আমাদের আজাদী পর্ব

ছাইফুল হুদা সিদ্দিকী | বুধবার , ১৪ অক্টোবর, ২০২৬ at ৮:২৭ পূর্বাহ্ণ

শিশুরা জন্মের পর থেকেই দেখা, শোনা ও অনুভবের মাধ্যমে শিখতে শুরু করে। বলা হয়ে থাকে, মা–ই তার প্রথম পাঠশালা। বিজ্ঞান বলে, প্রথম ১০০০ দিনেই শিশুর মস্তিষ্কের ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ বিকাশ ঘটে। এই কথাগুলো আজ বইয়ে পড়ি, কিন্তু আমার শেখার শুরুটা হয়েছিল জয়নগরের বাসায়, ষাটের দশকের শেষ আর সত্তরের দশকের শুরুর দিকে। আমার বাবা মরহুম বদরুল হুদা সিদ্দিকী ছিলেন পুস্তক প্রকাশক ও ব্যবসায়ী। তাঁর সকাল শুরু হতো দৈনিক আজাদী দিয়ে। তিনি পড়া শেষ করে বাসা থেকে বেরিয়ে যেতেন। আর তখনই শুরু হতো আমাদের বোনদের আজাদী–পর্ব। আমাদের সবার বড় বোন শ্রদ্ধাভাজন ফাতেমা খানম বেবী আপা সবার আগে পত্রিকাটা নিয়ে নিতেন। তাঁর সাথে থাকতেন আফছারী খানম সিদ্দিকা পুতলী আপা আর ছরওয়ারী খানম সিদ্দিকা বাবলী আপা। তিন বোন একসাথে বসে আজাদী পড়তেন। ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, আমার একটি লেখা দৈনিক আজাদীতে প্রকাশিত হয়েছে দেখে বড় আপা ফোন করে এই স্মৃতির কথা জানালেন। বড় আপা এখন আমাদের পরিবারের অভিভাবক। বাবার মৃত্যুর আগে বাবা সবকিছু বুঝিয়ে দিয়েছিলেন আমার বড় দুলাভাই খলিলুর রহমান খান–এর কাছে। আব্বার মৃত্যুর পর থেকে আজ অবধি তিনিই আমাদের পরিবারের সবকিছু দেখেশুনে রেখেছেন। হে মহান আল্লাহ, তাঁদের সুস্বাস্থ্য ও সফল সার্থক নেক হায়াত দান করুন। আপাদের বাড়ি চট্টগ্রাম শহরের রুমঘাটা। আপা এখনও নিয়মিত দৈনিক আজাদী পড়েন। মানে তিনি গত ছয় দশক ধরে দৈনিক আজাদীর পাঠক। আপা তিন সন্তানের ‘রত্নগর্ভা মা’। আপা ফোনে বলছিলেন আমার শৈশবের গল্প তখন আমি সবে বাংলা বর্ণমালা শিখছি। অ–এ অজগর, আ–এ আপেল, ক–এ কলা, খ–এ খই দু–চারটে অক্ষর বানান করতে পারি। সেই সময়েই আমি ‘আজাদী’ বানান শিখে ফেললাম। কারণ দৈনিক আজাদীর নামটা লেখা থাকতো অনেক বড় বড় ফন্টে। আমি মজা করে আপাদের কাছ থেকে পত্রিকাটা কেড়ে নিয়ে বানান করে পড়তাম আ–জা–দী। পড়া শেষ হলে আবার যত্ন করে জমা রাখতাম বাবলী আপার কাছে। আপা আরও বললেন, আমার এই কাণ্ড দেখে আমার মা মরহুমা মরিয়ম বেগম সিদ্দিকা হেসে বলতেন, ‘আজাদী পত্রিকাটা ছাইফুলের ধন–সম্পদ। ও পত্রিকাটি যত্ন করে আগলে রাখে।’

আমার সেই ষাটের দশকের আই.এ পাশ করা মা ছিলেন একজন অবৈতনিক শিক্ষক। মায়ের কোল থেকেই যে শেখা শুরু, বড় ফন্টের সেই ‘দৈনিক আজাদী’ই ছিল তার প্রথম আনন্দ–পাঠ।

পূর্ববর্তী নিবন্ধযত্রতত্র ফাস্ট ফুডের দোকান প্রসঙ্গে
পরবর্তী নিবন্ধযুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন: ট্রাম্পের নীতি ঠেকাতে সাধারণ ভোটাররা একজোট