চট্টগ্রাম–কাপ্তাই সড়কের রাঙ্গুনিয়ার শান্তিরহাটে বেপরোয়া গতির টমটমের ধাক্কায় রুবেল (৩০) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী গুরুতর আহত হয়েছেন। গত শুক্রবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে শান্তিরহাট বাজার সংলগ্ন ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত রুবেল শান্তিরহাট ওয়াসা সংলগ্ন একটি মোটরসাইকেল বিক্রয় প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী এবং বুড়ির দোকান এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতে মোটরসাইকেলযোগে শান্তিরহাট থেকে বুড়ির দোকানে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন রুবেল। পরিষদ সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগতির টমটম হঠাৎ বেপরোয়াভাবে মোড় ঘুরতে গিয়ে তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে সড়কে ছিটকে পড়ে মারাত্মকভাবে আহত হন রুবেল। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে প্রথমে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
জানা যায়, ১৯৬০–৬২ সালে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ প্রকল্প কেন্দ্র করে নির্মিত প্রায় ৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই চট্টগ্রাম–কাপ্তাই সড়কটি (আর–৭৬০) রাঙ্গুনিয়া, রাউজান, কাপ্তাই, কাউখালীসহ পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের মানুষের চট্টগ্রাম নগরে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম। সড়কটি প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘ প্রায় ৬ দশক পার হলেও যানবাহনের তুলনায় সড়ক প্রশস্তকরণ ও আধুনিকায়ন সেভাবে হয়নি। বর্তমানে এই সরু সড়কে প্রতিদিন লাখো মানুষ যাতায়াত করেন। যেখানে ১৮ থেকে ২৪ ফুট প্রশস্ত সড়ক দিয়ে হাজার হাজার ভারী ও হালকা যানবাহন চলাচল করছে, সেখানে একই সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে হাজার হাজার নিবন্ধনহীন ও অবৈধ ব্যাটারিচালিত টমটম, সিএনজিচালিত টেক্সি এবং ইজিবাইক। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ও ট্রাফিক বিভাগের নিয়মিত নজরদারির অভাবে অদক্ষ ও লাইসেন্সবিহীন চালকরা মহাসড়কে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালাচ্ছে, যা প্রতিদিন দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ থেকে সড়কের দুই পাশে সমপ্রতি চার ফুট করে প্রশস্তকরণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও পর্যাপ্ত ফুটপাত এবং সড়কসংলগ্ন খালের জায়গা উদ্ধার না হওয়ায় ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, দুই পাশে কার্যকর ফুটপাত ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকলে কেবল চার ফুট প্রশস্তকরণ দুর্ঘটনা কমাতে পারবে না।










