আ. লীগ আমলে লাইসেন্স পাওয়া ১০ হাজার আগ্নেয়াস্ত্র জমা পড়েনি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ভুয়া মামলা প্রত্যাহারে সরকার কঠোর অবস্থানে সড়ক ও রেললাইনের আশপাশে পশুর হাট নয় পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ের পর বাংলাদেশে পুশইনের সম্ভাবনা নেই

| বৃহস্পতিবার , ৭ মে, ২০২৬ at ৮:২৮ পূর্বাহ্ণ

বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক বিবেচনায় ইস্যু করা প্রায় ১০ হাজার লাইসেন্সকৃত আগ্নেয়াস্ত্র এখনো জমা পড়েনি বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। গতকাল বুধবার দুপুরে রাজধানীর ওসমানী মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সেশন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

মন্ত্রী জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার এবং আসন্ন ঈদুল আযহার প্রস্তুতিসহ বিভিন্ন জাতীয় বিষয়ে ডিসিদের সামনে সরকারের অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে। রাজনৈতিক বিবেচনায় দেওয়া এসব আগ্নেয়াস্ত্র দ্রুত জমা ও উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনে মামলা দায়ের এবং অস্ত্র বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশনার কথাও সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন। খবর বিডিনিউজ ও বাংলানিউজের।

তিনি বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত নীতি বহির্ভূতভাবে দেওয়া অস্ত্রের লাইসেন্সগুলো জেলা পর্যায়ের কমিটির মাধ্যমে যাচাইবাছাই করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিগত সরকারের আমলে দায়ের করা রাজনৈতিক ও হয়রানিমূলক গায়েবি মামলাগুলো প্রত্যাহারের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ সুপারদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটি এসব আবেদন যাচাই করবে। তবে হত্যা, অস্ত্র ও মাদক পাচারের মত গুরুতর অপরাধের মামলা এই প্রক্রিয়ার বাইরে থাকবে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের পর দায়ের হওয়া মামলাগুলোতে নিরপরাধ ব্যক্তি বা সাংবাদিক যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে ডিসিদের সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়ার কথা বলেন মন্ত্রী। সেইসঙ্গে প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জড়ানো ব্যক্তিদের আইনি প্রক্রিয়ায় অব্যাহতি দেওয়ার কথাও তিনি বলেন।

আসন্ন ঈদুল আজহা নিরাপদ করতে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সড়কমহাসড়কের ওপর ও রেলপথের পাশে কোনো পশুর হাট বসতে দেওয়া হবে না। বড় হাটগুলোতে জালনোট শনাক্তকরণ মেশিন থাকবে এবং পুলিশ বডি ওর্ন ক্যামেরা নিয়ে টহল দেবে। তিনি জানান, ঈদের সাত দিন আগে পুলিশ সদর দপ্তরে কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল স্থাপন করা হবে। মহাসড়কগুলো সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হবে। তিনি আরও জানান, ফেরিঘাটগুলোতে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাইকিং ও সচেতনতামূলক সাইনবোর্ডের ব্যবস্থা করা হবে।

চামড়া শিল্প রক্ষায় সরকারের বিশেষ পরিকল্পনার বিষয়ে মন্ত্রী জানান, উপজেলা পর্যায়ে বিনামূল্যে পর্যাপ্ত লবণ সরবরাহ করা হবে যাতে তৃণমূল পর্যায়েই সাত দিন পর্যন্ত চামড়া সংরক্ষণ করা যায়। ঢাকার ইটিপি সিস্টেমের ধারণক্ষমতা বিবেচনায় চামড়াগুলো যাতে সাত দিন পর ক্রমান্বয়ে ঢাকার দিকে আনা হয়, সে বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে জেলাপ্রশাসকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পুশব্যাকের আশঙ্কার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জয়ের পর বাংলাদেশে পুশইনের কোনো সম্ভাবনা নেই। তারপরও আমরা বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-কে সীমান্তে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছি, যাতে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটলে তারা দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারে। মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আমি মনে করি এ ধরনের (পুশইন) কোনো ঘটনা ঘটবে না।

প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দপ্তর প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধমায়ের অগোচরে ছাদে চলে যায় শিশুটি, এরপর সব শেষ
পরবর্তী নিবন্ধস্কুল-কলেজের প্রধানদেরও বদলির সুযোগ, ফের নীতিমালা