআউট হয়ে যায়। দলের শাহরিয়ার আহমেদ সর্বোচ্চ ৩৯ রান করেন। এছাড়া ওপেনার আল আমিন রনি ১৯,মইনুল ইসলাম ১১,রায়হান ১৩ এবং মাকসুদুর রহমান ১০ রান করেন। ইস্পাহানি কর্ণফুলির পক্ষে সাজেদ রিফাত ১০ রান দিয়ে ৪টি উইকেট দখল করেন। এছাড়া ইফরান হোসেন এবং মো. রুবেল প্রত্যেকে ২টি করে উইকেট নেন। বিজয়ী দলের সাজেদ রিফাত প্লেয়ার অব দি ম্যাচ হন। তার হাতে পুরস্কার তুলে দেন বিসিবি কাউন্সিলর তাউছ বিন বেনী আমীন চৌধুরী এবং ইস্পাহানী ট্রি ট্রেডের এসি. ম্যানেজার মো. ফাতেহ আমিন তারেক। ভ্যালুয়েবল প্লেয়ার অব দি ম্যাচ হন একই দলের মো. শহিদুল ইসলাম। তার হাতে পুরস্কার তুলে দেন সাবেক খেলোয়াড় এবং সংগঠক সাধন দুবে।
একই ভেন্যুতে দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে ফর্টিস ময়নামতি ১০৪ রানের বিশাল ব্যবধানে টিম সাম্পানকে পরাজিত করে। আগের দিন টিম সাম্পান জয় পেলেও ফর্টিস ময়নামতি হেরে গিয়েছিল। এখন দুটি দলই দু’খেলায় একটি করে জয় পেয়েছে। গতকাল টসে জিতে ফর্টিস ময়নামতি প্রথমে ব্যাট করতে নামে। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ২০৬ রানের বড় সংগ্রহ গড়ে তারা। মাত্র ৯ রানে প্রথম উইকেটের পতন দলের পরবর্তী ব্যাটাররা দৃঢ়তার পরিচয় দেন। অধিনায়ক সাদ্দাম হোসেন ৪৭ রান করেন। এছাড়া ইরফান সাবরি এবং শামিম মিয়ার দুই অর্ধশতক দলের রান সংখ্যা দুই শত পার হতে সাহায্য করে। ইরফান ৩২ বলে ৫৫ রান করে আউট হলেও শামিম মিয়া ৩০ বলে ৫৬ রান করে অপরাজিত থাকেন। তাকে যোগ্য সহায়তা দেন সজিব মিয়া ১৬ বলে অপরাজিত ৩২ রান করে। জবাব দিতে নেমে টিম সাম্পান ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১০২ রানে থেমে যায়। ওমর হাসান সর্বোচ্চ ৪৮ রান করেন। অন্যদের মধ্যে জসিমউদ্দিন ১৭ এবং জুনায়েদ হাসান তামিম ১১ রান ছাড়া আর কেউ দুই অংকে যেতে পারেননি। অতিরিক্ত থেকে আসে ১১ রান। ফর্টিস ময়নামতির সাদ্দাম হোসেন ১২ রান দিয়ে ৩টি উইকেট দখল করেন। আশরাফুল হাসান ৮ রান দিয়ে নেন ২টি উইকেট। বিজয়ী দলের প্লেয়ার অব দি ম্যাচ সাদ্দাম হোসেন এবং ভ্যালুয়েবল প্লেয়ার অব দি ম্যাচ শামিম মিয়ার হাতে পুরস্কার তুলে দেন ফর্টিস গ্রুপের প্রতিনিধি আবদুল আহাদ রিপন,বিসিবি কাউন্সিলর এবং বিসিবির মিডিয়া কমিটির জয়েন্ট সেক্রেটারি আবু সাদাত মো. সায়েম, সাবেক ক্রিকেটার এবং সংগঠক ফজলে রাব্বি খান সাজ্জাদ। আজ শুক্রবার টুর্নামেন্টের কোন খেলা নেই।













