দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমির অব্যবহৃত জায়গাগুলো কেন কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যায়নি, তার কারণ খুঁজে বের করতে বলেছেন ধর্ম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম ও এর আশপাশের অঞ্চলের হজযাত্রীদের প্রয়োজনীয় আবাসন, প্রশিক্ষণ সেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই জায়গাটিকে আরো কার্যকরভাবে ব্যবহার করার সুযোগ রয়েছে। এই বিষয় সংশ্লিষ্টদের নিয়ে পর্যালোচনা করে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা গ্রহণ করে এসব জায়গাকে জনকল্যাণমূলক ও প্রশিক্ষণমূলক কাজে ব্যবহার করা সম্ভব কিনা, তা খতিয়ে দেখা হবে।
তিনি গতকাল শনিবার চট্টগ্রাম ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমির মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত আলেম–ওলামা, কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক মোস্তফা মনসুর আলম খাঁন।
মোহাম্মদ শামীম কায়সার বলেন, দেশের অর্থনীতি দীর্ঘদিন ধরে নানা সংকট ও সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়ে এগিয়েছে। ফলে সরকারের সামনে অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবে এসব সীমাবদ্ধতাকে দুর্বলতা হিসেবে না দেখে শক্তিতে পরিণত করে জনগণের কল্যাণে সর্বোচ্চ কার্যকরভাবে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, সরকারের সম্পদ ও সুযোগ সীমিত, কিন্তু মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেশি। তাই বিদ্যমান সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে, অপচয় ও অব্যবস্থাপনা দূর করতে হবে। এসময় আলেম–ওলামা ও ইমামদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের একার পক্ষে সমাজের সব সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়। এজন্য রাষ্ট্র, সমাজ, আলেম–ওলামা, ইমাম এবং সাধারণ জনগণকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। আমাদের সীমাবদ্ধতাগুলোকে শক্তিতে পরিণত করে আপনাদের সঙ্গে নিয়ে আমরা যেন সবচেয়ে কার্যকরভাবে কাজ করতে পারি– এটাই আমাদের লক্ষ্য। তিনি বলেন, সমাজে নৈতিকতা ও মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় ইমাম ও আলেম–ওলামাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের মাঝে সত্য, ন্যায়, সততা ও তাকওয়ার শিক্ষা ছড়িয়ে দিতে ইমামদের আরো কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইমামদের শুধু নামাজের ইমাম হলেই হবে না, তাদের মুত্তাকিদের ইমাম হওয়ার চেষ্টা করতে হবে। এজন্য নিজেদের জীবনেও তাকওয়া, সততা, ন্যায়পরায়ণতা ও আমল প্রতিষ্ঠা করতে হবে। মানুষকে দ্বীনের পথে আহ্বান করতে হলে হিকমত ও প্রজ্ঞার সঙ্গে কথা বলতে হবে। আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের নির্দেশনা মেনে চলার পাশাপাশি মানুষের বাস্তবতা বুঝে সুন্দর ও যুক্তিসংগতভাবে ইসলামের শিক্ষা মানুষের কাছে তুলে ধরতে হবে। তিনি বলেন, একটি সুন্দর ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন যথেষ্ট নয়, মানুষের নৈতিক ও চারিত্রিক উন্নয়নও প্রয়োজন। আর এই জায়গায় ইমাম ও আলেম–ওলামাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, মসজিদ শুধু নামাজ আদায়ের স্থান নয়, এটি মানুষের নৈতিক ও সামাজিক শিক্ষারও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। ইমামদের খুতবা, ওয়াজ ও ধর্মীয় আলোচনার মাধ্যমে সমাজে মাদক, সন্ত্রাস, দুর্নীতি, অন্যায়, অসততা ও সামাজিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরি করা সম্ভব।
মানুষের মাঝে বিভেদ সৃষ্টি না করে ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব, সহমর্মিতা ও শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দিতে হবে। ধর্মীয় জ্ঞানকে মানুষের কল্যাণে কাজে লাগাতে হবে।












