প্রতিদিন সন্ধ্যার পর চট্টগ্রাম শহরের জামাল খান মোড়, কাজীর দেউড়ি স্টেডিয়াম এলাকা, চেরাগি পাহাড় মোড়, জিইসি মোড়, বিবিরহাটের বশর মার্কেট, গ্রিন ভিউ, সুন্নিয়া মাদ্রাসার মাঠসংলগ্ন রেললাইনের উত্তর ও দক্ষিণ পাশ, এশিয়া ফ্যান ফ্যাক্টরির পূর্ব পাশ, মুরাদপুর, চিটাগাং শপিং কমপ্লেক্সের পূর্ব পাশের সড়ক ও দক্ষিণ পাশের সড়ক, ষোলোশহর, দুই নম্বর গেটের বিপ্লব উদ্যান ও এর আশপাশের এলাকা এবং বিভিন্ন অভিজাত বিপণিবিতানের চত্বরে কিশোর–তরুণদের সরব উপস্থিতি অনেক প্রশ্নেরই উদ্রেক করে। তবে এমনটি মোটেও নয় যে এসব স্থানে উপস্থিত সব কিশোর–তরুণই অপরাধের সঙ্গে জড়িত। অতএব, এখনো সময় আছে সতর্ক, সচেতন ও সাবধান হওয়ার।
কিশোর–তরুণেরা অপরাধে জড়ানোর কারণগুলোর মধ্যে দেখা যায় সামাজিক–সাংস্কৃতিক পরিবর্তন, নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয়, পারিবারিক বন্ধনের ঘাটতি, সমকালীন প্রেক্ষাপটে পারিবারিক অনুশাসন কমে যাওয়া, বন্ধু নির্বাচনে অপরিণামদর্শিতা, পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মানবোধ কমে যাওয়া, উন্নত প্রযুক্তির সহজলভ্যতা, প্রযুক্তির অপব্যবহার, বিদেশি সংস্কৃতির প্রতি আকৃষ্ট হওয়া ও তার অনুকরণ, সুস্থ ও সুষ্ঠু সংস্কৃতিচর্চার অভাব, ক্রমাগত খেলার মাঠ কমে যাওয়া, সামাজিক অনুষ্ঠানের আয়োজন কমে যাওয়া, প্রতিনিয়ত সাইবার জগতে ডুবে থাকা এবং সেখান থেকে অর্জিত অভিজ্ঞতা বাস্তবে প্রয়োগ করতে গিয়ে বিপথগামী হওয়া।
কিশোর অপরাধপ্রবণতার নতুন সংস্করণ হলো ‘কিশোর গ্যাং’। সাধারণত কিশোর গ্যাং বলতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গড়ে ওঠা কয়েকজনের একটি দল কিংবা অভিন্ন কোনো স্বার্থকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা গোষ্ঠীকে বোঝায়। মূলত স্কুল–কলেজের শিক্ষার্থীদের নিয়েই গড়ে উঠছে এ ধরনের গ্যাং বা দল। স্কুল–কলেজের কিছু শিক্ষার্থী আড্ডা দিতে দিতে ছোট ছোট দল গড়ে তোলে। এসব কিশোর মাদক, খুন, ইভ টিজিং, ছিনতাই, মাদক সেবন, চুরি, এমনকি ধর্ষণের মতো ভয়ংকর অপরাধেও জড়িয়ে পড়ে।
কিশোর অপরাধের কারণে পরিবার ও সামাজিক স্থিতিশীলতা নষ্ট হচ্ছে। মা–বাবা প্রতিনিয়তই সন্তানদের নিয়ে চিন্তিত থাকেন্তকখন কোন দুঃসংবাদ কানে আসে! একজন বিপথগামী কিশোরের জন্য একটি পরিবার যারপরনাই শঙ্কিত থাকে। অনেক ক্ষেত্রে এমন পরিস্থিতি একটি পরিবারের জন্য চরম অভিশাপ হয়ে ওঠে। কিন্তু এমন আতঙ্কিত সময় আর কত দিন পার করতে হবে? এর জন্য প্রয়োজন পরিবারের কর্তব্যবোধ, অভিভাবক, সমাজ ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সতর্কতা ও সচেতনতা। কিশোর–তরুণদের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। কিশোরদের প্রয়োজনীয় সামাজিক ও পারিবারিক সহযোগিতা দিতে হবে। সুস্থ–সুন্দর সংস্কৃতিচর্চার সুযোগ করে দিতে হবে। খেলাধুলা, মননশীল ও শৈল্পিক কর্মকাণ্ডে তাদের আগ্রহী করে তুলতে হবে। পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি বাহ্যিক জ্ঞান অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের শিক্ষা বিস্তারে তৎপর হতে হবে। তবেই কিশোর–তরুণেরা বিপথগামিতা থেকে রক্ষা পাবে। সমাজ হবে জ্ঞাননির্ভর। দেশ পাবে মেধাবী সন্তান।
লেখক: সহ–প্রচার সম্পাদক, জিয়া স্মৃতি পাঠাগার, চট্টগ্রাম।











