চুরি-ছিনতাই করা ১৫৭ মোবাইল, ল্যাপটপ আইএমইআই পরিবর্তনের সরঞ্জাম উদ্ধার

নন্দনকাননে ভাড়া বাসায় অভিযান, চক্রের মূলহোতাসহ গ্রেপ্তার ৫

আজাদী প্রতিবেদন | শুক্রবার , ২৬ জুন, ২০২৬ at ৫:২৯ পূর্বাহ্ণ

নগরীতে চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া মোবাইল ফোনের আইএমইআই নম্বর পরিবর্তন করে বিক্রির অভিযোগে সংঘবদ্ধ চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১৫৭টি মোবাইল ফোন, পাঁচটি ল্যাপটপ, নগদ ১ লাখ এক হাজার ৫০০ টাকা, আইএমইআই পরিবর্তনের যন্ত্রপাতি ও বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরের দামপাড়া পুলিশ লাইন্সের মিডিয়া সেন্টারের প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন সিএমপির উপকমিশনার (দক্ষিণ) মো. হাবিবুর রহমান প্রাং। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, জাহাঙ্গীর হোসেন প্রকাশ জাহাঙ্গীর মনি (৫২), চক্রের মূলহোতা মুহাম্মদ সোহেল উদ্দিন প্রকাশ পার্টি সোহেল (৩৫), তার সহযোগী আবু সাঈদ (৩৪), মো. শামীম (২৪) ও সাইফুল ইসলাম (১৯)

সিএমপির উপপুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মো. হাবিবুর রহমান প্রাং জানান, কোতোয়ালী থানা পুলিশের একটি দল গত বুধবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে প্রথমে ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে জাহাঙ্গীর মনিকে গ্রেপ্তার করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নন্দনকানন আবাসিক এলাকার হাশেম সাহেবের বিল্ডিংয়ের নিচতলার ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে চক্রের মূলহোতা মুহাম্মদ সোহেল উদ্দিন ওরফে পার্টি সোহেল এবং তার তিন সহযোগী আবু সাঈদ, মো. শামীম ও সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আরো বলেন, অভিযানে তাদের কাছ থেকে ২৪টি আইফোনসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোট ১৫৭টি মোবাইল ফোন, ৫টি ল্যাপটপ, ২০১টি মোবাইল সিম, এক লাখ এক হাজার ৫০০ টাকা নগদ, ৪৪৫টি মোবাইল ফোনের কেসিং, বিভিন্ন চার্জার, মাল্টিপ্লাগ, মাইক্রোস্কোপ এবং মোবাইল ফোনের আইএমইআই পরিবর্তনের যন্ত্রপাতি উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা জানিয়েছে, তারা বিভিন্ন চোর ও ছিনতাইকারী চক্রের কাছ থেকে স্বল্পমূল্যে মোবাইল ফোন সংগ্রহ করত। এরপর বিশেষ সফটওয়্যার ও ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে ফোনগুলোর আইএমইআই নম্বর ও কেসিং পরিবর্তন করে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করত। এ ঘটনায় কোতোয়ালী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত মূলহোতা পার্টি সোহেলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় চুরি ও ছিনতাইসহ আটটি মামলা রয়েছে। এছাড়া জাহাঙ্গীর মনির বিরুদ্ধে চারটি এবং আবু সাঈদের বিরুদ্ধে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের বাসন থানায় একটি হত্যা মামলা রয়েছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধফটিকছড়িতে পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু
পরবর্তী নিবন্ধরাজস্ব আয় ১২ কোটি ৮০ লাখ টাকা, নদী ভাঙন রোধে খরচ ৮০ কোটি