খাগড়াছড়িতে ভুয়া পে–অর্ডার সৃজন ও তা দরপত্রের সাথে দাখিলের মাধ্যমে সেতু নির্মাণ প্রকল্পের কার্যাদেশ হাসিলের একটি মামলায় চীনে বসে সাক্ষ্য দিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা। গত মঙ্গলবার চট্টগ্রামের বিভাগীয় বিশেষ জজ মো. মিজানুর রহমান খানের আদালতে ভার্চুয়ালি হাজির হয়ে দুদকের উপপরিচালক সৈয়দ নজরুল ইসলাম এ সাক্ষ্য দেন। বর্তমানে চীনের সাউথওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি অব পলিটিক্যাল সায়েন্স এন্ড ল (এসডব্লিওইউপিএল) এর অধীন পিএইচডি প্রোগ্রামে অধ্যয়নের জন্য বৈদেশিক অধ্যয়ন ছুটিতে আছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা সৈয়দ নজরুল ইসলাম। আদালতের সমন পাওয়ার পর তিনি দুদকের বিশেষ পিপি মোহাম্মদ জাহিদুল করিমের সাথে যোগাযোগ করে ভার্চুয়ালি সাক্ষ্য দিতে সম্মতি জানান। এরই প্রেক্ষিতে বিচারক তার সাক্ষ্য রেকর্ড করেন।
দুদকের বিশেষ পিপি মোহাম্মদ জাহিদুল করিম গতকাল দৈনিক আজাদীকে এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, শুনানিতে আমরা ও আসামি পক্ষের আইনজীবীরা অনলাইনে যুক্ত ছিলাম। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১২–২০১৩ অর্থ বছরে খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙা উপজেলায় ‘বাস্তবায়নাধীন চন্দ্রকাপা–বান্দরসিং পাড়া রাস্তায় খালেক মেম্বারের বাড়ি সংলগ্ন ছড়ার উপর ৪র্০ দৈর্ঘ্য সেতু নির্মাণ প্রকল্প’ বরাদ্দ দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে যে, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, ব্যাংক কর্মকর্তা, ঠিকাদারসহ ৫ জন ব্যক্তি যোগসাজশে ভুয়া ব্যাংক গ্যারান্টি/পে–অর্ডার সৃজন ও তা দরপত্রের সাথে দাখিল পূর্বক সঠিক হিসেবে প্রদর্শন করে কার্যাদেশ হাসিলের মাধ্যমে অবৈধভাবে লাভবান হয়েছেন। এ ঘটনার প্রাথমিক অনুসন্ধানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর ২০১৫ সালের ৪ই মার্চ দুদকের উপপরিচালক মো. সফিকুর রহমান ভূঁইয়া বাদী হয়ে মাটিরাঙা থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় প্রাক্তন প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী, অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি’র সাবেক ব্যবস্থাপক করুনা বিশ্বাস চাকমা, অগ্রণী ব্যাংকের সাবেক অফিসার উদয়ন কর দেওয়ান, রিপ এন্টারপ্রাইজের মালিক মংসুইপ্রু চৌধুরী (অপু) ও ঠিকাদার কপি রঞ্জন ত্রিপুরাকে আসামি করা হয়। তদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ১১ ডিসেম্বর দুদকের তৎকালীন সহকারী পরিচালক সৈয়দ নজরুল ইসলাম ৪ জন আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। পরে মামলাটি বিচারের জন্য বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালত, চট্টগ্রাম–এ স্থানান্তর করা হয়। এ নিয়ে এ মামলায় ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য রেকর্ড করেছেন বিচারক।












