চকরিয়ায় ছাত্রদল নেতা ইসফাতুল ইসলাম জিসান হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আনোয়ার হোসেন কালু ড্রাইভার নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার তাকে পুলিশ উপজেলা জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতের সোপর্দ করে। এ সময় খাস কামরায় বিচারকের কাছে জিসান হত্যার ঘটনায় নিজে সম্পৃক্ত ছিল জানিয়ে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন কালু।
তবে পরিবারের পক্ষ থেকে বড় ছেলে মো. ইমন উদ্দিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাবি করেছে– মামলার এজাহারনামীয় আসামির তালিকায় তার বাবা আনোয়ার হোসেন কালু ড্রাইভারের নাম নেই। আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রতিপক্ষ তার বাবাকে জিসান হত্যা মামলায় তিনদিন আগে পুলিশ দিয়ে আটক করায়। এরপর তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন চালিয়ে চারদিনের মাথায় আদালতে প্রেরণ করে। গ্রেপ্তার আনোয়ার হোসেন কালু কাকারা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের লোটনী গ্রামের বাসিন্দা।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান ছাত্রদল নেতা ইসফাতুল ইসলাম জিসান হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার আনোয়ার হোসেন কালু ড্রাইভারকে আদালতে সোপর্দ করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ওসি জানান, বৃহস্পতিবার সকালে আনোয়ার হোসেন কালু বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। এ সময় জিসান হত্যাকাণ্ডে নিজে জড়িত থাকার বিষয়ে এবং হত্যাকাণ্ডের আদ্যোপান্ত আদালতকে জানিয়েছে গ্রেপ্তার কালু। ওসি বলেন, জিসান হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
গত ২৮ সেপ্টেম্বর চকরিয়ার কাকারা ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইসফাতুল ইসলাম জিসানকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়। অপহরণের প্রায় চার ঘণ্টা পর চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কের খুটাখালী ইউনিয়নের মেদাকচ্ছপিয়া জাতীয় উদ্যান এলাকায় জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় দুই নারীসহ সাতজনের নামোল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫–৬ জনকে আসামি করে চকরিয়া থানায় হত্যা মামলা রুজু করা হয়। তবে এখনো পর্যন্ত এজাহারনামীয় কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।













