কলকাতায় হোটেলে আগুনে ৯ মৃত্যু এদের ৭ জনই বাংলাদেশি

নিহতদের ৪ জনই কুষ্টিয়ার একই পরিবারের তারা চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়েছিলেন

| বৃহস্পতিবার , ২০ আগস্ট, ২০২৬ at ১০:২৫ পূর্বাহ্ণ

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় একটি হোটেলে গতকাল বুধবার ভোরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে ঘটনাস্থলে প্রাণ হারান ৯ জন যাদের মধ্যে ৭ জন বাংলাদেশি এবং বাকি ২ জন ভারতীয় নাগরিক বলে নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশের ডেপুটি হাই কমিশন। গতকাল বুধবার রাতে নিহতদের বিষয়ে সবশেষ এ তথ্য দিয়েছেন কলকাতায় বাংলাদেশের ডেপুটি হাই কমিশনার মোহাম্মদ খালেদ। তিনি বলেন, নিহত ৯ জনের মধ্যে সাতজন বাংলাদেশি বলে আমরা নিশ্চিত হয়েছি। আর বাকি দুজন ভারতীয়। তাদের পুরো পরিচয় পাওয়ার পর বৃহস্পতিবার সকালে নাম প্রকাশ করা হবে। খবর বিডিনিউজের।

মঙ্গলবার গভীর রাতের এ দুর্ঘটনায় নিহতদের সবাই বাংলাদেশি বলে প্রথমে খবর দিয়েছিল ভারতীয় সংবাদমাধ্যম। এর আগে স্থানীয় পুলিশের বরাতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিহতদের মধ্যে পাঁচজন বাংলাদেশি হওয়ার তথ্য দিয়েছিল। তাদের মধ্যে কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত, তার স্ত্রী, ছেলে ও শ্বশুর রয়েছেন। তখন বাকি চারজনের মধ্যে তিনজনও বাংলাদেশি বলে আশঙ্কা করার কথা বলা হয়েছিল।

দেবাশীষ তার স্ত্রী ও শ্বশুরের চিকিৎসা করাতে ভারতে গিয়েছিলেন। নিহত বাংলাদেশিদের মধ্যে আরেকজন সাভারের আমিনবাজারের বেগুনবাড়ি এলাকার আহম্মেদ বাবু। ৩৭ বছর বয়সী বাবু ওই এলাকার আদম আলীর ছেলে। আমিন বাজারে তার প্রসাধনী বিক্রির দোকান রয়েছে। পরিবারের তরফে জানানো হয়, সোমবার রাতে ওই দোকানের পণ্য কিনতে কলকাতা যান আহম্মেদ বাবু। কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকায় মির্জা গালিব স্ট্রিটের ওই হোটেলে আগুনে পুড়ে ও দগ্ধ হয়ে মারা যাওয়াদের মধ্যে ছয়জন পুরুষ, দুজন নারী ও একটি শিশু রয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে, মঙ্গলবার রাত প্রায় ২টার দিকে নগরীর নিউ মার্কেটের কাছে মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি ভবনের তৃতীয় তলায় হোটেল শিখা ইনএ আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে তা আশপাশের ভবনগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। আগুন যখন লাগে, হোটেলের অতিথিরা তখন ঘুমিয়ে ছিলেন। হোটেলের ঘরগুলো ধোঁয়ায় ভরে গেলে আতঙ্কিত অতিথিরা ছুটাছুটি শুরু করেন।

ওই হোটেলের কাছেই কলকাতার ফায়ার সার্ভিসের সদর দপ্তর। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের চারটি গাড়ি ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভাতে কাজ শুরু করে। নিউ মার্কেট থানা পুলিশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দলও উদ্ধারকাজে যোগ দেয়।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে আনন্দবাজার লিখেছে, অগ্নিকাণ্ডের সময় বাইরে থেকে আগুনের শিখা দেখা যাচ্ছিল না। গলগল করে শুধু কালো ধোঁয়া বের হতে দেখা যাচ্ছিল। আগুন লেগেছে বুঝতে পেরে হোটেলের অতিথিরা বাইরে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেন। কিন্তু গলির মধ্যে ওই ভবনে ঢোকা বা বের হওয়ার পথ খুবই সঙ্কীর্ণ। সে সময় সেখানে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়।

পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ওই ভবন থেকে ৬০ জনকে উদ্ধার করেন। তাদের অনেকেই ধোঁয়ায় অচেতন হয়ে পড়েছিলেন; তাদের হাসপাতালে পাঠানো হয়।

নিহতদের ৪ জনই কুষ্টিয়ার এক পরিবারের : কলকাতায় নিউ মার্কেটের কাছে একটি অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মধ্যে চার জনই কুষ্টিয়ার একই পরিবারের। নিহতরা হলেন, কুষ্টিয়া সদরের আরুয়াপাড়া মোহিনী মিল এলাকার দেবাশীষ দত্ত (৩৯) ও তার স্ত্রী আফসানা শারমীন (২৭), তাদের সন্তান শর্ণশিষ দত্ত () এবং দেবাশীষ দত্তের শ্বশুর কুষ্টিয়া সদরের থানা পাড়ার আকরাম আলী (৬৪)

কুষ্টিয়ায় দেবাশীষের পারিবারিক বন্ধু সাংবাদিক তৌহিদী হাসান বলছেন, গত ৩ আগস্ট চিকিৎসার জন্য স্ত্রী ও ছোট ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে চেন্নাই যান দেবাশীষ। তাদের সাথে কুষ্টিয়ার আরও দুজন গিয়েছিলেন। সোমবার রাতে চেন্নাই থেকে এয়ারে কলকাতায় আসেন তারা। সেখানে একটি হোটেলে উঠেছিলেন তারা। সারাদিন ঘুরেছেন। আজকে তাদের দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু আমরা জানতে পারলাম সেই হোটেলে আগুন লেগে তাদের তিনজনেরই মৃত্যু হয়েছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধচন্দনাইশে স্ত্রীকে কোদাল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা, স্বামী আটক
পরবর্তী নিবন্ধসন্দ্বীপের বাউরিয়া উপকূলে ভাঙন, ঝুঁকিতে সাবমেরিন ক্যাবল