কক্সবাজারে নাফ নদীর মোহনা থেকে তিন জেলেকে নৌকাসহ ধরে নিয়ে গেছে মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি। এ সময় নৌকা থেকে সাগরে ঝাঁপ দিয়ে এক ঘণ্টা সাঁতার কেটে ফিরে এসেছেন আরও দুই জেলে। গতকাল শনিবার দুপুরে নাফ নদীর নাইক্ষ্যংদিয়া এলাকা থেকে তাদের ধরে নিয়ে যাওয়া হয় বলে টেকনাফ টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী জানান। ধরে নিয়ে যাওয়া জেলেরা হলেন– টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপের জালিয়াপাড়া এলাকার লেডা মিয়ার ছেলে জসিম উদ্দিন (৩০), মমতাজ মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ ইসমাইল (২৭) এবং মোহাম্মদ আইয়ুবের ছেলে হারুন। সাঁতরে পালিয়ে আসা দুজন হলেন– জালিয়াপাড়া এলাকার নুর আলি ও মো. শরীফ। খবর বিডিনিউজের।
শাহপরীর দ্বীপ জালিয়াপাড়া নৌঘাট কমিটির সভাপতি আব্দুল গণি বলেন, সকালে পাঁচ জেলে নাফ নদীতে মাছ ধরতে যায়। মাছ ধরে আসার সময় মিয়ানমার সীমান্ত থেকে একটি স্পিডবোট তাদেরকে ধাওয়া করলে দুজনে সাগরে ঝাঁপ দিয়ে সাঁতার কেটে বাংলাদেশের ভূখণ্ড গোলারচরে আসে। বাকি তিন জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মি। এর আগেও ওই এলাকা থেকে ২০–২৫ জেলেকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আব্দুল গণি বলেন, নাফ নদী ও সাগরে মাছ শিকার এখন আমাদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সবসময় জেলেদের মাঝে আরাকান আর্মির আতঙ্ক কাজ করে। সুযোগ পেলেই তারা স্পিডবোটে এসে অস্ত্রের মুখে আমাদের ধরে নিয়ে যায়।
পালিয়ে আসা নুর আলি বলেন, আরাকান আর্মি মিয়ানমারে নিয়ে বেশি নির্যাতন করে। তাই জীবন বাজি রেখে সাগরে ঝাঁপ দিয়েছি। গোলারচরে আসার পর অন্য জেলেরা আমাদের উদ্ধার করে বাড়িতে পৌঁছে দেয়। আরেক জেলে মো. শরীফ বলেন, সাগর থেকে মাছ ধরে আসার সময় এক সঙ্গে ছয়–সাতটি নৌকাকে ধাওয়া করে আরাকান আর্মি। আমাদের নৌকাটি ছোট হওয়ায় স্পিডবোট নিয়ে ধাওয়া করে ধরে ফেলে।
সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান বলেন, জালিয়াপাড়ার তিন জেলেকে আরাকান আর্মি ধরে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি তিনি শুনেছেন। এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, তিন জেলেকে আরাকান আর্মি ধরে নিয়ে যাওয়ার খবরটি জানতে পেরেছি। বিষয়টি নিয়ে বিজিবির সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। জেলেদের ফেরত আনার বিষয়ে পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।












