কক্সবাজারে ১২ কিমি দীর্ঘ সুড়ঙ্গ সড়কের পরিকল্পনা, নভেম্বরে কাজ শুরুর আশা

সৈকতের ভাঙন রোধে উদ্যোগ, ব্যয় হবে ৩ হাজার ১৪০ কোটি টাকা

চকরিয়া প্রতিনিধি | রবিবার , ১৪ আগস্ট, ২০২২ at ১০:৪৮ পূর্বাহ্ণ

পূর্ণিমার জোয়ারে উত্তাল সমুদ্রের প্রচণ্ড ঢেউয়ের তোড়ে বিলিন হওয়া কক্সবাজার সৈকতের বালিয়াড়ি রক্ষায় আর্ন্তজাতিক মানের দৃষ্টিনন্দন সুড়ঙ্গ সড়ক পরিকল্পনার কথা ভাবছে সরকার। স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ বা সড়কটি নির্মাণে ব্যয় হবে ৩ হাজার ১৪০ কোটি টাকা। প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছে ৩ বছর।
গত কয়েকবছর আগের নেওয়া পরিকল্পনা অনুযায়ী সমুদ্র তীরের ১২ কিলোমিটারজুড়ে এই সড়ক নির্মাণ করা হবে, সেই বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানান পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কবির বিন আনোয়ার। তিনি বলেন, ‘একনেকে অনুমোদন পেলে আগামী নভেম্বরে শুরু হবে প্রকল্পের কাজ।’ সচিব আরো জানালেন- নানা সুযোগ-সুবিধাসহ আর্ন্তজাতিকমানের নকশা করা হয়েছে এই প্রকল্প বাস্তবায়নে। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত ডেল্টা প্ল্যানেও সেটি রয়েছে। সেই প্ল্যান মোতাবেক কাজ চলছে।’

সমুদ্রের অস্বাভাবিক আচরণে স্বাভাবিকের চেয়ে পাঁচ ফুট উচ্চতার ঢেউ আঘাত হানছে উপকূলে। এতে বিলিন হয়ে যাচ্ছে বালিয়াড়ি। উত্তাল ঢেউয়ে বিলীন হচ্ছে ঝাউগাছ, তলিয়ে গেছে একাধিক স্থাপনা। তীব্র ভাঙনের মুখে নিপতিত হয়েছে সৈকতের অন্তত তিন কিলোমিটার। বিষয়টি রীতিমতো উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে সর্বমহলে। এই অবস্থা ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক জিও টিউব দিয়ে দেওয়া বাঁধের কারণে অতীতের চেয়ে বেশি ভাঙছে বলে মনে করছেন অনেকে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড কক্সবাজার সূত্র জানায়, ৩ হাজার ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হবে আন্তর্জাতিক মানের দৃষ্টিনন্দন সুড়ঙ্গ সড়ক। পর্যটকদের সুবিধায় ৫ কিলোমিটারে থাকবে বিশেষ সুযোগ-সুবিধা। প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন পেলে আগামী নভেম্বর থেকে কাজ শুরুর আশা করছে মন্ত্রণালয়।

হঠাৎ ভাঙন শুরু হওয়ায় উদ্বিগ্ন স্থানীয়রা বলছেন- ভাঙতে ভাঙতে হোটেল-মোটেল জোনের একেবারে নিকটে চলে এসেছে। এই অবস্থা অব্যাহত থাকলে পর্যটক ধরে রাখা যাবে না। ইতোমধ্যে সমুদ্র তীরের বালিয়াড়ি বিলিন হতে দেখে পানিতে নামছেন না পর্যটকেরা।

বছর চারেক আগে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নেওয়া এই সুড়ঙ্গ সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা অনুযায়ী সড়কটি বিমানবন্দর থেকে শুরু হয়ে শেষ হবে সৈকতের মেরিন ড্রাইভের কলাতলী পয়েন্টে। বালুচরের ঝাউবাগান ঠিক রেখেই নির্মিত হবে সড়কটি। যেখানে থাকবে শপিংমল, দোকানপাট, ওয়াশরুম, লকার, কফিশপ ও রেস্তোরাঁ। চেয়ারে বসে কাঁচের জানালা দিয়ে দেখা যাবে সমুদ্র ও সূর্যাস্ত। সড়কে থাকবে দৃষ্টিনন্দন ভাস্কর্য, বিনোদন পার্ক, মুক্তমঞ্চ, গাড়ি পার্কিং, ওয়াকওয়ে, বাইসাইকেল ও হাঁটার পাশাপাশি বিশ্রামের ব্যবস্থা। এর মধ্যে প্রকল্পের প্রস্তাবনা চূড়ান্ত করা হয়েছে।

কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ডক্টর তানজির সাইফ আহমেদ বলেন, ‘পরিকল্পনামন্ত্রীর নির্দেশনা মতে সকল ধরণের স্টেক হোল্ডারদের সঙ্গে আলাদাভাবে বসে এবং সমন্বিতভাবে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা করেছি। সেখানকার সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে এই প্রকল্প চূড়ান্ত করা হয়েছে।