এনসিটি পরিচালনা করবে আন্তর্জাতিক অপারেটর

সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে ১৫ বছরের খসড়া কনসেশন চুক্তির অনুমোদন

| শুক্রবার , ২ অক্টোবর, ২০২৬ at ৫:৩৭ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেনার টার্মিনাল (এনসিটি) এবং এর আওতাধীন ওভারফ্লো ইয়ার্ড (ওসিওয়াই) পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আন্তর্জাতিক টার্মিনাল অপারেটরের সঙ্গে ১৫ বছরের খসড়া কনসেশন চুক্তির অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি (সিসিইএ)। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সিসিইএর ৩১তম সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। খবর বাসসের।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দাখিল করা প্রস্তাব অনুযায়ী, সরকারি–বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) প্রকল্পের আওতায় ‘চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের নিউমুরিং কন্টেনার টার্মিনাল (এনসিটি) এবং ওভারফ্লো ইয়ার্ড (ওসিওয়াই)-এর পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ’ শীর্ষক প্রকল্পের অধীনে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (সিপিএ) এ চুক্তি সম্পাদন করবে।

বার্তা সংস্থা বিডিনিউজের খবরে বলা হয় : গতকাল বৃহস্পতিবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে এনসিটির দায়িত্ব আন্তর্জাতিক অপারেটরের হাতে তুলে দেওয়ার খসড়া চুক্তি অনুমোদনের কথা বলা হয়েছে। এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব কোন বিদেশি অপারেটরকে দেওয়া হয়েছে, সেটি বলা হয়নি বিজ্ঞপ্তিতে। তবে দুবাইভিত্তিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে এ টার্মিনাল ইজারা দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে শুরু থেকে। চট্টগ্রাম বন্দরের চালু থাকা চারটি কন্টেনার টার্মিনালের মধ্যে নিউমুরিং কন্টেনার টার্মিনাল সবচেয়ে বড়। গত বছর চট্টগ্রাম বন্দরে হ্যান্ডলিং হওয়া কন্টেনারের ৪৪ শতাংশ হয় এনসিটিতে।

২০২৪ সালের ৭ জুলাই থেকে এনসিটি পরিচালনা দায়িত্ব নেয় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি চট্টগ্রাম ড্রাইডক লিমিটেড (সিডিডিএল)। এরপর থেকে এনসিটিতে কন্টেনার হ্যান্ডলিং ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) এবং সরকারি পর্যায়ে (জিটুজি) কাঠামোর অধীনে এনসিটি পরিচালনার কাজ ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে সেসময় ওই উদ্যোগ পরিণতি পায়নি।

২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট গণঅভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এনসিটির দায়িত্ব বিদেশি অপরাটেরের হাতে দেওয়ার কার্যক্রম আবার শুরু করে। অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে এ বিষয়ে চুক্তির জোর আলোচনা শুরু হলে আন্দোলনে যায় বন্দরের শ্রমিক কর্মচারীরা। অন্তর্বর্তী সরকার গত ৮ ফেব্রুয়ারি এনসিটি বিদেশি অপারেটরকে ইজারা দেওয়ার কার্যক্রম স্থগিত করে। পরে বিএনপির নতুন সরকার গত ৪ জুন দুবাইভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে বন্দর কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেয়। সরকারের নির্দেশনার পর আলোচনা প্রক্রিয়ায় সহায়তা করার জন্য চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ১২ সদস্যের একটি সাপোর্ট টিমও গঠন করে। বন্দর চেয়ারম্যানও জুলাইয়ে জানিয়েছিলেন, এ বিষয়ে আলোচনায় দেশের স্বার্থে ‘কোনো ছাড় দেওয়া হবে না’।

প্রসঙ্গত, বিদেশি অপারেটরকে ইজারার প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে চট্টগ্রামে একাধিক সংগঠন মানববন্ধন ও সমাবেশসহ বিভিন্ন আন্দোলন কর্মসূচি পালন করে আসছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধএকাদশে ভর্তির দ্বিতীয় দফার ফল প্রকাশ
পরবর্তী নিবন্ধজামিনে এসে মামলা প্রত্যাহারের চাপ, বাদীর পরিবারের ওপর হামলার অভিযোগ