করিমকে ফোন করে ডেকে নিয়েছিল খুনিরা : পরিবারের দাবি

রাউজান থানায় স্ত্রীর মামলা

রাউজান প্রতিনিধি | শনিবার , ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ at ৬:০১ পূর্বাহ্ণ

রাউজানে দুবৃর্ত্তদের গুলিতে খুন হওয়া আবদুল করিমকে খুনিরা ৩ সেপ্টেম্বর বিকালে একাধিকবার ফোন করে উরকিরচর ইউনিয়নের কেরানিহাট এলাকায় ডেকে নিয়েছিল বলে তার পরিবারের ঘনিষ্টজনরা দাবি করেছেন।

স্থানীয়রা বলেছেন, ওইদিন বিকালের দিকে করিমকে মোটরসাইকেল নিয়ে একাধিকবার এলাকায় উদ্বিগ্ন অবস্থায় চক্কর দিতে দেখা গেছে। সন্ধ্যার পর একটি সিএনজি টেক্সি করে কয়েকজনকে সাথে নিয়ে কেরানিরহাটে গিয়েছিল সে। এদিকে ময়না তদন্ত শেষে করিমের লাশ গ্রামের বাড়িতে জানাজা শেষে দাফন করা হয়েছে গতকাল বিকালে। এই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বিলকিচ আকতার অজ্ঞাত খুনিদের আসামি করে থানায় মামলা করেছেন বলে জানিয়েছে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম। খুনের ঘটনার বিষয়ে কথা বলতে গেলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন, যেখানে খুন হয়েছে সেখান থেকে করিমের বাড়ির দূরত্ব প্রায় আড়াই কিলোমিটার। এলাকাটি হিন্দু ও বৌদ্ধ অধ্যুষিত এলাকা। গত প্রায় দুই দশক থেকে কেরানিরহাটটি মূলত একটি মড়া হাট।

বর্তমান এই হাটে মাত্র আট দশটি দোকানের মধ্যে বেশির ভাগ দোকান বন্ধ হয়ে যায় সন্ধ্যার পর পর। অনেকটা নির্জন পরিবেশের মধ্যে দুই চারটি দোকান আটটা নয়টা পর্যন্ত খোলা থাকলেও হাটে তেমন মানুষ থাকে না। এ রাতে হাটে থাকা একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী বলেছেন, খুনের ঘটনাটি ঘটে রাত সাড়ে ৯টার দিকে। এসময় বাজারের মুখে থাকা একটি চা দোকানের সামনে এসে থামে একটি সিএনজি টেঙি। এই টেঙিতে ছিলেন আবদুল করিমসহ কয়েকজন। আগে থেকে হাটে ঘোরাঘুরিতে ছিল কয়েকজন যুবক। তাদের কয়েকজন করিমদের টেঙিটি দেখে দ্রুত সেখানে গিয়ে হাজির হয়ে একজন করিমের বুকে অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করে। অবস্থা দেখে করিমের সাথে থাকা অন্যরা দৌঁড়ে পালিয়ে যায়। গুলিবিদ্ধ করিম রাস্তার উপর লুটিয়ে পড়লে খুনিরা আবার একটি গুলি করে বুকের নিচে। মৃত্যু নিশ্চিত হলে অজ্ঞাতনামা খুনিরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে হাটে রাখা মোটর সাইকেল নিয়ে। অতর্কিতে গুলির শব্দ শুনে হাটে যে কয়েকজন মানুষ ছিল তারাও আতংকে ছুটাছুটি করে পালিয়ে যায়।

গতকাল শুক্রবার বেলা সাড়ে এগারটার দিকে লোমহর্ষক এই খুনের ঘটনা তদন্তে কেরানিরহাটে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রাম অঞ্চলের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী ও জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম। সাথে ছিলেন রাউজান থানার ওসি সাইফুল ইসলামসহ ডিবি পুলিশ দল। এসময় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ বলেছেন এই খুনের ঘটনায় রহস্য উন্মোচনে একাধিক টিম মাঠে নেমেছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, করিম প্রবাস থেকে ফিরে মাঝেমধ্যে যুবদল পরিচয়ে বিএনপির সভা সমাবেশে দলবল নিয়ে যোগ দিতেন। যদিও তার ছিল না কোনো পদ পদবী। নেতা পরিচয়ে এলাকায় জড়িয়ে পড়েন নানা অপরাধকর্মে। এ সবের মধ্যে তার বিরুদ্ধে মামলা হয় কয়েকটি এবং বিভিন্ন সময় জেল হাজতেও যেতে হয়।

এ বিষয়ে রাউজান থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, তারা ঘটনাস্থলে আছেন। ঘটনার কারণ উদঘাটন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধঅনলাইনভিত্তিক আর্থিক প্রতারণায় ২-৩শ চীনা ও তাইওয়ানি নাগরিক
পরবর্তী নিবন্ধসিএমপি কার্যালয়ের সামনে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের মিছিল