সাংস্কৃতিক গোলামী একটি জাতিকে ভিতর থেকে ধ্বংস করে দেয়। অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক গোলামী নির্দিষ্ট সময়ান্তরে বিলুপ্ত হয় বটে কিন্তু সাংস্কৃতিক আধিপত্য জাতি ও জাতিরাষ্ট্রের খোলনলচে বদলে দেয় নীরবে। পলাশীর বিপর্যয় বাঙালি ও বাঙালি মুসলমানের সংস্কৃতির ভিত কুরে কুরে খাচ্ছে তিনশতক ধরে। গত ১৯ জুন পাঁচলাইশস্থ মাটি মিলনায়তনে চট্টগ্রাম সংস্কৃতি কেন্দ্র আয়োজিত নোঙর সাহিত্য আড্ডায় লেখক কবি ও সংস্কৃতিজনেরা এসব মন্তব্য করেন।
‘পলাশীর বিপর্যয় ও সাংস্কৃতিক আধিপত্যবাদ’ বিয়য়ে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন গবেষক ও ইতিহাসের শিক্ষক শামস সাইমুম। নোঙরের নির্বাহী সম্পাদক হানিফ মজুমদারের পরিচালনায় এবং নাট্যকার আ স ম শাহরিয়ারের সভাপতিত্বে সাহিত্য আড্ডায় স্বাগত কথা বলেন নোঙর সম্পাদক আবু সাঈদ হাননান। লেখাপাঠ, আলোচনা ও মুক্তালোচনায় অংশ নেন, নোঙর প্রকাশক আমীরুল ইসলাম, কবি ও সম্পাদক মাঈন উদ্দিন জাহেদ, সংস্কৃতি সংগঠক আহসান হাবীব, আবৃত্তিকার অধ্যাপক মোহাম্মদ এমদাদ হোসেন, লেখক আকতারুজজামান, কবি ও প্রাবন্ধিক খোরশেদ মুকুল, কবি রাজা রাকিব, কবি মোসলেহ মহসিন, অনুবাদক সাইফুল্লাহ সায়েম, সমালোচক নাফিজ ইমতিয়াজ এবং চট্টগ্রাম সংস্কৃতি কেন্দ্রের সভাপতি প্রামাণ্য চলচ্চিত্রকার ইসমাইল চৌধুরী। ইতিহাস গবেষক শামস সাইমুম তাঁর প্রবন্ধে বলেন, সাংস্কৃতিক আধিপত্য মানুষের মনোজগতে যে উপনিবেশ তৈরি করে তা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে বয়ে চলে। পলাশীর শিক্ষা, চব্বিশের জুলাই বিপ্লব ও ওসমান হাদির আধিপত্যবাদ বিরোধী বয়ানকে ধারণ ও চলমান রাখতে আমাদেরকে সক্রিয় থাকতে হবে।
সভাপতি নাট্যজন গাল্পিক ও জনপ্রতিনিধি আ স ম শাহরিয়ার বলেন–আমাদের লক্ষ্য, স্বাধীনতা অর্জনে আপোষহীন হতে হবে। আধিপত্যবাদীরা থেমে নেই। জগতশেঠ, রায়দুর্লভ এবং উর্মিচাঁদরা ঘাপটি মেরে আছে আমাদের সমাজগাত্রে, সময় সুযোগ পেলেই বিষাক্ত ছোবল হানবে। সাহিত্য আড্ডায় সমাজ রাজনীতি ও চলমান প্রসঙ্গে আলোকপাত করেন সংগীতজ্ঞ আকবর খান, সংগঠক আহসান হাবীব, মুহাম্মদ আনিসুল ইসলাম, মো. মহিউদ্দিন, মুহাম্মদ নাছির উদ্দিন, শিশু সংগঠক আহনাফ তাহমিদ প্রমুখ। আড্ডায় সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী এমজি মুস্তফা। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।












