শিশুটি ফিরে পেল মায়ের কোল

চলন্ত সিএনজি টেক্সি থেকে চারদিন আগে পড়ে হারিয়ে যায়, মৃগী রোগী মা ছিলেন অজ্ঞান

পেকুয়া প্রতিনিধি | শুক্রবার , ৮ মে, ২০২৬ at ১০:০৪ পূর্বাহ্ণ

অবশেষে মায়ের কোলে চড়ে হাসিমুখে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় বাড়িতে ফিরেছে হারিয়ে যাওয়া ছোট্ট শিশু মো. ছোটন। দেড় বছরের ছোটন গত ৪ মে পেকুয়া উপজেলার মগনামা সাবমেরিন নৌ ঘাঁটি সড়কের রাবার ড্যাম এলাকায় মৃগী রোগী মায়ের কোল থেকে চলন্ত সিএনজি টেক্সি থেকে ছিটকে পড়ে হারিয়ে গিয়েছিল। নিখোঁজের ৪ দিন পর স্থানীয় সাংবাদিকদের সহযোগিতায় পেকুয়া থানা পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেয়। উদ্ধার হওয়া শিশু মো. ছোটন রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সরফভাটা এলাকার মো. ছবি ও আরজু আকতারের ছেলে।

জানা যায়, আরজু আকতার একজন মৃগী রোগী। তিনি মানত করেন তার শিশু সন্তান ছোটনকে নিয়ে কুতুবদিয়ার পীর মালেক শাহ দরবারে যাবেন। ৪ মে ভোরে রাঙ্গুনিয়া থেকে কুতুবদিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে সকাল ১০টায় পেকুয়া এসে মগনামা ঘাটে যাওয়ার জন্য সিএনজি টেক্সিতে উঠেন। পথিমধ্যে পেকুয়া সদর রাবার ড্যাম এলাকায় পৌঁছলে আরজু আকতারের মৃগী রোগ উঠে। তিনি টেক্সিতেই অজ্ঞান হয়ে ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। বিষয়টি প্রথমে সিএনজি টেক্সি চালক খেয়াল করেননি। পরে যখন খেয়াল করেন ততক্ষণে শিশুটি আর তার মায়ের কোলে নেয়। আরজু আকতারকে গাড়িতে বেহুঁশ হয়ে পড়ে থাকতে দেখে টেক্সি ঘিরে পথচারীদের ভিড় জমে যায়। পরে পথচারীদের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়। হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তার জ্ঞান ফিরলে শিশুটি কোথায় হারিয়ে গেছে তা মনে করতে পারছিলেন না। সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ নিয়ে শিশুটির সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে শিশুটির সন্ধান চেয়ে পেকুয়া থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন। পুলিশ শিশুটির সন্ধানে মাঠে নামে। কিন্তু তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। এদিকে পেকুয়া সদর ইউনিয়নের পশ্চিম গোঁয়াখালী মাতবর পাড়া এলাকার বাসিন্দা সজিব নামে একজন একটি শিশু কুড়িয়ে পেয়েছেন এমন একটি সংবাদ প্রকাশের জন্য দৈনিক আজাদী পেকুয়া প্রতিনিধির কাছে এসে অনুরোধ করেন। বিষয়টি তিনি সাথে সাথে পেকুয়া থানাকে অবহিত করেন। এর ভিত্তিতে পেকুয়া থানার ওসি মো. মেহেদী হাসান আজাদী প্রতিনিধিকে সাথে নিয়ে সজিবের বাড়িতে গিয়ে হারিয়ে যাওয়া শিশুটিকে উদ্ধার করেন। পরে তিনি শিশু ছোটনকে তার মায়ে কোলে ফিরিয়ে দেন।

শিশুটিকে কুড়িয়ে পাওয়া ব্যক্তি মো. সজিব বলেন, রাস্তার পাশে পড়ে থাকা শিশুটির মুখ ও গায়ের ক্ষতস্থান থেকে রক্ত পড়ছিল। ঘটনাস্থলে কোনো অভিভাবক খুঁজে না পাওয়ায় তাকে আমি বাড়িতে নিয়ে আসি এবং পরিবারের সদস্যরা মিলে সেবাশ্মশ্রুষা করি ও খাবারের ব্যবস্থা করি। পাশাপাশি শিশুটিকে কুঁেড় পাওয়ার বিষয়টি সব জায়গায় জানাই। স্থানীয় এক সাংবাদিককে বিষয়টি জানালে তিনি পেকুয়া থানা থেকে পুলিশ ও শিশুটির অভিভাবককে নিয়ে আসেন। এর মাধ্যমে শিশুটি খুঁজে পায় তার মায়ের কোল।

শিশুটিকে ফিরে পেয়ে তার মা আরজু বেগম আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন। দৈনিক আজাদীকে তিনি বলেন, আমি মৃগী রোগী। যে কোনো মুহূর্তে আমার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। সে দিন আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। হাসপাতালে জ্ঞান ফিরলে আমার সন্তানকে কোথায় হারিয়েছি মনে করতে পারছিলাম না। সাংবাদিকদের মাধ্যমে পেকুয়া থানার পুলিশ আজ আমার সন্তানকে আমার কাছে ফিরে দিয়েছে।

এ বিষয়ে পেকুয়া থানার ওসি মো. মেহেদী হাসান জানান, শিশুর মা মৃগী রোগী ও মানসিক ভারসাম্যহীন একজন মহিলা। মগনামা যাওয়ার পথে তার মৃগী রোগ উঠলে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। সে সময় কোলে থাকা শিশুটি হারিয়ে যায়। পরে শিশুটির সন্ধান চেয়ে পেকুয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি করে। আজ সাংবাদিক ভাইদের সহযোগিতায় শিশুটিকে তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিতে পেরেছি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধজমাকৃত আগ্নেয়াস্ত্র ফেরত ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে নতুন নির্দেশনা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের
পরবর্তী নিবন্ধপরীক্ষা শেষে বাড়ি ফেরে শিশুটি, পরে খালে মিলল নিথর দেহ