কক্সবাজারের সাবেক ডিসিসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ

কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পে অর্থ আত্মসাৎ

আজাদী প্রতিবেদন

বুধবার , ১৭ এপ্রিল, ২০১৯ at ৬:৩৯ পূর্বাহ্ণ
36

১৯ কোটি ৮২ লাখ ৮ হাজার ৩১৫ টাকা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের নামে ভুয়া চেকের মাধ্যমে উত্তোলন করে আত্মসাৎ ও ২৬ কোটি ৩১ লাখ ৯৫ হাজার ৫ টাকা আত্মসাৎ চেষ্টার মামলায় বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আদালত। মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের চিংড়ি খাতের প্রকল্পে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় কক্সবাজারের সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) রুহুল আমিন ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) জাফর আলমসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে এ আদেশ দিয়েছেন আদালত।
গতকাল মঙ্গলবার বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক ও চট্টগ্রামের জেলা জজ মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯/৪৬৮/৪৭১/১০৯ ধারায় অভিযোগ গঠন করেন।
আগামী ১০ জুন আলোচিত এ মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন ওই আদালতের বেঞ্চ সহকারী মোহাম্মদ মুসা। এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমান চৌধুরী জানান, মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের চিংড়ি খাতের প্রকল্পে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় কঙবাজারের সাবেক ডিসি রুহুল আমিন ও এডিসি জাফর আলমসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত।
মামলার এজাহার ও অভিযোগপত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে, ৩৬ আসামি হলেন, কক্সবাজারের সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) রুহুল আমিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) জাফর আলম, সার্ভেয়ার মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, সার্ভেয়ার টিএম বাদশা মিয়া, এলএ শাখার কর্মচারী মো. আবুল কাশেম মজুমদার, কানুনগো মো. আবদুল কাদের ভুঁইয়া, রফিকুল ইসলাম, মো. জমির উদ্দিন, জিএম ছমিউদ্দিন, আমিনুল ইসলাম, রিদোয়ান, আশরাফ আলী, মো. সেলিম উদ্দিন, মো. হারুন, মো. দানু মিয়া, মীর কাশেম, মো. সেলিম, এরফান, ছখি আলম, মহিবুল ইসলাম, নূর মোহাম্মদ, আহসান উল্লাহ বাচ্চু, অ্যাডভোকেট নূর মোহাম্মদ সিকদার, মো. জাহাঙ্গীর আলম, আবুল বশর, মো. রুহুল আমীন, সালেহ আহমদ সামাদ, এস্তেকাজুল হক, বশির আহমদ, মো. মশিউর রহমান, আনোয়ারুল ইসলাম, আশরাফ আলী, মো. আনিস, নূরুল আবছার, মো. ইলিয়াছ রহমান এবং মো. রাজীবুল আলম।
আদালতের আদেশ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের চিংড়ি খাতের ক্ষতিপূরণ প্রকল্পে ভুয়া লোকজনের নামে প্রকল্প দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে রুহুল আমিন, জাফর আলমসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে ২০১৪ সালে মামলা দায়ের হয়। পরে তদন্ত শেষে সাবেক ডিসি রুহুল আমিন ও এডিসি জাফর আলমসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে ২০১৭ সালের ৩ এপ্রিল অভিযোগপত্র দেয় দুদক।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কঙবাজারের জেলা প্রশাসক ছিলেন রুহুল আমিন। ওই সময় মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য মহেশখালী উপজেলায় ১ হাজার ৪১৪ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। ওই প্রকল্পে তখন ২৫টি ভুয়া চিংড়িঘেরের তথ্য দিয়ে ৪৬ কোটি ২৪ লাখ ৩৩ হাজার ৩২০ টাকা ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয়। ২০টি চেকের মাধ্যমে ১৯ কোটি ৮২ লাখ ৮ হাজার ৩১৫ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ ও ৫টি চেকের মাধ্যমে ২৬ কোটি ৩১ লাখ ৯৫ হাজার ৫ টাকা আত্মসাতের চেষ্টা করেন আসামিরা। এ কারণে ৩৬ আসামিকে বিচারের মুখোমুখি করা হল।
অভিযোগ গঠন উপলক্ষে আসামিরা আদালতে উপস্থিত হন। শুনানিতে অংশ নিয়ে তাদের আইনজীবী আসামিদেরকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়ার আবেদন করেন। আদালতের বিচারক সেই আবেদন প্রত্যাখ্যান করে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন।
এদিকে অভিযোগ গঠনের সময় আসামি মোহাম্মদ আনিস, নুরুল আবছার, মোহাম্মদ ইলিয়াছ ও মোহাম্মদ রাজিবুল আলম পলাতক থাকায় বিচারক মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

x