চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা প্রসঙ্গে বন্দর চেয়ারম্যানের গত বুধবার দেয়া বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে দুটি সংগঠন। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে পৃথক বিবৃতিতে এ নিয়ে প্রতিবাদ জানায় শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ–স্কপ, চট্টগ্রাম এবং বন্দর রক্ষা কমিটি, চট্টগ্রাম।
স্কপ নেতৃবৃন্দ এক বিবৃতিতে বলেন, বন্দর চেয়ারম্যান প্রকৃত বাস্তবতা আড়াল করে শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করছেন। কিন্তু এদেশের শ্রমিক, বন্দর–সংশ্লিষ্ট মানুষ এবং সচেতন জনগণ এ ধরনের বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্য কখনোই মেনে নেবে না। দেশের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি ও সিসিটির মতো লাভজনক টার্মিনাল দেশি–বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সেটিই আজ দেশের মানুষের উদ্বেগের প্রধান কারণ। জনগণের উদ্বেগ দূর করার পরিবর্তে বন্দর চেয়ারম্যান সেই উদ্যোগকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
নেতৃবৃন্দ বলেন, বন্দর চেয়ারম্যান দাবি করেছেন যে দেশের স্বার্থ রক্ষায় কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সরকার যদি সত্যিই জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিত, তাহলে এনসিটি ও সিসিটি দীর্ঘমেয়াদে বিদেশি অপারেটরের হাতে দেওয়ার আলোচনা চলত না। জাতীয় স্বার্থের সবচেয়ে বড় সুরক্ষা হলো চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালনা, নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা বাংলাদেশ বন্দর কর্তৃপক্ষের হাতেই রাখা এবং দেশীয় জনবল ও সক্ষমতার মাধ্যমে পরিচালনা অব্যাহত রাখা।
তারা বলেন, এনসিটি ইতোমধ্যে দেশীয় ব্যবস্থাপনায় ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং এটি বন্দরের অন্যতম লাভজনক টার্মিনাল। দক্ষ দেশীয় কর্মকর্তা–কর্মচারী ও শ্রমিকদের মাধ্যমে এই টার্মিনাল সফলভাবে পরিচালিত হওয়ার পরও বিদেশি অপারেটরের প্রয়োজনীয়তার যৌক্তিক ব্যাখ্যা আজ পর্যন্ত সরকার বা বন্দর কর্তৃপক্ষ দিতে পারেনি। বরং এ ধরনের উদ্যোগ জাতীয় অর্থনৈতিক স্বার্থ, কর্মসংস্থান, শ্রমিকদের অধিকার এবং ভবিষ্যতে বন্দরের ওপর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, জাতীয় সম্পদের বিষয়ে জনগণের উদ্বেগকে অমূলক বলে উড়িয়ে দেওয়ার পরিবর্তে সরকার ও বন্দর কর্তৃপক্ষের উচিত আলোচনার সব তথ্য, প্রস্তাবিত চুক্তির শর্তাবলি এবং সম্ভাব্য আর্থিক ও প্রশাসনিক প্রভাব জনসম্মুখে প্রকাশ করা। গোপনীয়তা বজায় রেখে জাতীয় সম্পদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। বিবৃতিতে বলা হয়, শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ শুরু থেকেই বলে আসছে, তারা উন্নয়নের বিরোধী নয়, কিন্তু জাতীয় স্বার্থ, রাষ্ট্রীয় মালিকানা এবং শ্রমিকদের অধিকার ক্ষুণ্ন করে কোনো উন্নয়ন বা বিনিয়োগ গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে কনসেশন বা ইজারার মাধ্যমে বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল পরিচালনার সুযোগ করে দিলে ভবিষ্যতে দেশের কৌশলগত নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে এনসিটি ও সিসিটি দেশি–বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা বা কনসেশন দেওয়ার সব ধরনের উদ্যোগ বন্ধ করার দাবি জানান। একই সঙ্গে জাতীয় স্বার্থবিরোধী যেকোনো সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে শ্রমিক, কর্মচারী ও দেশপ্রেমিক জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন আরও জোরদার করার ঘোষণা দেন।
যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের অন্যতম নেতা ও জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সভাপতি এ. এম. নাজিম উদ্দিন, টিইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি তপন দত্ত, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার, স্কপের যুগ্ম আহ্বায়ক এস. কে. খোদা তোতন, স্কপের যুগ্ম আহ্বায়ক ইফতেখার কামাল খান, ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি খোরশেদুল আলম, বিএফটিইউসি চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি কাজী আনোয়ারুল হুনি, বিএমএসএফ চট্টগ্রাম জেলার সাধারণ সম্পাদক নুরুল আবসার, বিএলএফ চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি নুরুল আবসার তৌহিদ, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের নেতা হেলাল উদ্দিন কবির,বিজেএসএফ এর সাধারন সম্পাদক জাহেদ উদ্দিন শাহিন প্রমুখ।
অপরদিকে বন্দর রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার ও সদস্য সচিব ফজলুল কবির মিন্টু সাক্ষরিত আরেক বিবৃতিতে এনসিটি ইজারা নিয়ে বন্দর চেয়ারম্যানের বক্তব্য ‘বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে’ দাবি করে অবিলম্বে ইজারা প্রক্রিয়া বাতিলের দাবি জানানো হয়।












