চাল ছাড়াই টিসিবির প্যাকেজ,ক্ষুব্ধ স্মার্ট কার্ডধারীরা

চলতি মাসে যুক্ত হচ্ছে লবণ!

শুকলাল দাশ | শনিবার , ৮ আগস্ট, ২০২৬ at ৮:৪৯ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রামে টিসিবির স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডধারী পরিবারগুলো জুলাই মাসের প্যাকেজে অন্যান্য পণ্যের সঙ্গে চাল পাননি বলে অভিযোগ করেছেন। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) সরকারি নির্দেশনায় স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডধারী নিম্ন আয়ের পরিবারের মাঝে ভর্তুকি মূল্যে প্রতিমাসে চাল, ডাল, তেল, চিনিসহ ৫৩০ টাকার প্যাকেজে পণ্য দিয়ে থাকে। টিসিবির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, টিসিবির স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডধারী প্রতিটি পরিবারের মাসিক প্যাকেজে ৫ কেজি চাল, ২ লিটার সয়াবিন তেল, ১ কেজি চিনি ও ২ কেজি মসুর ডাল পেয়ে থাকে। এই চারটি পণ্যের বাইরেও সম্প্রতি ৫০০ গ্রাম সিনথেটিক ডিটারজেন্ট (হুইল) পাউডার, ১ পিস লন্ড্রি সাবান ও ১ পিস টয়লেট সাবান (লাঙ) দেয়া হচ্ছে ১৩০ টাকায়। কিন্তু গত জুলাই মাসে টিসিবির প্যাকেজে অন্যান্য নিত্যপণ্য সামগ্রী দেয়া হলেও চাল দেওয়া হয়নি। বর্তমান চালসহ নিত্যপণ্যের ঊর্ধগতির এই সময়ে টিসিবির অর্ধেক দামের (প্রতি কেজি ৩০ টাকা) চাল না পেয়ে হতাশ হয়েছেন স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডধারী নিন্ম আয়ের পরিবারগুলো। এদিকে চট্টগ্রাম টিসিবি আঞ্চলিক কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, টিসিবির পণ্যে নতুন করে লবণ যুক্ত হচ্ছে। তবে তার পরিমাণ ও দাম নিয়ে এখনও কিছু জানা যায়নি। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে টিসিবির চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের অফিস প্রধান মোঃ মিশকাতুল আলম আজাদীকে জানান, জুলাই মাসে চালের বরাদ্দ দেয়া হয়নি। চলতি মাসের প্যাকেজের সঙ্গে চাল দেয়া হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি ঢাকায় হেড অফিসে যোগাযোগ করতে বলেন।

এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক শেখ রিয়াদ কামাল রনি আজাদীকে জানান, গত মাসে টিসিবি আমাদেরকে চালের চাহিদা দেয়নি। টিসিবি প্রতি মাসে আমাদেরকে যেটা চাহিদা দেয়আমরা সেটা বরাদ্দ দিই। মন্ত্রণালয় আমাদেরকে অনুমোদন দেয়। আর চলতি মাসের (আগস্ট মাসের) বরাদ্দ এখনো শুরু হয়নি।

ভোক্তাদের অভিযোগ, জুলাই মাসে টিসিবির পণ্যের সাথে আমরা চাল পাইনি। বর্তমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধগতির এই সময়ে সরকারি সস্তা দামে চাল (প্রতি কেজি ৩০ টাকা দামে) পেলে আমাদের জন্য উপকার হয়।

নগরীর বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডের টিসিবির ডিলাররা আজাদীকে জানান, টিসিবির ফ্যামিলি কার্ডধারী প্রতিটি পরিবারের মাসিক প্যাকেজে ৫ কেজি করে চাল থাকে। গত মাসে আমাদেরকে চাল দেয়া হয়নি। চাল ছাড়া ভোক্তারা অন্যান্য পণ্যগুলো নিতে চায়না। মাসিক প্যাকেজে চাল না পেয়ে অনেকেই আমাদের সঙ্গে ঝগড়া করতে চায়।

এ ব্যাপারে ২৬নং ওয়ার্ডের ডিলার মোহাম্মদ ইয়াসিন বলেন, গ্রাহকরা টিসিবির পণ্যের সাথে চাল না পেলে অন্যান্য পণ্যগুলো নিতে গড়িমসি করে। চাল দিলে আমাদেরও উপকার হয়।

একই কথা জানান, ৪০নং ওয়ার্ডের ডিলার মোহাম্মদ আফসার। তিনি জানান, চাল ছাড়া গ্রাহক পণ্য নিতে চান না। এতে করে মাস শেষে পণ্য রয়ে যায়।

টিসিবির প্রতিমাসের নিত্যপণ্যের প্যাকেজের সাথে চালের বরাদ্দ খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে দেয়া হয়। টিসিবির চাহিদার প্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর খাদ্য অধিদপ্তর প্রতি মাসের চালের বরাদ্দ দিয়ে থাকে।

তবে গত মাসে (জুলাই মাসে) টিসিবি চালের চাহিদা চট্টগ্রাম জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের দপ্তরে পাঠায়নি বলে জানা গেছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়ে অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সতর্ক করল পুলিশ
পরবর্তী নিবন্ধপ্রকৃতি সংরক্ষণ করেই পর্যটনের উন্নয়ন চেষ্টা করতে হবে