অন্যদের বাঁচাতে গিয়ে নিজের জীবনটাই চলে গেল

সাজ্জাদের অসুস্থ বাবা এখন কী করবেন

সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি | রবিবার , ১৬ আগস্ট, ২০২৬ at ৬:৫২ পূর্বাহ্ণ

সীতাকুণ্ডের দক্ষিণ সোনাইছড়ি ইউনিয়নের ফুলতলা গ্রামের বাসিন্দা মো. হানিফের তিন মেয়ে, এক ছেলে। হানিফ দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। কোনো কাজ করতে পারেন না। তাঁর ছেলের নাম মতিউর রহমান সাজ্জাদ। বয়স ২০ বছর। বড় মেয়ে বুলবুলি আক্তার দৃষ্টি প্রতিবন্ধী। মেজ মেয়ে শারমিন আক্তারের বিয়ে হয়েছে কুমিরা এলাকায়। আর ছোটজন শান্তা আক্তার গামারিতলা মোস্তফা হাকিম প্রাইমারি স্কুলে ৫ম শ্রেণীতে পড়ে।

বাবার অসুস্থতা এবং বোন প্রতিবন্ধী হওয়া সংসারে অভাব অনটন লেগেই ছিল। তখন সংসারের হাল ধরেন মতিউর রহমান সাজ্জাদ।কিন্তু তা বেশিদিন স্থায়ী হলো না। তাসের ঘরের মতো ভেঙে গেল। ভেঙে গেল হানিফের স্বপ্নও। গত শুক্রবার সীতাকুণ্ড ভাটিয়ারীতে ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজে এলএনজি স্ক্র্যাপ জাহাজে বিষাক্ত গ্যাসে মারা যান সাজ্জাদ।

হানিফ জানান, আমার ছেলে ওই ইয়ার্ডে কাজ করত না। ওই ইয়ার্ডের মালিকের একটা অঙিজেন প্ল্যান্টে গত তিন বছর ধরে কাজ করছে। সেটি বার আউলিয়ার ফুলতলায় অবস্থিত। ঘটনার দিন সকাল ৯টার দিকে সাজ্জাদ ভাটিয়ারীর ওই ইয়ার্ডে অঙিজেনের বোতল নিয়ে গিয়েছিল। তারপর ওইখানে যখন ঘটনা ঘটে, তখন সাজ্জাদ ওদের বাঁচাতে ছুটে যায়। সেখানে গিয়ে তার নিজের জীবন চলে গেল। সকালে আমরা শুনতে পেলাম সাজ্জাদ জাহাজের শ্রমিকদের বাঁচাতে গিয়ে মারা গেছে। এ খবর শুনে মনে হচ্ছে পুরো পৃথিবী ঘুরছে। কোনোদিন ভাবিনি ছেলে এত তাড়াতাড়ি আমাদের সবাইকে ছেড়ে চলে যাবে। আমি অসুস্থ বাবা হয়ে কী করে এ ঘটনা সহ্য করি? এখনো মনে হচ্ছে ছেলে বেঁচে আছে। ঘরে এলেই সব সময় শুধু মাকে জিজ্ঞেস করত, বাবা কী খেয়েছে? ছেলে ঘর থেকে যাওয়ার সময় মেজ বোনকে বলেছে, কাজ থেকে ফিরে এসে ওকে শ্বশুরবাড়িতে দিয়ে আসবে। কিন্ত তার বোনকে শশুরবাড়ি দিয়ে আসা হলো না।

স্থানীয় মো. শাহাজান বলেন, প্রতিদিন সাজ্জাদের সাথে কথা হতো। আমাকে তার স্বপ্নের কথা বলত। একদিন তাদের অভাব দূর হবে। ছোটবোনকে ভালো করে পড়ালেখা করাবে, উচ্চ শিক্ষিত করবে। নিজের জীবন দিয়ে হলেও সংসারের খেয়াল রাখবে। তার কোনো খারাপ অভ্যাস ছিল না। ঘরের জন্যই ছিল যত ভাবনা।

পূর্ববর্তী নিবন্ধএক সাথে বেড়ে ওঠা, এক সাথেই চলে যাওয়া
পরবর্তী নিবন্ধফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিংয়ের কার্যক্রম স্থগিত