টাইগার শ্রফ নয়, হামলাকারীদের নিশানায় ছিলেন আমির

কেন বদলাল টার্গেট?

| মঙ্গলবার , ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ at ৬:৫৪ পূর্বাহ্ণ

ভারতের বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনার তদন্তে বেরিয়ে এসেছে নতুন তথ্য। গুলিবর্ষণের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্তরা পুলিশকে জানিয়েছে, মুম্বাইয়ে অবস্থানের সময় তাদের নজরদারিতে কেবল টাইগার ছিলেন না, বরং অভিনেতা আমির খান, অমিতাভ বচ্চন এবং অক্ষয় কুমারের বাসভবনেও তারা নজরদারি ও রেকি চালিয়েছিল। খবর বিডিনিউজের।

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হামলাকারীরা জানিয়েছে, চক্রটির মূল ও প্রাথমিক লক্ষ্য ছিলেন অভিনেতা সালমান খান। সূত্রের বরাতে জানা গেছে, শুটাররা সালমানের বান্দ্রার বাসভবন গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টসের আশপাশে রেকি করেছিল। কিন্তু সেখানকার কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেখে তারা সেই পরিকল্পনা বাতিল করতে বাধ্য হয়। সালমান খানের নাগাল পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ার পর হামলাকারীরা আমির খান, অমিতাভ বচ্চন ও অক্ষয় কুমারের বাড়ি রেকি করে। মুম্বাই পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, টাইগার শ্রফের গাড়িতে হামলার আগে লরেন্স বিষ্ণোই চক্রের সদস্যরা প্রায় এক মাস আমির খানের বান্দ্রার বাসভবনের আশপাশে অবস্থান নিয়ে তিনটি পৃথক সময়ে নজরদারি চালায়। আমির খানের বাড়ির আশপাশে অন্তত তিন বার ঘুরে বেড়িয়েছিল অভিযুক্তরা। ২০ সেপ্টেম্বর হরিয়ানা থেকে মুম্বইয়ে যান অভিযুক্ত ফুল সিং ও রেহান আনসারি। প্রায় এক মাস ধরে শহরের বিভিন্ন এলাকায় থাকার সময় আমিরের গতিবিধি বোঝার চেষ্টা করেছিল তারা। তবে শুটিংয়ের কাজে ঘন ঘন বাইরে থাকা কিংবা দীর্ঘ সময় ঘরের ভেতরে থাকার কারণে হামলাকারীদের পক্ষে আমিরের কাছে পৌঁছানো কঠিন ছিল বলে এনডিটিভিকে জানিয়েছে একটি সূত্র। ধারণা করা হচ্ছে, আমিরের এই স্বভাব ও নাগালের বাইরে থাকার বিষয়টিই শেষ পর্যন্ত তাকে রক্ষা করেছে। এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরজু বিষ্ণোই ও টাইসন বিষ্ণোই নামের ব্যক্তিদের বরাতে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিও ক্লিপ ও পোস্টে দাবি করা হয়, গৌরী স্প্র্যাটের সঙ্গে আমির খানের তৃতীয় বিয়ে লাভ জিহাদকে উৎসাহিত করে এবং তা সনাতন সংস্কৃতির পরিপন্থি। এজন্য অভিনেতাকে উচিত শিক্ষা দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়।

ভারতের কোনও আনুষ্ঠানিক আইনে লাভ জিহাদ পরিভাষাটির কোনো সংজ্ঞা নেই এবং কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর কাছেও এটি স্বীকৃত নয়। ২০২০ সালে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় লোকসভায় জানিয়েছিল, দেশের বর্তমান আইনে লাভ জিহাদ বলে কোনো বিষয়ের সংজ্ঞায়ন নেই। সাধারণত বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত করার অভিযোগ তুলে মুসলিমদের নিশানা করতে শব্দটি ব্যবহার করা হয়ে থাকে।নজরদারির তথ্য সামনে আসার পর পুরো বিষয়টি এবং ওই ভাইরাল অডিও খতিয়ে দেখছে মুম্বাই পুলিশ।

পূর্ববর্তী নিবন্ধসিএসইতে লেনদেন ১৬.৪২ কোটি টাকা
পরবর্তী নিবন্ধজনমত জরিপকে ভুয়া বলে নিজের জনপ্রিয়তা ৬০% দাবি করলেন ট্রাম্প