একজনের দখলে থাকা ইজারার জমির কিছু অংশ অন্যকে দেওয়ার অভিযোগ

বন্দরের এস্টেট বিভাগ

| বুধবার , ২০ মে, ২০২৬ at ১০:৩২ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম বন্দরের এস্টেট বিভাগের বিরুদ্ধে ভূমি ইজারা প্রদানে গোঁজামিল দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়, একজনের দখলে থাকা ইজারাকৃত জমির বেশ কিছু অংশ আরেকজনকে দেওয়া হয়েছে। নগরীর মাঝিরঘাট এলাকায় মেসার্স এসএস ট্রেডিং নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে অস্থায়ী পন্টুন ও জেটি নির্মাণের জন্য নদীর তীর থেকে নদীর দিকে ১৫০ রানিং ফুট জমির মধ্যে ১০০ রানিং ফুট জমি লিজ দেয়া হয়। এর মধ্যে ৬০ ফুটই ফেরদৌস ইউসুফ নামে অপর ইজারাদারকে আগেই ইজারা দেয়া জমি। গত ৭ মে ইজারা সংক্রান্ত চিঠি ইস্যুর পর ফেরদৌস ইউসুফ বিষয়টি জানতে পারেন এবং ঘটনা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বন্দর চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়েছেন।

ফেরদৌস ইউসুফ অভিযোগ করেছেন যে, বন্দরের এস্টেট বিভাগের কর্মকর্তাকর্মচারীদের একটি গ্রুপ প্রতিপক্ষ থেকে সুবিধা নিয়ে আমার ইজারা নেয়া এবং হালসন পর্যন্ত ইজারামূল্য পরিশোধ করা জমির একটি অংশ অপরজনকে ইজারা দিয়েছে। তাকে কোনো নোটিশও দেওয়া হয়নি, তার নামের লিজও বাতিল করা হয়নি বলে তিনি চিঠিতে উল্লেখ করেন।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সহকারী ব্যবস্থাপক রায়হান উদ্দিন ৭ মে এসএস ট্রেডিংয়ের অনুকূলে ১০০ রানিং ফুট নদীমুখের জমি ইজারার চিঠি ইস্যু করেন। নদীমুখের প্রতি ‘দেড় ফুট’ জমির ভাড়া বছরে ৫ হাজার ২০০ টাকা হিসাবে নির্ধারণ করা হয়।

বন্দর সূত্রে জানা যায়, মাঝিরঘাট এলাকায় কর্ণফুলী নদীর ডান তীরে নদী তীরবর্তী চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) ১২ হাজার বর্গফুট জমি ইজারা ছিল ফেরদৌস ইউসুফের নামে। ২০২২ সালের বন্দরের নিজস্ব প্রয়োজনের কথা বলে সেখান থেকে সাড়ে চার হাজার বর্গফুট জমি উচ্ছেদ করে নিজেদের আওতায় নেয়। ফেরদৌস ইউসুফের ঘাটের সঙ্গে লাগানো এই জমিসহ ১৪ হাজার ৯৪০ বর্গফুট জমি ৭ জানুয়ারি এসএস ট্রেডিংকেই ইজারা দিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। ছয় মাসের জন্য ইজারা দেওয়া হয়। অথচ এ জমির জন্য ফেরদৌস ইউসুফসহ আরও তিনজন আবেদনকারী ছিলেন।

ফেরদৌস ইউসুফ বলেন, যেহেতু আমার নামে লিজ ছিল এবং বন্দরের নিজস্ব প্রয়োজনের কথা বলে আমাকে উচ্ছেদ করা হয়েছে, সেখানে সেই জমি এসএস ট্রেডিং বা অন্য প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া অন্যায়। আমার লিজ করা জমির সামনের নদীমুখ এবং পাশের জমি অন্যজনকে দিয়ে দেওয়ার কারণে বার্জ বা বোট ভেড়ানো, গাড়ি চলাচলসহ নানা কাজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হবে। এতে আমি ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবো।

এ ব্যাপারে চবকের সহকারী ব্যবস্থাপক ভূমি২ রায়হান উদ্দিন বলেন, ফেরদৌস ইউসুফ এবং এসএস ট্রেডিং ব্যবসায়িক অংশীদার। তাদের সম্মতিতেই নদীমুখে ১০০ ফুট এসএস ট্রেডিংয়ের নামে লিজ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে একই এলাকায় এসএস ট্রেডিংকে ১৪ হাজার ৯৪০ বর্গফুট জমি লিজ দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি যৌক্তিক কারণ ছিল। সেটি হচ্ছে, তারা ওপেন টেন্ডারে পতেঙ্গা বন্দরের একটি জায়গা পেয়েছিল। কিন্তু সংগতকারণে সেটি একটি বিদেশি কোম্পানিকে দিতে হয়েছে। এর পরিবর্তে মাঝির ঘাটের জমি ৬ মাসের জন্য এসএস ট্রেডিংকে দেওয়া হয়েছে।

মো. ফেরদৌস ইউছুপ মিয়া বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানকে লেখা পত্রে সার্বিক বিবেচনা করে পশ্চিম দিকের অবশিষ্ট উক্ত খালি ৪৪০০ বর্গফুট জায়গা আমাদের নামে বরাদ্দ না দিলেও কলহ বা বিঘ্ন সৃষ্টি না করার লক্ষ্যে, অন্য কাউকে যেন অনুমোদন দেওয়া না হয় তার আবেদন করেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধপেকুয়ায় আনন্দ মিছিল ও শোকরানা মাহফিল
পরবর্তী নিবন্ধজাহাজে দুই বিদেশি নাবিকের মারামারি, ছুরিকাঘাতে ১ জনের মৃত্যু