জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের কি আর কোনো পথ আছে ট্রাম্পের?

| শুক্রবার , ৩ জুলাই, ২০২৬ at ৪:৩৫ পূর্বাহ্ণ

জন্মসূত্রে যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব বাতিলের চেষ্টায় সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বড় ধাক্কা খাওয়ার পর অন্যান্য পথ বা উপায় থাকতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে আইনি ও অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মার্কিন সংবিধান সংশোধন করা ছাড়া সাধারণ কোনো আইনের মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষে এই নাগরিকত্ব কাঠামো পরিবর্তন করা প্রায় অসম্ভব।

গত মঙ্গলবার ৬৩ ভোটে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিল নিয়ে ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ খারিজ করে দিয়েছেন। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পর জারি করা ওই আদেশে বলা হয়েছিল, যেসব শিশুর মাবাবা অস্থায়ী বৈধ মর্যাদায় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন অথবা বৈধ কাগজপত্র ছাড়া আছেন, তাদের শিশুরা যুক্তরাষ্ট্রে জন্মালেও স্বয়ংক্রিয়ভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব পাবে না। খবর বিডিনিউজের।

ইতালির ফ্লোরেন্সে অবস্থিত ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি ইনস্টিটিউটের রবার্ট শুম্যান সেন্টারের প্রভাষক রেইনার বাউবক বলেন, সুপ্রিম কোর্টের রায় আশ্চর্যজনক না হলেও এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, এটি নথিপত্রহীন অভিবাসীদের সন্তানদের অন্তর্ভুক্ত করে মার্কিন রাজনৈতিক ব্যবস্থার একটি উদার ও অন্তভুক্তিমূলক ধারণাকে রক্ষা করেছে। বাউবক আল জাজিরাকে জানান, ভবিষ্যতে আইন করে এই ব্যবস্থা পরিবর্তন করার সম্ভাবনা তেমন নেই।

আদালত সংবিধানের একটি স্পষ্ট ও আক্ষরিক ব্যাখ্যা দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করায় সাধারণ আইনের মাধ্যমে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার ক্ষেত্রে কংগ্রেসের রিপাবলিকান সংখ্যাগরিষ্ঠদের সব পথ বন্ধ হয়ে গেছে। এখন এটি বদলাতে হলে সংবিধান সংশোধন করতে হবে, যার সম্ভাবনা কার্যত শূন্য।

যুক্তরাজ্যের বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিবাসন বিষয়ক প্রভাষক নান্দো সিগোনা একই মত প্রকাশ করে বলেন, কংগ্রেস যদি সংবিধান সংশোধনের মতো অত্যন্ত কঠিন পথ বেছে না নেয়, যার জন্য ব্যাপক দ্বিপক্ষীয় সমর্থন প্রয়োজন, তবে কেবল সাধারণ আইন পাসে তাদের যে কোনও চেষ্টা আদালতে একরকম নিশ্চিতভাবেই তাৎক্ষণিক সাংবিধানিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধনজরুলের সংগ্রামী চেতনা নতুন প্রজন্মের মাধ্যমে ছড়িয়ে দিতে হবে
পরবর্তী নিবন্ধদুবাই থেকে চট্টগ্রাম হয়ে ঢাকায় আসা ফ্লাইটে ১৯ কেজি স্বর্ণ