চিকিৎসা সেবা যখন বাণিজ্যিক পণ্য

এস.এম নাঈম উদ্দীন | শুক্রবার , ৩ জুলাই, ২০২৬ at ৪:৪২ পূর্বাহ্ণ

চিকিৎসা মানুষের মৌলিক অধিকার’ খাতাকলমে এই বাক্যটি উজ্জ্বল থাকলেও বর্তমান বাস্তবতায় তা যেন কেবলই এক নির্মম পরিহাস। আজ ধনী ও গরিবের মাঝে চিকিৎসার যে বিশাল বৈষম্য তৈরি হয়েছে, তা সমাজকে এক চরম অমানবিকতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। পবিত্র যে পেশাটিকে একসময় নিঃস্বার্থ ‘সেবা’ হিসেবে গণ্য করা হতো, পুঁজিবাদী মানসিকতার করাল গ্রাসে তা আজ একটি লাভজনক ‘ব্যবসায়’ রূপান্তরিত হয়েছে। প্রতিনিয়ত একশ্রেণির অসাধু চিকিৎসক এবং বাণিজ্যিক হাসপাতালগুলোর সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়ছে সাধারণ মানুষ। সবচেয়ে ভয়াবহ চিত্রটি দেখা যায় অযাচিত ও অপ্রয়োজনীয় মেডিকেল টেস্টের হিড়িকে। একজন দিনমজুর বা নিম্নবিত্ত মানুষ যখন বুকভরা আশা নিয়ে ডাক্তারের শরণাপন্ন হন, তখন রোগের চিকিৎসার চেয়ে তার হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয় একগাদা দামি টেস্টের লম্বা তালিকা। বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সাথে কমিশন বাণিজ্যের এই নোংরা খেলায় অসহায় দরিদ্র পরিবারগুলো হয়রানির শিকার হচ্ছে, হারাচ্ছে তাদের শেষ সম্বল। অনেক ক্ষেত্রে সামান্য রোগের জন্য করা এসব ব্যয়বহুল পরীক্ষার খরচ জোগাতে গিয়ে গরিব মানুষকে ভিটামাটিও বিক্রি করতে হচ্ছে, ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়তে হচ্ছে। চিকিৎসা খাতের এই লাগামহীন বাণিজ্যিকীকরণ বন্ধ হওয়া এখন সময়ের দাবি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবাস্তবতার কাছে হেরে যায় স্বপ্ন
পরবর্তী নিবন্ধসামাজিক অস্থিরতা ও ক্রমবর্ধমান অপরাধ প্রবণতা