নগরীর মুরাদপুরের ফরেস্ট গেইট এলাকায় মো. আজাদ খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার সঙ্গী ইছা প্রকাশ বাবু আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন। গতকাল চট্টগ্রামের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবুল মনছুরের আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তিনি এ জবানবন্দি দেন। জবানবন্দীতে মো. ইছা প্রকাশ বাবু জানিয়েছেন, ভিকটিম আজাদ ও হৃদয় নামের অপর একজনসহ তিনি ফরেস্ট গেইট এলাকার একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে ইয়াবা সেবন করছিলেন। সেসময় দুষ্টুমির ছলে হৃদয় তার নিজের কাছে থাকা পিস্তলে গুলি লোড–আনলোড করছিলেন। একপর্যায়ে পিস্তলটি থেকে একটি গুলি বের হয়ে আজাদের শরীরে লাগে। মুহুর্তেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। আজাদের গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনাটি একেবারে অনিচ্ছাকৃত ছিল বলেও জবানবন্দীতে উল্লেখ করেন ইছা প্রকাশ বাবু। পুলিশ ও আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্র আজাদীকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। নগর পুলিশের উপ–কমিশনার (প্রসিকিউশন) হাসান ইকবাল দৈনিক আজাদীকে বলেন, থানা পুলিশ ইছা প্রকাশ বাবুকে আদালতে হাজির করার পর সে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিতে রাজি হয়। একপর্যায়ে বিচারক জবানবন্দি রেকর্ড করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। গত বুধবার বিকালে নগরীর পাঁচলাইশ থানাধীন মুরাদপুরের ফরেস্ট গেইট এলাকায় একটি পরিত্যক্ত বাড়ির ভেতর মো. আজাদ গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন। সেখান থেকে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মো. ইছা প্রকাশ বাবু–ই আজাদকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে পুলিশ তাকে হেফাজতে নিয়ে যায় এবং জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। এর আগে কর্তব্যরত চিকিৎসক আজাদকে মৃত ঘোষণা করার পর চমেক পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ সদস্যদের কাছে ইছা প্রকাশ বাবু দাবি করেছিলেন যে, ফরেস্ট গেট এলাকায় রাস্তার পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পেছন থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তি আজাদকে গুলি করে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পাঁচলাইশ থানার উপ–পরিদর্শক (এসআই) সুফিয়ান কুতুবী দৈনিক আজাদীকে বলেন, আজাদ খুনের ঘটনায় তার বাবা বাদী হয়ে ইছা প্রকাশ বাবু ও হৃদয়কে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। এতে অজ্ঞানামা কয়েকজনকেও আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় হৃদয় এখনো পলাতক। তাকে গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান চলছে। মামলাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে জানিয়ে উপ–পরিদর্শক সুফিয়ান কুতুবী বলেন, ঘটনায় গ্রেপ্তার ইছা প্রকাশ বাবু আদালতে বিচারকের কাছে জবানবন্দী দিয়েছেন। ঘটনায় তার কী সম্পৃক্ততা রয়েছে– সে বিষয়েই মূলত তিনি বলেছেন। ভিকটিম আজাদ নগরীর পাঁচলাইশ থানাধীন হামজারবাগ এলাকার বাসিন্দা। পাঁচলাইশ থানাধীন একটি স্টিলের দোকানে কারিগর হিসেবে কর্মরত ছিলেন তিনি।









