এমপি নজরুল ৪ ও প্রথম স্ত্রী একদিনের রিমান্ডে

আত্মহত্যায় প্ররোচনা

আজাদী ডেস্ক | মঙ্গলবার , ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ at ৬:১৬ পূর্বাহ্ণ

দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় জামায়াতে ইসলামীর বিতর্কিত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে চার দিনের এবং তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে একদিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ। গতকাল সোমবার বিকালে শুনানি নিয়ে এ আদেশ দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রফিকুল ইসলাম এ আদেশ হওয়ার কথা জানিয়েছেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার এসআই মো. শামসুজ্জোহা সরকার তাদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। দুপুর ২টা ২২ মিনিটের দিকে একটি মাইক্রোবাসে করে শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ আসামিদের আদালতে নিয়ে আসে। তাদের ঢাকার সিএমএম আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। শুনানিকালে তাদের এজলাসে তোলা হয়। খবর বিডিনিউজের।

পাঁচ কারণ দেখিয়ে তাদের রিমান্ড আবেদন করা হয়, যার মধ্যে রয়েছে : . মরিয়ম গলায় ফাঁস দিয়ে মারা যাওয়ার সময় আসামিরা বাসায় ছিল। আত্মহত্যায় তাদের প্ররোচনা আছে কি না। ২. তারা ভুক্তভোগীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা, উস্কানি, মানসিক চাপ, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা অন্য কোনোভাবে আত্মহত্যায় ধাবিত করেছেন কি না। ৩. পলাতক আসামি ওবায়দুর রহমানের ভূমিকা সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ এবং তার অবস্থান শনাক্তসহ গ্রেপ্তার। ৪. অচেনা আসামি জড়িত আছে কি না তা শনাক্তসহ গ্রেপ্তার এবং ৫. মামলার মূল রহস্য উদঘাটন।

রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ড আবেদনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। আসামিদের পক্ষে আইনজীবী মাহবুবুর রহমান রিমান্ড আবেদন বাতিল করে জামিনের আর্জি জানান। উভয় পক্ষের শুনানি নিয়ে আদালত রিমান্ড মঞ্জুর করে।

রোববার সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের উল্টোদিকের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর রাতে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। রাতেই আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, তার স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ও নিহতের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ। এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে এদিন দুপুরে শেরেবাংলা নগর থানা থেকে দুই আসামিকে আদালতে নেওয়া হয়।

২০ জুলাই রাতে ঢাকার মগবাজারের একটি হোটেলে মরিয়মের সঙ্গে এমপি নজরুলের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এ বিষয়ে প্রথমে জামায়াতের নেতাকর্মীরা এটি এআই ব্যবহার করে তৈরি বলে দাবি করেন। পরে সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম ফেইসবুকে পোস্টে ওই তরুণীকে দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেন। সাংগঠনিক তদন্তে তার নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ার কথা জানিয়ে ২২ জুলাই গাজী নজরুলকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় জামায়াতে ইসলামী। বিরোধী দল এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে পরে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেয়।

সে নিজে নিজে আত্মহত্যা করেছে : এদিকে দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন গাজী নজরুল ইসলাম। গতকাল রিমান্ড শুনানি শেষে আদালতে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা। ঘটনার সময় আমি বাসায় ছিলাম না। সে নিজে নিজে আত্মহত্যা করেছে।

বিচারক এজলাস ত্যাগ করার পর উপস্থিত সাংবাদিকরা কাঠগড়ায় দাঁড়ানো নজরুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং বলেন, তিনি তখন বাসায় ছিলেন না। মরিয়ম কেন আত্মহত্যা করেছেন জানতে চাইলে নজরুল বলেন, এ বিষয়ে আমি জানি না।

এজলাসে তোলার সময় নজরুল ও মাকছুদার হাতে হাতকড়া, মাথায় হেলমেট ও বুকে বুলেট প্রুফ জ্যাকেট ছিল। কাঠগড়ায় নেওয়ার পর সেসব খুলে দেওয়া হয়।

মামলার এজাহারে নিহতের বাবা মাসুম বিল্লাহ অভিযোগ করেছেন, গত জুনে তার শ্যালক ওবায়দুর রহমানের প্রত্যক্ষ প্ররোচনায় সংসদ সদস্য গাজী নজরুলের সঙ্গে বাদীর বড় মেয়ে মরিয়মের (১৯) বিয়ে হয়। সংসদ ভবনের বিপরীত পাশে ৫ নম্বর ন্যাম ভবনের ২০৩ নম্বর বাসায় নজরুল ও মাকছুদার সঙ্গে থাকতেন মরিয়ম।

এজাহারে বলা হয়, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নজরুল ও মাকছুদা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন বলে মরিয়ম তার পরিবারকে বলে গেছেন। এর মধ্যে রোববার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে নজরুল মোবাইল ফোনে বাদীকে দ্রুত বাসায় যেতে বলেন। সেখানে গিয়ে মরিয়মকে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে থাকতে দেখেন বাবা মাসুম বিল্লাহ।

নজরুলের এমপি পদের বিষয়ে সংসদের চিঠির অপেক্ষায় ইসি : দুই মাস আগে সাতক্ষীরা৪ আসনের গাজী নজরুল ইসলামকে জামায়াতে ইসলাম বহিষ্কার করলেও তার সংসদ সদস্য পদ নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। দ্বিতীয় স্ত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় বিতর্কিত এ সংসদ সদস্য গ্রেপ্তার হওয়ার পর এ প্রসঙ্গ ফের সামনে এসেছে। ইসি বলছে, এ বিষয়ে স্পিকারের দিকে তাকিয়ে রয়েছে নির্বাচন কমিশন।

গতকাল নির্বাচন কমিশন ভবনে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইসি সচিব আখতার আহমেদ এ অবস্থানের কথা জানান। তিনি বলেন, এ বিষয়ে এখনো সংসদ থেকে কোনো চিঠি আসেনি। চিঠি আসলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধপটিয়ায় ট্রেনের ধাক্কায় পিকআপ দ্বিখণ্ডিত
পরবর্তী নিবন্ধচিরকুটে যা লিখে গেছেন মরিয়ম