চট্টগ্রামে শোকের ছায়া

আজাদী ডেস্ক

শুক্রবার , ৮ নভেম্বর, ২০১৯ at ৩:৫৬ পূর্বাহ্ণ
380

বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, জাসদ নেতা মঈন উদ্দিন খান বাদল এমপির মৃত্যুতে চট্টগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। গতকাল ভোরে তিনি ভারতের বেঙ্গালুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। জাসদের একাংশের কার্যকরী সভাপতি বাদল ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন। একাত্তরের এই মুক্তিযোদ্ধা টানা তিনবার চট্টগ্রামের বোয়ালখালী-চান্দগাঁও আসন থেকে জোটের প্রার্থী হিসেবে সাংসদ নির্বাচিত হন।
বাদলের মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়ে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য, সমাজবিজ্ঞানী অনুপম সেন বলেছেন,
‘তিনি ছিলেন একজন মুক্তিযোদ্ধা। তাঁর মৃত্যুতে বাংলাদেশ একজন সত্যিকারের দক্ষ পার্লামেন্টারিয়ানকে হারাল। গণতন্ত্রের ভিত্তি হল সংসদ। দেশের পার্লামেন্টারি সিস্টেমকে সমৃদ্ধ করতে তিনি ভূমিকা রেখেছেন।’ তাঁর মৃত্যু চট্টগ্রামের জন্য ‘এক বড় ক্ষতি’ উল্লেখ করে অনুপম সেন বলেন, ‘চট্টগ্রামের দাবি দাওয়া তিনি সংসদে তুলে ধরতেন। শেষদিকে কালুরঘাট সেতু নির্মাণের জন্য সোচ্চার ছিলেন।’
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘কয়েক বছরের ছোট হলেও তার সাথে আমার ঘনিষ্ঠতা ছিল খুব। আমাদের সমসাময়িক সবাই চলে গেছে, আজ বাদলও চলে গেল। শুধু আমি রয়ে গেলাম। সে গণমানুষের নেতা ছিল। ছাত্রজীবন থেকেই আন্দোলন সংগ্রামে সোচ্চার থাকত। মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের পরিচয় দিয়েছিল। আমার দেখা বাংলাদেশের সেরা কয়েকজন পার্লামেন্টারিয়ানের মধ্যে বাদল একজন। সংসদে তার বক্তব্য ছিল বস্তুনিষ্ঠ, জোরালো ও যুক্তি নির্ভর।’ খবর বিডিনিউজের।
তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘তার মৃত্যুতে আমি নিজ জেলার একজন মুক্তিযোদ্ধা ও বলিষ্ঠ রাজনৈতিক নেতাকে অকালে হারালাম।’ মঈনউদ্দিন খান বাদলকে ‘বীর চট্টলার গৌরব’ আখ্যায়িত করে মহিউদ্দিনপুত্র শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, ‘মনে হচ্ছে যেন আবারও পিতৃহারা হলাম। চট্টগ্রামের স্বার্থে, মুক্তিযুদ্ধের স্বার্থে, দেশের সাধারণ মানুষের স্বার্থে জাতীয় সংসদ থেকে শুরু করে কোথায় ছিল না তার গর্জন? প্রথম তার সাথে আমার পরিচয় শৈশবে। এরশাদের দোর্দণ্ড শাসনের সময়, তৎকালীন পিজি হাসপাতাল, আজকের বঙ্গবন্ধু মেডিকেলের রাজবন্দীদের কক্ষে। আমার বাবার প্রিজন সেলের সহবন্দী ছিলেন। এরশাদের সাথে আপস করে মন্ত্রী হতে পারতেন, কিন্তু বেছে নিয়েছিলেন বন্দীজীবন।’
অতীতের স্মৃতি চারণ করে নওফেল বলেন, ‘রাজনৈতিক আলোচনা যে শুধুই পদবির আর ক্ষমতার রাজনীতি নয় এবং রাষ্ট্রনীতি, আদর্শ, উন্নয়ন, এসবই হচ্ছে রাজনীতির মূল আলোচনা, বারবার তাঁর সান্নিধ্যে এসে তা অনুভব করেছি এবং অনুপ্রাণিত হয়েছি। বাংলাদেশের রাজনীতি আরও একজন বিরল প্রজ্ঞাবান রাজনীতিবিদকে হারাল, এক অপূরণীয় ক্ষতি। জাতীয় সংসদ আর জাতীয় রাজনীতি, হয়তো বা এই সিংহের গর্জন আর শুনবে না, কিন্তু চট্টগ্রামের মানুষ, বাংলাদেশের মানুষ, আদর্শিক রাজনীতির এই সিংহ পুরুষকে আজীবন স্মরণ করবেন। বেঁচে থাকবেন আমাদের প্রিয় মাঈনুদ্দিন খান বাদল, আমাদের হৃদয়ের মনিকোঠায়।’
চীনে অবস্থানরত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন এক বার্তায় সাংসদ বাদলের মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছেন। মেয়র বলেন, ‘তিনি ছিলেন একাত্তরের রণাঙ্গনের একজন বীর সেনানী। সামপ্রদায়িকতা ও মৌলবাদের সাথে তিনি কখনও আপস করেননি। সামপ্রদায়িকতা ও মৌলবাদ বিরোধী সংগ্রামে তার সোচ্চার কন্ঠ জাতি আজীবন শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে।’
বোয়ালখালী-চান্দগাঁও আসনে গত ডিসেম্বরের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন আবু সুফিয়ান। ভোটের মাঠে বাদলের প্রতিদ্বন্দ্বী দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান বলেন, ‘এই বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী রাজনীতিবিদের প্রয়ানে গভীর শোক প্রকাশ করছি। এ বছরের ডিসেম্বরর মধ্যে কালুরঘাট সেতুর কাজ শুরু না হলে তিনি সংসদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছিলেন। সরকারের কাছে দাবি, অনতিবিলম্বে এই ব্রিজের কাজ শুরু করুন। উনার বিদেহী আত্মা শান্তি পাবে।’
এছাড়া পৃথক পৃথক বার্তায় শোক জানিয়েছেন, আওলাদে রাসূল আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ তাহের শাহ্‌ (মা.জি.আ), শাহাজাদা আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ কাশেম শাহ্‌ (মা.জি.আ.), শাহাজাদা আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ হামিদ শাহ্‌ (মা.জি.আ.), এম এ লতিফ এমপি, এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী এমপি, প্রফেসর ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী এমপি, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এম এ সালাম, সাবেক মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী, মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমদ, সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ মাহমুদুল হক, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ পরিবার, পিএইচপি ফ্যামেলির চেয়ারম্যান সুফি মুহাম্মদ মিজানুর রহমান, বিজিএমইএ প্রথম সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আবদুস সালাম, চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম, সিনিয়র সহ-সভাপতি ওমর হাজ্জাজ ও সহ-সভাপতি তরফদার মো. রুহুল আমিন, চট্টগ্রাম কলেজিয়েটস্‌ এর সভাপতি এম এ মালেক, সিনিয়র সহ সভাপতি আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মোস্তাক হোসাইন, নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, এরশাদ উল্লাহ, এম.এ হাশেম রাজু, দক্ষিণ জেলা বিএনপির মোহাম্মদ আজিজুল হক, ওয়ার্কাস পার্টির চট্টগ্রাম জেলা সভাপিত আবু হানিফ, সাধারণ সম্পাদক শরীফ চৌহান, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি চট্টগ্রাম জেলার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবদুল নবী, সাধারণ সম্পাদক অশোক সাহা, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জসিম উদ্দিন বাবুল, সদস্য তৈয়বুর রহমান, বেলায়েত হোসেন, সুযশময় চৌধুরী, উপদেষ্টা আহমদ শরীফ, মহানগর সহ-সভাপতি মফিজুর রহমান, মহানগর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সেলিম চৌধুরী, মহানগর সাংগঠনিক সম্পাদক মঈনুল আলম খান, চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন, মহাসচিব মো. কামাল উদ্দিন, আনজুমান ট্রাস্টের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ মহসিন, সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, কেন্দ্রীয় গাউসিয়া কমিটির চেয়ারম্যান পেয়ার মোহাম্মদ, মহাসচিব মুহাম্মদ সাহাজাদ ইবনে দিদার, জামেয়া মাদ্‌রাসার চেয়ারম্যান প্রফেসর মুহাম্মদ দিদারুল ইসলাম, অধ্যক্ষ মুফতি মাওলানা সৈয়দ মুহাম্মদ অছিয়র রহমান, জাসদ নেতা ইন্দু নন্দন দত্ত, এডভোকেট আবু মো. হাসেম, নুরুল আলম মন্টু, জাহাঙ্গীর হোসেন চৌধুরী, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান আল্লামা ছৈয়দ বাহাদুর শাহ মোজাদ্দেদী, মহাসচিব অধ্যক্ষ আল্লামা জয়নুল আবেদীন জুবাইর, অধ্যক্ষ আল্লামা ছৈয়দ জসিম উদ্দীন তৈয়বী, স ম হামেদ হোসাইন, এইচ.এম.মুজিবুল হক শুক্কুর, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট বোয়ালখালী শাখার সভাপতি স.ম এনামুল হক, সাধারণ সম্পাদক আকতার হোসেন তালুকদার, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের সভাপতি অধ্যক্ষ আবদুর রহিম আলকাদেরী, সাধারণ সম্পাদক কাজী ওবাইদুল হক হক্কানী, চট্টগ্রাম দরবারের সাজ্জাদানশীন চৈয়দ জাফর ছাদেক শাহ, কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) বোয়ালখালী উপজেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক কানাই দাশ ও সাধারণ সম্পাদক জামাল আবদুল নাসের, তৃণমূল-এনডিএমের চেয়ারম্যান খোকন চৌধুরী ও ভাইস চেয়ারম্যান কাজী শহিদ, সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক বেদারুল আলম চৌধুরী বেদার, চট্টগ্রাম জেলা সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আলম মন্টু, সাধারণ সম্পাদক নুরে আলম সিদ্দিকী, মহানগর সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা ডা. সরফরাজ খান চৌধুরী বাবুল, সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট বি. কে বিশ্বাস বিপ্লব, চান্দগাঁও আবাসিক বি-ব্লক কল্যাণ সমিতির সভাপতি হাসান মাহমুদ চৌধুরী, খিতাপচর আজিজিয়া মাবুদিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুফতি আবদুর রহিম আলকাদেরীসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও পরিচালনা কমিটির সদস্যবৃন্দ।
এদিকে বোয়ালখালী সিরাজুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজের সভাপতি মাঈন উদ্দিন খান বাদল এমপির মৃত্যুতে অধ্যক্ষ সমীর কান্তি দাশ, উপাধ্যক্ষ এ কে এম ইসমাইল ও গভর্নিং বডির সদস্যবৃন্দসহ শিক্ষক-কর্মচারীবৃন্দ গভীর শোক প্রকাশ করেন। এছাড়া বোয়ালখালী উপজেলা প্রশাসন, পৌর প্রশাসন, বোয়ালখালী প্রেসক্লাব, উপজেলা আওয়ামী লীগ, জাসদ, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ শোক জানিয়েছে।

x