চলতি বছরের ২৬ শে জানুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় প্রবেশ করেছিল বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের মালিকানাধীন বাণিজ্যিক জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’। এরপর মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজটি কয়েক দফা চেষ্টা করেও হরমুজ প্রণালি পার হতে পারেনি। গত প্রায় চার মাস ধরে জাহাজটি মধ্যপ্রাচ্যে আটকা পড়ে আছে। জাহাজটিতে নাবিক, ইঞ্জিনিয়ারসহ মোট ৩১ জন ক্রু রয়েছেন। তারা উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় জীবন কাটাচ্ছেন বলেও নাবিকেরা জানিয়েছেন। জাহাজটির ক্যাপ্টেন মো. শফিকুল ইসলাম বলেছেন, হরমুজে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল বা তাদেরকে অনুমোদন না দেয়া পর্যন্ত যেখানে তারা আটকা পড়েছে ওখান থেকে বের হতে পারবেন না। হরমুজ ছাড়া বিকল্প কোন পথই নেই বলেও তিনি জানান।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসির নৌবাহিনী ‘কেউ যদি হরমুজ ক্রসের চেষ্টা করো, অ্যাটাক করা হবে’ বলে ক্রমাগত বার্তা প্রচার করছে বলে জানান জাহাজটির চিফ ইঞ্জিনিয়ার রাশেদুল হাসান। বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক বলেছেন, ইরানের সাথে আলোচনা করে বাংলাদেশ জাহাজটিকে যখন বের করে আনার পর্যায়ে নিয়ে এসেছিল, ঠিক তখন আবার সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। যে কারণে এটি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। জাহাজটিকে বের করে আনার জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে উল্লেখ করে কমডোর মাহমুদুল মালেক বলেন, নাবিকদের সাথে সার্বক্ষনিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। তাদের ভাতা বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। জাহাজে পর্যাপ্ত পানি ও খাদ্য রয়েছে। নাবিকদের সাথে দেশে থাকা পরিবারের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে বলেও তিনি জানান।
উল্লেখ্য, কাতারের একটি বন্দর থেকে গত ২৬শে ফেব্রুয়ারি প্রায় ৩৯ হাজার টন স্টিল কয়েল নিয়ে দুবাইয়ের জেবেল আলী বন্দরে গিয়েছিল এমভি বাংলার জয়যাত্রা। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুদ্ধ শুরু হওয়ায় জাহাজটি আর বের হতে পারেনি। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইরানের যুদ্ধবিরতি শুরু হলে ৮ই এপ্রিল হরমুজ প্রণালি পার হতে সৌদি আরবের রাস আল খাইর বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করেছিল জাহাজটি। কিন্তু পার হতে পারেনি। গত প্রায় এক মাস ধরে সংযুক্ত আরব আমীরাতের মিনা সাকারের অদূরে গভীর সমুদ্রে অবস্থান করছিল। গত সোমবার জাহাজটি অবস্থান পাল্টে শারজাহর কাছে কিছুটা নিরাপদে গিয়ে অবস্থান করছে বলেও সূত্র জানিয়েছে।












