কাপ্তাই চট্টগ্রাম মহাড়কের পাশে পড়ে আছে বিভিন্ন ব্যক্তিগত মালামাল। এসব মালামালের মধ্যে রয়েছে পুরাতন অকেজো ট্রাক, মাইক্রোবাস, অটোরিক্সা, ধান মড়াইয়ের মেশিন ইত্যাদি। এসব মালামাল মহাসড়কের একেবারে পাশে ফেলে রাখা হয়েছে। এসব মালামালের জন্য যানবাহন নিরাপদে চলাচল করতে পারছে না। আবার পথচারীরাও নির্বিঘ্নে রাস্তার পাশ ধরে চলাফেরা করতে পারছেন না। দীর্ঘ সময় ধরে এসব অকেজো মালামাল সড়কের পাশে পড়ে থাকলেও এ ব্যাপারে প্রশাসন বা কারো পক্ষ থেকে কখনো কোনো ব্যবস্থা নিতেও দেখা যায় না। গতকাল ২৬ অক্টোবর সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে কাপ্তাই সড়কের লিচুবাগান, মরিয়মনগর, রওয়াজারহাট, ইছাখালী, পোমরা, নোয়াপাড়া পথের হাট, পাহাড়তলীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এভাবে মালামাল পড়ে রয়েছে। কাপ্তাই চট্টগ্রাম সড়কের লিচুবাগান অত্যন্ত ব্যস্ততম এলাকা। এখানে প্রতিদিন চতুর্দিক থেকে বিভিন্ন রকমের যানবাহন চলাচল করে থাকে। লিচুবাগানে চন্দ্রঘোনা চক্ষু হাসপাতালের সামনে মহাড়কের একেবারে পাশে পড়ে আছে একটি ধান মাড়াইয়ের বিশাল মেশিন। কাপ্তাই চট্টগ্রাম সড়কে যাত্রীবাহী বাস চালক মোঃ জসিম উদ্দিন বলেন, এই ধান মাড়াইয়ের মেশিনটির জন্য সড়কের পাশে যেমন কোনো যানবাহন যেতে পারছে না তেমনি পথচারীরাও পড়কের পাশ ধরে হাঁটতে পারছেন না। এই মেশিনটি কার এবং কতমাস ধরে এভাবে সড়কের পাশে পড়ে আছে তা কেউ বলতে পারছেন না। লিচুবাগান পেট্টোল পাম্পের সামনে সড়কের পাশে পড়ে আছে একটি মিনি ট্রাক এবং একটি পুরাতন মাইক্রোবাস। এগুলোর কোনো মালিকানা নেই। কিন্তু এসবের কারণে সড়ক সঙ্কুচিত হয়ে আছে। কাপ্তাই মানবাধিকার কমিশনের মহিলা সম্পাদিকা নুর বেগম বলেন, কাপ্তাই চট্টগ্রাম মহাড়সকের উপর এমনিতেই অসংখ্য যানবাহনের চাপ। তার উপর বিভিন্ন স্থানে একেবারে রাস্তার পাশে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও অস্থায়ী দোকানপাট। এছাড়াও বিভিন্ন স্থানে রিকশা এবং সিএনজি টেক্সি স্ট্যান্ড রয়েছে। এর বাইরে এভাবে সড়কের পাশে ব্যক্তিগত মালামাল ও যানবাহন রাখায় পথচারী পারাপারে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে বলে তিনি জানান। চন্দ্রঘোনা মডেল কেজি এন্ড হাইস্কুলের শিক্ষক মো. বাদশা জানান, কাপ্তাই চট্টগ্রাম সড়কে কোনো শৃঙ্খলা নেই। যে যেভাবে পারছে সড়ক ব্যবহার করছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেনেজ ব্যবস্থা থাকলেও কিছু অসাধু দোকানদার ও ব্যবসায়ী নিজেদের স্বার্থে ড্রেন ভরাট করে রেখেছে। সড়কের পাশে পথচারীদের জন্য এক ইঞ্চিও খালি জায়গা নেই যে মানুষ পায়ে হেঁটে চলাচল করবে। যদিও প্রতিদিন শতশত শিক্ষার্থী চরম ঝুঁকি নিয়ে রাস্তার পাশ ধরে চলাচল করছে। এসব অব্যবস্থাপনা দূরীকরণের দায়িত্ব কার সাধারণ মানুষ তাও জানে না। স্থানীয় একজন জনপ্রতিনিধি নাম প্রকাশ না করে বলেন, উপজেলা প্রশাসন এবং পুলিশ প্রশাসনের প্রধান দায়িত্ব হলো জনসাধারণের পথ চলা নির্বিঘ্ন রাখা। কিন্তু পুলিশ প্রশাসন এবং উপজেলা প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের এসব অনিয়ম যেন চোখেই পড়ে না।












