টাইমের স্বীকৃতির পর প্রধানমন্ত্রীকে সংসদে অভিনন্দন

| শুক্রবার , ১৭ এপ্রিল, ২০২৬ at ৫:২৭ পূর্বাহ্ণ

টাইম ম্যাগাজিনের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নাম আসার পর জাতীয় সংসদে তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। গতকাল বৃহস্পতিবার সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে চিফ হুইপ বলেন, টাইম ম্যাগাজিন পত্রিকায় বিশ্বের সেরা ১০০ ব্যক্তিত্বের মধ্যে আমাদের নেতা, সংসদ নেতা এবং প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নাম আছে এবং তিনি সম্মানিত হয়েছেন। তিনি সম্মানিত মানে দেশকে সম্মানিত করা, প্রধানমন্ত্রী এই জাতিকে সম্মানিত করেছেন।

নিজের পক্ষ থেকে এবং সংসদের তরফ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক মোবারকবাদ ও ধন্যবাদ জানান নূরুল ইসলাম মনি। তার বক্তব্যের সময় সরকারি দলের সদস্যরা টেবিল চাপড়ে সমর্থন জানান। চিফ হুইপ তার বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক পথচলা ও সামপ্রতিক উদ্যোগগুলোর কথা তুলে ধরেন। খবর বিডিনিউজের।

তিনি বলেন, একসময় উনি ছিলেন নির্বাসিত। ১৭ বছর দেশের বাইরে ছিলেন। ১৭ বছর দেশে আসার পরে মানুষের মধ্যে এরকম আশা জাগিয়েছেন, যে আশায় অনুপ্রাণিত হয়ে সারাদেশের মানুষ অনুপ্রাণিত হয়ে তাকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করে এই সংসদে পাঠিয়েছে। চিফ হুইপের ভাষায়, নির্বাচনের আগে দেওয়া ইশতেহার অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী ভোটের আঙুলের কালি শুকাবার আগেই কাজ শুরু করেছেন। তিনি সংসদে বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মাধ্যমে নারীরা আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পাবেন। পয়লা বৈশাখে কৃষক কার্ড উদ্বোধনের কথাও তিনি তুলে ধরেন। একই সঙ্গে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের জন্য ভাতা, অন্য ধর্মের পুরোহিতদের জন্য সম্মাননার ব্যবস্থা এবং প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণের সুদ মওকুফ করার কথা বলেন নূরুল ইসলাম মনি। তিনি বলেন, আজকের বাংলাদেশের মানুষ তাকে স্বীকৃতি দিয়ে সংসদে পাঠিয়েছে। বিশ্ব তাকে স্বীকৃতি দিয়ে আজকের টাইম ম্যাগাজিনে তাকে স্থান করে দিয়েছে।

বক্তৃতার এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে একটি কবিতা আবৃত্তি করেন চিফ হুইপ। তবে কবিতাটি কার লেখা, তা তিনি বলেননি। কবিতার শুরুতে তিনি বলেন– “তিনি আসার আগে দেশটা যেন ভাজ করা মানচিত্র ছিল।/ নদী ছিল, মানুষ ছিল স্বপ্নও ছিল/ কিন্তু দিগন্ত খুলে দেওয়ার মত কোনো হাত ছিল না।” এরপর তিনি পড়েন-“তিনি এলেন, বললেন, খুবই কম কথা/ সময়ের কপালে লিখে দিলেন একটি উজ্জ্বল উচ্চারণ/ বললেন উই হ্যাভ এ প্ল্যান।”

কবিতার পরের অংশে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্ব, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এবং দেশ সম্পর্কে নতুন আত্মবিশ্বাসের কথা আসে। চিফ হুইপ আবৃত্তি করেন– “বিশ্বের বড় বড় দরজায় তিনি কড়া নাড়েননি/ নিজের আলোয় দাঁড়িয়েছিলেন/ দরজাগুলো নিজেই খুলে গেছে/ এখন দূর দেশের আকাশেও আমাদের পতাকার রং দেখা যায়/ বিদেশি বাতাসেও শোনা যায় এই মাটির নাম/ এই দেশের নাম, বাংলাদেশের নাম।” কবিতার শেষাংশে তিনি বলেন-“নেতৃত্ব মানে শুধু সামনে হাঁটা নয়/ নেতৃত্ব মানে অসংখ্য ক্লান্ত মানুষের চোখে স্বপ্ন জাগিয়ে তোলা/ আশা জাগিয়ে তোলা।”

চিফ হুইপের বক্তব্যের পর ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, এই অর্জন আমাদের গোটা জাতি তথা দেশের অর্জন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধদুই দিনে বাজার থেকে ১২ কোটি ডলার কিনল বাংলাদেশ ব্যাংক
পরবর্তী নিবন্ধবিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার শুরু আজ